বেতন কমল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের বেতন কমছেএএফপি

বেশির ভাগ সময় ক্রিকেটারদের বেতন বাড়ার খবরই আসে। যত দিন যাচ্ছে, ক্রিকেটে বাণিজ্যিকীকরণ বাড়ছে, ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকও বাড়ছে। বিশেষ করে ক্রিকেট খেলুড়ে শীর্ষ দেশগুলোয়। এই তো কদিন আগেই বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের বেতন ও ম্যাচ ফি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

তবে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ (সিডব্লুআই) হাঁটছে উল্টো পথে। ক্রিকেটারদের বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের রিটেইনার ফি (কেন্দ্রীয় চুক্তির বার্ষিক মূল বেতন) ২৫ শতাংশ কমানো হবে। কয়েক বছর ধরে অর্থনৈতিকভাবে বেশ সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে তারা। ওই চ্যালেঞ্জ সামলে নেওয়ার অংশ হিসেবেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সঙ্গে আগের মতো ১২ মাসের চুক্তিই থাকবে। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটারদের সঙ্গে এখন থেকে ৭ মাসের চুক্তি করবে সিডব্লুআই। তাদের দেওয়া কেন্দ্রীয় চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে ক্যারিবীয় ক্রিকেটাররা টি-টুয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে স্বাধীনভাবে ক্যারিয়ার গড়ার দিকে ঝুঁকছেন অনেক দিন ধরে। এখন বেতন কমানোর সিদ্ধান্তের কারণে তা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিডব্লুআইয়ের প্রধান নির্বাহী ক্রিস ডেহরিং আজ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে যেসব খেলোয়াড়ের বোঝাপড়া আছে, তাঁদের সহযোগিতার মানসিকতাকে আমরা স্বাগত জানাই। এটি আদর্শ কোনো পদক্ষেপ নয়, তবে আর্থিক স্থিতিশীলতার পথে এগোতে এটা করা প্রয়োজন।’

ক্যারিবীয় অঞ্চলের ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলোর কাঠামোতেও পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ বছর ছেলেদের সুপার৫০ ও মেয়েদের টি-টুয়েন্টি ব্লেজ টুর্নামেন্ট স্থগিত করা হয়েছে। এর প্রধান কারণ হিসেবেও পরিচালন ব্যয়ের কথা উল্লেখ করেছে সিডব্লুআই, ‘ঐতিহাসিকভাবে আমাদের ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলো যেভাবে পরিচালিত হয়ে এসেছে, যেখানে বয়সভিত্তিক, উন্নয়নমূলক কিংবা সিনিয়র—পুরুষ ও নারী, সব ধরনের জাতীয় দল ও টুর্নামেন্টের পুরো খরচ ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ বহন করে। এর মধ্যে বেতন, ম্যাচ ফি, বিমানভাড়া, হোটেল ও আয়োজনের খরচও রয়েছে। এই ব্যবস্থা আর টেকসই নয়।’

বন্ধ হচ্ছে নারীদের টি–টুয়েন্টি টুর্নামেন্ট
আইসিসি

প্রতিবছর ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য ভ্রমণ ও আবাসনের পেছনে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা কমিয়ে আনতে চায় সিডব্লুআই। ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান নির্বাহী জানিয়েছেন, গত ১৫ বছরে শুধু বিমানভাড়া বাবদই ৮ কোটি মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে তাঁদের। কিন্তু ওই অনুযায়ী তাঁরা পৃষ্ঠপোষকতা পাননি।

ডেহরিং জানিয়েছেন, সিডব্লুআইয়ের আর্থিক চাপের একটি অংশ এসেছে আইসিসির কাছ থেকে নেওয়া ঋণের শর্ত থেকেও। চলতি বছরের জুলাইয়ে আইসিসি ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য মোট ১ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে।

দীর্ঘদিনের নগদ অর্থপ্রবাহের সংকট সাময়িকভাবে মোকাবিলা করতে এই ঋণ দেওয়া হচ্ছে। আগামী এক বছরে তিন ধাপে এই অর্থ পাওয়া যাবে। এই ঋণের ক্ষেত্রে বোর্ডের নির্দিষ্ট কিছু ব্যয় কমানোর শর্ত রয়েছে।

৫০ ওভারের টুর্নামেন্ট সুপার৫০ টুর্নামেন্ট স্থগিত হওয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছেলেদের ওয়ানডে দল গড়ার ক্ষেত্রে এখন আরও বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি তারা। আগামী বছরের বিশ্বকাপের জন্যও তাদের ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চ বাছাইপর্ব খেলতে হবে। এর আগে বোর্ড এমন সিদ্ধান্ত নিল।

আরও পড়ুন