রশিদ খানকে নাগরিকত্ব দিতে চেয়েছিল ভারত ও অস্ট্রেলিয়া
তথ্যটা চমকে দেওয়ার মতো। আফগানিস্তানের তারকা ক্রিকেটার রশিদ খানকে দলে পেতে তাঁকে নাকি নাগরিকত্ব দিতে চেয়েছিল ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। দুটি প্রস্তাবই তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন। তা এত দিনে এই তথ্য জানা গেল কোত্থেকে? ২৭ বছর বয়সী লেগ স্পিনারকে নিয়ে লেখা বই ‘রশিদ খান: ফ্রম স্ট্রিটস টু স্টারডম’ থেকে। আজ প্রকাশিত হওয়া এ বইয়ের লেখক মোহাম্মদ জাফরকে এ কথা জানিয়েছেন রশিদ খান।
অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে কবে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট না করলেও ভারতের ঘটনাটি ২০২৩ সালের বলে জানিয়েছেন রশিদ। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা রশিদ ওই সময় আফগানিস্তানের টি-টুয়েন্টি দলের অধিনায়ক ছিলেন।
ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, বইয়ে রশিদ খান ২০২৩ আইপিএলের একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন, যেখানে ফ্র্যাঞ্চাইজির একজন কর্মকর্তা তাঁকে ভারতীয় ক্রিকেটের একজন ‘জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিত্বের’ সঙ্গে দেখা করিয়ে দিয়েছিলেন। রশিদ সেই ব্যক্তির নাম বলেননি, তবে তাঁর সঙ্গে কথোপকথন স্মরণ করে বলেন, ‘আমাকে তিনি বললেন, ‘‘তোমার দেশের (আফগানিস্তান) পরিস্থিতি খুব খারাপ। ভারতে এসে থাকো। আমরা তোমাকে ভারতের কাগজপত্র দিয়ে দেব, এখানেই থাকো এবং ক্রিকেট খেলো।”’
শুনে রশিদের প্রতিক্রিয়াটাও জেনে নিন, ‘তাঁর কথা শুনে আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম, কী উত্তর দেব বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু আমি হাসলাম এবং বললাম, ‘‘আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আমি আমার দেশ আফগানিস্তানের হয়েই খেলছি।”’
আফগানিস্তানের প্রতি তাঁর আনুগত্য বোঝাতে রশিদ খান আরও বলেছেন, ‘আমি অস্ট্রেলিয়া ও ভারত দুই দেশ থেকেই এ ধরনের (নাগরিকত্ব ও খেলার) প্রস্তাব পেয়েছিলাম। কিন্তু আমি তাদের বলেছিলাম, ‘‘যদি আমি আমার দেশের হয়ে না খেলি, তবে আমি অন্য কোনো দেশের হয়েও খেলব না।”’
আফগানিস্তানের হয়ে এখন পর্যন্ত ৬ টেস্ট, ১১৭ ওয়ানডে আর ১১৫ টি-টুয়েন্টি খেলা রশিদ ৯ বছর ধরে ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট আইপিএলে খেলছেন। ২০১৮ সালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদে খেলার সময় কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে একটি ম্যাচ জেতানোর পর ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নাগরিকত্ব দেওয়ার জোর দাবি উঠেছিল।
অনেকেই তখন এক্সে ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে ট্যাগ করেন। সেই সব পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় সুষমা স্বরাজ টুইট করেছিলেন, ‘আমি আপনাদের সব টুইট দেখেছি। তবে নাগরিকত্বের বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখে।’
তখন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি বলেছিলেন, রশিদ জাতীয় গৌরব। তাঁকে অন্য কোনো দেশকে দেওয়া হবে না।