ক্রিকেটে একেক সময় একেক তারকা আসেন। সেই স্যার ডন ব্র্যাডম্যান থেকেই শুরু। এরপর কত কিংবদন্তি তারকা এসেছেন ক্রিকেটে। নিজেদের নৈপুণ্য, প্রতিভা আর পরিসংখ্যান দিয়ে একান্ত নিজের করে নিয়েছেন একেকটি যুগ। গ্যারি সোবার্স, সুনীল গাভাস্কার, ভিভ রিচার্ডস, ইমরান খান, ওয়াসিম আকরাম, শচীন টেন্ডুলকার, ব্রায়ান লারা, শেন ওয়ার্নরা একেককালের নায়ক হয়েছেন। হালের সময়টা বিরাট কোহলির। তিনি প্রায় সব রেকর্ড নিজের দিকে টানছেন। আন্তর্জাতিক শতক হাঁকিয়েছেন ৭৪টি। তাঁর ধারেকাছে আর কাউকেই দেখা যাচ্ছে না। নিঃসন্দেহে একালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান কোহলি। সব সংস্করণেই সেরার কাতারে রেখেছেন নিজেকে। কিন্তু খুররম মনজুর বলছেন অন্য কথা।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রায় একই সময়ে দুজনের অভিষেক। ২০০৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেখুপুরাতে ওয়ানডে অভিষেক খুররমের। টেস্টে অভিষেক অবশ্য পরের বছর—২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করাচিতে। কোহলির বিপক্ষেও খেলেছেন ৩৬ বছর বয়সী এ ওপেনার। ২০১৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে। সে ম্যাচে ১০ রান করে কোহলির সরাসরি থ্রোয়ে রানআউট হয়েছিলেন খুররম।

৩৬ বছর বয়সী সাবেক এই পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান অন্তত লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে কোহলির চেয়ে নিজেকে এগিয়ে রাখছেন। পাকিস্তানের একটি ইউটিউব চ্যানেলে খুররম বলেছেন, ‘কোহলির সঙ্গে আন্তর্জাতিক অর্জনে আমি হয়তো কিছুই না। কিন্তু কোনো ক্ষেত্রে দেখা যাবে, লিস্ট “এ” ক্রিকেটে কিছু অর্জন আমার কোহলির চেয়েও ভালো। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো রেকর্ড নিয়েও আমি পাকিস্তান দলে সুযোগ পাইনি, নির্বাচকদের অবহেলার কারণে।’

অর্ধশতককে শতরানে রূপান্তর করায় নিজের রেকর্ড প্রসঙ্গে খুররমের বক্তব্য, ‘আমি কিন্তু কোহলির সঙ্গে নিজেকে তুলনা করছি না। কিন্তু আসল কথাটা হচ্ছে, ৫০ ওভারের ক্রিকেটে যদি প্রথম ১০ জনের হিসাব করেন রেকর্ডের দিক দিয়ে আমাকে আনতেই হবে। লিস্ট “এ” ক্রিকেটে আমার অর্ধশতককে শতকে পরিণত করার রেকর্ড কোহলির চেয়ে অনেক ভালো। আমি প্রতি ছয় ইনিংস পরপর লিস্ট “এ”–তে একটি করে শতরান করেছি। যদি সর্বশেষ ১০ বছরের হিসাব করেন, তাহল লিস্ট “এ”–তে আমি বিশ্বের ছয় নম্বর ব্যাটসম্যান। সেটি রূপান্তরের ক্ষমতা ও গড় বিচার করেই। আমি নিজের সর্বশেষ ৪৮ ইনিংসে ২৪টি শতরান করেছি। আমি ভালো পারফরম করেও নির্বাচকদের উপেক্ষার শিকার হয়েছি বারবার। আমাকে তাঁরা কেন পাকিস্তান দলে সুযোগ দেননি, তার কোনো যুক্তি আমি কখনোই খুঁজে পাইনি।’