এক খেলার বিশ্বকাপে তাঁদের পোষায় না

প্রথম আলো গ্রাফিকস

যেকোনো খেলার শীর্ষ স্তরে যেতে পারাটাই অনেকের কাছে আজন্মলালিত স্বপ্নের মতো। সেই স্বপ্ন যদি সত্যি হয় দুটি ভিন্ন খেলায়? কিংবা ধরুন, যদি আরও এক ধাপ এগিয়ে বলা হয়—একই ব্যক্তি খেলেছেন দুটি আলাদা খেলার বিশ্বকাপে! শুনে অবিশ্বাস্য মনে হলেও ক্রীড়াবিশ্বে এমন ‘অতিমানব’ কিন্তু আছেন।

তাঁদের মধ্যে একজন আবার আরও এককাঠি সরেস। তিনি দুটি আলাদা দেশের হয়ে দুটি আলাদা খেলার বিশ্বকাপে খেলেছেন। চলুন, ঘুরে আসি তাঁদের দুনিয়া থেকে—

এলিস পেরি

অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়াজগতের আইকন এলিস পেরি। স্রেফ অ্যাথলেট বললে তাঁকে কম বলা হয়, তিনি যেন এক বিরল প্রতিভা। পেরি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ক্রিকেট ও ফুটবল—দুটি ভিন্ন খেলার বিশ্বকাপেই মাঠ কাঁপিয়েছেন। ক্রিকেটে তাঁর সাফল্য তো ঈর্ষণীয়, পকেটে পুরেছেন আট-আটটি বিশ্বকাপ (দুটি ওয়ানডে ও ছয়টি টি-টোয়েন্টি)।

অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার এলিস পেরি
এএফপি

আইসিসির দশকসেরা (২০১০–২০১৯) এই নারী ক্রিকেটারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল মাত্র ১৬ বছর বয়সে। মজার ব্যাপার হলো, একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট ও ফুটবল দলে তাঁর অভিষেক হয়। ২০১৪ সাল থেকে থিতু হয়েছেন ক্রিকেটে। তবে তার আগে ২০১১ সালে জার্মানি ফুটবল বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণ সামলেছেন তিনি। ডিফেন্ডার হলেও সুইডেনের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে দারুণ এক গোলও করেছিলেন। ৩৫ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার প্রথম অস্ট্রেলীয় হিসেবে আইসিসি ও ফিফা—দুই বিশ্বকাপেই খেলার কীর্তি গড়েন।

ওয়েন ম্যাডসেন

জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে। ক্রিকেটের রক্তটা পারিবারিক। তাঁর তিন আঙ্কেল ও দুই কাজিন দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছেন। ওয়েন ম্যাডসেনও ক্রিকেটে নেমে ২০০৪ সালে পা রাখেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে। সেটা দক্ষিণ আফ্রিকায়। এর দুই বছর পর ফিল্ড হকিতে জন্মভূমির হয়ে কমনওয়েলথ গেমস ও বিশ্বকাপেও খেলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ছেলেদের ফিল্ড হকি দলের হয়ে ৩৯ ম্যাচ খেলেন ২০১৫ সালে ইংল্যান্ডের বেলপার হকি ক্লাবের পরিচালক হওয়া ৪২ বছর বয়সী ম্যাডসেন। বয়সটা দেখে নিশ্চয়ই ভাবছেন, ক্রিকেটের পাট এত দিনে নিশ্চয়ই চুকিয়ে ফেলেছেন?

ভুল। আজ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ইতালির সঙ্গে ম্যাডসেনেরও অভিষেক হলো। শুধু অভিষেক কী, অধিনায়ক তো তিনিই! ডার্বিশায়ারের হয়ে ইংলিশ কাউন্টিতে দীর্ঘদিন খেলা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও পরিচিত মুখ। গ্লোবাল সুপার লিগে রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেলেছেন পাঁচ ম্যাচ। নানির জন্মসূত্রে ইতালির হয়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন ম্যাডসেন। দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম এই আলোচনা হয়েছিল ২০০৭ সালে। হকি ছেড়ে ম্যাডসেন তখন সবে শুধু ক্রিকেটে মনোযোগী হয়েছেন।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আজ ম্যাচে চোট পান ম্যাডসেন
এএফপি

২০১২ সালে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ইতালির জার্সি পরার কথা ছিল, কিন্তু সেবার ডার্বিশায়ারের অধিনায়কত্বের দায়িত্বে চাপে আর পারেননি। শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালে ইতালির হয়ে টি–টুয়েন্টিতে অভিষেক ম্যাডসেনের। তার আগে একবার গুঞ্জন উঠেছিল ম্যাডসেন ইংল্যান্ড জাতীয় দলেও ডাক পেতে পারেন। সেটি আর হয়নি। শেষ পর্যন্ত ইতালির হয়ে ক্রিকেটের বিশ্বকাপে ম্যাডসেনের অভিষেকও কিন্তু সুখের হয়নি। শুধু স্কটল্যান্ডের কাছে হারের জন্য নয়, ফিল্ডিংয়ের সময় তাঁর কাঁধের হাড় স্থানচ্যুত হয়েছে। বিশ্বকাপে আর খেলতে পারবেন কি না, শঙ্কা আছে তা নিয়েও।

আরও পড়ুন

রুডি ফন ভুরেন

সাবেক ক্রিকেটার ও রাগবি খেলোয়াড়ের বাইরেও ৫৩ বছর বয়সী ভুরেনের আরও দুটি পরিচয় আছে—চিকিৎসক ও পরিবেশবাদী। উইন্ডহকে জন্ম নেওয়া ভুরেন ১৯৯৯ ও ২০০৩ রাগবি বিশ্বকাপে নামিবিয়ার হয়ে। একই বছর (২০০৩) খেলেন ওয়ানডে বিশ্বকাপও। শুধু খেলা কী, বিশ্বকাপের পাঁচ ম্যাচেই দলের হয়ে বোলিংয়ে ওপেন করেন সাবেক এ পেসার। ভুরেনের একটি রেকর্ড কেউ কখনো ভাঙতে পারবেন না। কারণ, কেউ কোনো কীর্তি প্রথমবারের মতো গড়লে তা যে অমর—যেকোনো দেশের হয়ে রাগবি ও ক্রিকেটের বিশ্বকাপ খেলা প্রথম ক্রীড়াবিদ ভুরেন।

রুডি ফন ভুরেন
ক্রিকেট নামিবিয়া ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল

বর্তমানে ক্রিকেট নামিবিয়ার প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকা ভুরেন নামিবিয়ায় চিকিৎসক হিসেবে এইডসের মতো বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েও সুনাম কামিয়েছেন। ২০০২ সালে ক্রিকেট ও রাগবি বিশ্বকাপের মধ্যে আট মাসে উইন্ডহকে নিজের ক্লিনিকে ৭০ জন শিশুর জন্মদানে সহায়তাও করেন ভুরেন।

আরও পড়ুন