পাকিস্তানের স্পিন–ফাঁসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাঁসফাঁস
পোর্ট অব স্পেনে কুইনস পার্ক ওভালে বাংলাদেশ সময় গতকাল রাতে টেস্টের তৃতীয় দিনে শেষ সেশনে ম্যাচের গতিপথ ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছিল।
দ্বিতীয় সেশন পর্যন্ত ব্যাট করে পাকিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় ৩৮৭ রানে। ৪৩ রানে পিছিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং তারপর ওলট-পালট হয়ে যায় সবকিছু।
শেষ সেশনে ৪০.৫ ওভার ব্যাট করে ১০৩ রান তুলতে ৬ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। লিড মাত্র ৬০ রানের। ক্রিজে আছেন জাস্টিন গ্রিভস (১*)। রোস্টন চেজ আউট হওয়ার সঙ্গে শেষ হয় তৃতীয় দিনের খেলা। ক্যারিবিয়ানদের জন্য দুশ্চিন্তার বিষয়, স্বীকৃত ব্যাটসম্যান আছেন আর একজন—ব্র্যান্ডন কিং।
প্রথম সেশনে বাবর আজমকে রানআউট করার সময় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়া কিংয়ের চতুর্থ দিনে ব্যাট করতে নামার নিশ্চয়তা নেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং কোচ রবি রামপাল এ নিয়ে দিনের খেলা শেষে জানিয়েছেন, ‘ঠিক নিশ্চিত নই। মেডিক্যাল স্টাফরা বিষয়টি দেখছেন।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য এখন পাকিস্তানের সামনে বড় লক্ষ্য ছুড়ে দেওয়া এমনিতেই খুব কঠিন। সেখানে কিংকে না পেলে বিপদ যে আরও বাড়বে, তাতে সন্দেহ নেই।
ক্যারিবিয়ানদের এমন কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলার পেছনে দায়ী পাকিস্তানের স্পিনাররা। তৃতীয় দিন শেষ সেশনে তাদের ৬টি উইকেট ভাগ করেন সাজিদ খান ও আলী উসমান। সাজিদ নেন ৪ উইকেট। ২ উইকেট উসমানের। সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন কাভেম হজ।
তার আগে প্রথম দুটি সেশনে ভালো করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২ উইকেটে ২৬৬ রান নিয়ে তৃতীয় দিনে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান মাত্র ১২১ রানে বাকি ৮ উইকেট হারায়।
তৃতীয় দিনে ২১ বলে ২ রান করে খোলসে ঢুকে পড়া বাবরের (৮৮) রানআউটের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের পতনের শুরু। এর মধ্যে তৃতীয় উইকেটে বাবর ও আবদুল্লাহ শফিকের ১৮৩ রানের জুটিও ভাঙে। পাকিস্তানের হয়ে টেস্টে এ নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চবার (৭) রানআউট হলেন বাবর। ৩২৩ বলে ১৬০ রান করা শফিক শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩৪৪ ও ১০৩/৬ (হজ ৩৪, ত্যাগনারায়ণ ১৭, চেজ ১৭, হোপ ১৫; সাজিদ ২/৩২, উসমান ২/২৯)।
পাকিস্তান: ৩৮৭ (শফিক ১৬০*, বাবর ৮৮, সাজিদ ৩০, রিজওয়ান ১৮ ; ওয়ারিকান ৬/১১২, শামার ২/৮৪, সিলস ১/৫৫)।
—তৃতীয় দিন শেষে।
সপ্তম উইকেটে শফিক-সাদিকের ৫৯ রানের জুটিতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিল পাকিস্তান। ৩০ রান করা সাজিদ জেইডেন সিলসের বলের আউট হওয়ার পর শুরু হয় স্পিনার জোমেল ওয়ারিকানের তাণ্ডব। ৪ বলের ব্যবধানে পাকিস্তানের শেষ ৩ উইকেট তুলে নিয়ে মোট ৬ উইকেট শিকার করেন ওয়ারিকান।