দুই–তিন দিনেই কেন শেষ হচ্ছে টেস্ট, আথারটনের চোখে তিন কারণ
অস্ট্রেলিয়া–বাংলাদেশ ম্যাকাই টেস্ট শেষ হয়েছে দুই দিনে। ইংল্যান্ড–পাকিস্তান হেডিংলি টেস্টও তা–ই।
দুই দিনে শেষ হওয়া এই দুটি টেস্টই গত দুই সপ্তাহের মধ্যে। আরেকটু পিছিয়ে যান, গত অ্যাশেজ সিরিজেই দুটি টেস্ট শেষ হয়ে গেছে দুই দিনে। এমন দুই দিন বা তিন দিনে টেস্ট শেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনা এখন নিয়মিতই ঘটছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ক্রমেই কমছে টেস্টের দৈর্ঘ্য। যেখানে ১৯৯০–এর দশকে পঞ্চম দিনে গড়াত প্রায় ৬৮.৬ শতাংশ ম্যাচ, ২০২০–এর দশকে তা নেমে এসেছে ৪১.৪৩ শতাংশে। অন্যদিকে তিন দিন বা তার কম সময়ে শেষ হওয়া ম্যাচের হার ১৯৯০–এর দশকের ৬.৯৮ শতাংশ থেকে এখন বেড়ে হয়েছে ২৩ শতাংশের বেশি।
দুই দিনে শেষ হওয়া টেস্টের প্রবণতা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে সাম্প্রতিক সময়ে। ১৯৪৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটে একটিও দুই দিনের ম্যাচ হয়নি। অথচ গত এক দশকেই এমন ঘটেছে ৯ বার। ইংল্যান্ড–পাকিস্তান লর্ডস টেস্টের তৃতীয় দিনে বৃষ্টির বিরতিতে স্কাই স্পোর্টসের আলোচনায় মাইকেল আথারটন তাই বলছিলেন, আগে প্রশ্নটি হওয়া উচিত, টেস্ট সত্যিই দ্রুত শেষ হচ্ছে কি না। পরিসংখ্যান কিন্তু ‘হ্যাঁ’ বলছে। কিন্তু কেন শেষ হচ্ছে, সেটিই বিতর্কের জায়গা। ইংল্যান্ডের এই সাবেক অধিনায়কের চোখে এর পেছনে বেশ কটি বড় কারণ আছে।
প্রথমটি অবশ্যই ব্যাটিংয়ের বদলে যাওয়া ধরন। টি–টুয়েন্টির উত্থান এবং সাদা বলের ক্রিকেটের প্রভাব টেস্ট ব্যাটিংয়েও পড়েছে। ব্যাটসম্যানরা এখন অনেক বেশি আক্রমণাত্মক এবং দ্রুত রান করার মানসিকতা নিয়ে খেলেন। রক্ষণাত্মক ব্যাটিংয়ের বদলে আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে ঝুঁকিও বাড়ছে। ফলে একদিকে রান দ্রুত উঠছে, অন্যদিকে উইকেটও দ্রুত পড়ছে।
টেস্ট ক্রিকেটের ব্যাটিংয়ে এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রতীক ইংল্যান্ডের ‘বাজবল’ যুগ। যদিও আথারটনের কথা শুধু ইংল্যান্ডকে নিয়ে নয়। আধুনিক ব্যাটসম্যানরা সাধারণভাবেই আগের প্রজন্মের চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক। রান রেট বাড়ছে, ম্যাচের গতি বাড়ছে—কিন্তু সেই গতির মূল্য অনেক সময় দিতে হচ্ছে উইকেট দিয়ে।
দ্বিতীয় কারণ প্রযুক্তি, বিশেষ করে ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম বা ডিআরএস। আগে যে এলবিডব্লুর আবেদনগুলোতে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই শেষ কথা ছিল, এখন তার অনেকগুলোর ফল বদলে যাচ্ছে প্রযুক্তির সহায়তায়। বল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে উইকেটে লাগত কি না, তা নির্ণয় করা যাচ্ছে অনেক বেশি নির্ভুলভাবে। ফলে আগের চেয়ে বেশি এলবিডব্লু আউট হচ্ছে এবং বোলারদের উইকেট নেওয়ার একটি বাড়তি পথ তৈরি হয়েছে।
তৃতীয় কারণ উইকেট। আথারটনের মতে, আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটে আগের তুলনায় বোলারদের সহায়ক উইকেট তৈরি করার প্রবণতা বেড়েছে। এর পেছনে আছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রভাবও। এখন প্রতিটি ম্যাচের ফলের মূল্য বেশি। ড্রয়ের তুলনায় জয় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে পাঁচ দিন ধরে ম্যাচ গড়িয়ে নিষ্প্রাণ ড্রয়ের দিকে যাওয়ার বদলে এমন উইকেট তৈরির প্রবণতা বাড়ছে, যেখানে ফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
এই পরিবর্তনের ছাপও দেখা যাচ্ছে ম্যাচের ফলাফলে। ১৯৭০–এর দশকে টেস্টের প্রায় ৭৮ শতাংশই পঞ্চম দিনে শেষ হতো। ২০০০–এর দশকে সেটি নেমে আসে ৫৮ শতাংশে। এখন, অর্থাৎ ২০২০–এর দশকে তা মাত্র ৪১.৪৩ শতাংশ। উল্টো দিকে চার দিনে শেষ হওয়া ম্যাচের হার বেড়ে হয়েছে ৩৫.৪৬ শতাংশ।