টুর্নামেন্ট–সেরার মনোনয়ন পেয়েছেন মোট ৯ জন। তাঁদের মধ্যে ফাইনালের দুই দল ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানেরই আছেন পাঁচজন। বাকি চারজনের দুজন সেমিফাইনালে খেলা ভারতের, সুপার টুয়েলভ পর্ব থেকে থেকে বাদ পড়া জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার একজন করে।

বিরাট কোহলি (ভারত)

ইংল্যান্ডের কাছে হেরে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে ভারত। তবে অ্যালেক্স হেলস আর বাটলারের অবিশ্বাস্য জুটির কাছে হারের আগে ভারতকে ভালো সংগ্রহ এনে দিয়েছিলেন কোহলি। খেলেছিলেন ৪০ বলে ৫০ রানের ইনিংস।

শুধু সেমিফাইনালই নয়, বিশ্বকাপে খেলা ৬ ম্যাচেই দারুণ ছন্দে ছিলেন সাবেক এই অধিনায়ক। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮২ রানের অপরাজিত ইনিংসে দারুণ এক জয় এনে দিয়েছিলেন ভারতকে। সব মিলিয়ে ৬ ম্যাচে ৯৮.৬৬ গড়ে তুলেছেন ২৯৬ রান, ব্যাটিং করেছেন ১৩৬.৪০ স্ট্রাইক রেটে।

সূর্যকুমার যাদব (ভারত)
ভারতের হয়ে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ‘ইমপ্যাক্টফুল’ ব্যাটিং করেছেন সূর্যকুমার যাদব। ৬ ম্যাচে রান তুলেছেন ২৩৯, স্ট্রাইক রেট ১৮৯.৬৮! ৩টি ফিফটি করেছেন নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।

সেমিফাইনালের আগেও তাঁকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে অনেক, যদিও ১০ বলে ১৪ রান করে আউট হয়েছেন ইংল্যান্ডের সঙ্গে। তবে মাঠের চারপাশে শট খেলার কারণে আলাদাভাবে নজর কেড়েছেন এই ব্যাটসম্যান। বিশ্বকাপ চলাবস্থায় আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে ব্যাটসম্যানদের শীর্ষেও উঠেছেন তিনি।

শাদাব খান (পাকিস্তান)

পাকিস্তানের ফাইনালে ওঠার পথে বড় ভূমিকা শাদাবের। ব্যাটিং, বোলিং—দুই ক্ষেত্রেই রেখেছেন উল্লেখযোগ্য অবদান।

বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচে ২২ বলে ৫২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। বল হাতেও নেন ২ উইকেট। সব মিলিয়ে ৬ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন ওভারপ্রতি ৬.৫৯ রান খরচ করে।

শাহিন শাহ আফ্রিদি (পাকিস্তান)

চোটের কারণে বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তানের চারটি সিরিজ মিস করেছিলেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। বিশ্বকাপে ফিরে ছন্দ পেতে একটু সময় লেগেছে। প্রথম ২ ম্যাচে কোনো উইকেট পাননি, দুটিতেই হেরেছিল পাকিস্তান।

তবে পরের ৪ ম্যাচেই ১০ উইকেট তুলে নিয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার। ওভারপ্রতি রান খরচও কম তাঁর, মাত্র ৬.১৭। ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও বাঁহাতি এই পেসারের দিকে তাকিয়ে থাকবে পাকিস্তান।

স্যাম কারেন (ইংল্যান্ড)

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রীতিমতো ডেথ বোলিং–বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছেন স্যাম কারেন। পাওয়ার প্লেতেও ছিলেন কার্যকর। যে ৫টি ম্যাচে বোলিং করেছেন, ১৩.৬০ রান গড়ে নিয়েছেন ১০ উইকেট। এর মধ্যে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ৫ উইকেটও আছে।

জস বাটলার (ইংল্যান্ড)

সামনে থেকেই ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন জস বাটলার। সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে খেলেছেন ৮০ রানের অপরাজিত ইনিংস। এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন ৭৩ রানের আরেকটি ইনিংস।

মোট ৫ ম্যাচ ব্যাটিং করে ২ ফিফটিসহ তুলেছেন ১৯৯ রান, স্ট্রাইক রেট ১৪৩.১৬। এ ছাড়া উইকেটের পেছনে ৮টি ডিসমিসালও আছে বাটলারের।

অ্যালেক্স হেলস (ইংল্যান্ড)

জনি বেয়ারস্টো চোটে পড়ায় বিশ্বকাপের আগে দলে ফিরেছেন। ফেরার পর খুব দ্রুতই যেন একাদশে নিজের অপরিহার্যতা প্রমাণ করে চলেছেন অ্যালেক্স হেলস। সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে খেলেছেন ৪৭ বলে ৮৬ রানের ইনিংস।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫২ আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪৭ রানের আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস আছে। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের ইংল্যান্ডের পক্ষে সবচেয়ে বেশি রান তাঁর—৫ ম্যাচে ২১১।

সিকান্দার রাজা (জিম্বাবুয়ে)

জিম্বাবুয়ের প্রথম রাউন্ড থেকে সুপার টুয়েলভে যাওয়া এবং একপর্যায়ে সেমিফাইনালের সম্ভাবনা তৈরি করার পেছনে ছিল সিকান্দার রাজার বড় অবদান। ৮ ম্যাচ খেলে ১টি ফিফটিসহ তুলেছেন ২১৯ রান।

বল হাতেও ছিলেন কার্যকর। বিশেষ করে পাকিস্তানের বিপক্ষে তাঁর ২৫ রানে ৩ উইকেটই জিম্বাবুয়ের জয়ের ভিত গড়ে দেয়। সব মিলিয়ে ৮ ম্যাচে উইকেট শিকার করেছেন ১০টি।

ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা (শ্রীলঙ্কা)

গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি (১৬) ছিলেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। শ্রীলঙ্কার লেগ স্পিনার এবারও ১৫ উইকেট নিয়ে এখন পর্যন্ত সবার ওপরে। ইনিংসের মাঝে দলকে উইকেট এনে দেওয়ার কাজটি প্রায় নিয়মিতই করেছেন। তাঁর ১৫ উইকেট এসেছে ১৩.২৬ রান গড়ে, ওভারপ্রতি ৬.৪১ রান খরচ করেছেন।