জিম্বাবুয়ের কাছে হারের পর ক্রিকেটারদের কী বার্তা দিয়েছিলেন তামিম

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশবিসিবি

আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটা মাঠে বসেই দেখেছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। লড়াই ছাড়াই হারটাও তাঁর কাছ থেকে দেখা। ম্যাচের পর বিসিবি সভাপতি ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেদিন কী কথা হয়েছিল তাঁর সঙ্গে?

এমন প্রশ্নের উত্তরে আজ আবুধাবিতে প্রধান কোচ ফিল সিমন্স সাংবাদিকদের বলেন, ‘বার্তা ছিল কঠোর পরিশ্রম করে যাওয়া এবং এটা মনে রাখা ও বোঝা যে আমরা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। কোটি কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছি, যারা সবাই আমাদের সাফল্যের দিকে তাকিয়ে আছে। আমার মনে হয়, এটাই ছিল তাঁর মূল বার্তা।’

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানে হারের পর ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল খেলা নিয়েই অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে বাংলাদেশ। আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আফগানিস্তান হারলে কাজটা সহজ হবে তাদের জন্য। আর আফগানিস্তান জিতে গেলে পড়তে হতে পারে কঠিন সমীকরণের সামনে। এ রকম অবস্থায় দলের মনোবল এখন কেমন?

বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ও মেহেদী হাসান মিরাজ। পুরোনো ছবি
প্রথম আলো

উত্তরে সিমন্স বলেন, ‘মনোবল এখনো চাঙা আছে। আজ সকালে আমাদের খুব ভালো একটা মিটিং হয়েছে এবং আমরা নিজেদের ভালো–মন্দ দিকগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছি; এখন আমরা জানি, আমাদের কী করতে হবে। ব্যাপারটা এমন নয় যে আমরা খারাপ খেলছি, বরং আমরা খুবই ভালো খেলছি।’

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারটাকে একটা খারাপ দিন বলেই মনে করেন সিমন্স, ‘একটা দিন এমন গেছে যখন কোনো কিছুই আমাদের পক্ষে আসেনি, তাই সেখান থেকে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়, তা আমাদের জানা আছে। সুতরাং আজ আমরা অনুশীলন করব এবং আগামী দু-এক দিনের মধ্যে নিজেদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করব যেন পরবর্তী ম্যাচের জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত থাকতে পারি।’

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বোলিং ও ব্যাটিং দুই বিভাগেই ভালো শুরু করেও তা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। বোলিংয়ে ২৪ রানে ৩ উইকেট তুলে নেওয়ার পর দেড় শ রানের জুটি গড়েন ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিন। পরে ২৭১ রান তাড়া করতে নেমে ১ উইকেট হারিয়ে ৬৬ রান তোলার পর ১৭২ রানেই অলআউট হয়ে যায় তাওহিদ হৃদয়ের দল।

সিমন্স মনে করেন, চাপ ধরে রাখতে না পারায় ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে দল, ‘আমরা সঠিক মুহূর্তে সঠিক চিন্তাভাবনার অভাব বোধ করেছি। পরিস্থিতি সঠিকভাবে অনুধাবনের ক্ষেত্রে খামতি ছিল—বিশেষ করে যখন আমরা ৩টি উইকেট পেলাম, তখন প্রতিপক্ষের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দ্রুত আরেকটি উইকেট তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত ছিল, যদিও ওরা সত্যি খুব ভালো ব্যাট করেছে।’

‘আবার আমরা যখন ব্যাটিংয়ে নামলাম, তখনো পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝার অভাব ছিল; ও রকম একটি দুর্দান্ত শুরুর পর আমাদের স্রেফ পুরো ৫০ ওভার খেলে যাওয়া নিশ্চিত করার দরকার ছিল, তাহলেই আমরা ম্যাচটা জিতে যেতাম। তাই এগুলো ছোটখাটো কিছু বিষয় ছিল, কিন্তু এসব মিলিয়েই দিন শেষে ম্যাচ হারতে হয়।’

বুধবার বাংলাদেশ–আফগানিস্তান ম্যাচ শুরু হবে বিকেল সাড়ে পাঁচটায়।

আরও পড়ুন