ক্রিকেট যেমন হয়, অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবল আর রাগবিরও ঠিকানা এসব মাঠ। এমসিজির কথাই ধরুন। ১৮৫৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর এই মাঠে ক্রিকেট–ইতিহাসের প্রথম টেস্ট আর ওয়ানডে ম্যাচ যেমন হয়েছে, ১৯৫৬ সালের অলিম্পিক আর ২০০৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসেরও ভেন্যু ছিল মেলবোর্ন সিটি সেন্টার থেকে হাঁটা দূরত্বে ইয়ারা নদীর তীরের এই স্টেডিয়াম।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল উপলক্ষে অবশ্য এমসিজি আপাতত পুরোই ক্রিকেটের। ফাইনালের আগের দিন বলে আজ সকাল থেকেই স্টেডিয়ামে দেখা গেল নানা রকম ব্যস্ততা। ব্যস্ততা না বলে অবশ্য উৎসব উৎসব ভাব বলাই ভালো। মাঠ পর্যন্ত যেতে না পারলেও স্টেডিয়াম চত্বরে ঢুকতে দর্শনার্থীদের বাধা নেই। ফাইনাল দেখতে অনেকে মেলবোর্নের বাইরে থেকেও এসেছেন। লিলি-ওয়ার্নদের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেই শখ মেটেনি তাঁদের, ঘুরে দেখেছেন পুরো স্টেডিয়াম।

দর্শনার্থীদের জন্য ফাইনালের আগের দিন বাড়তি আকর্ষণ ছিল ফ্যান জোন, যেখানে দুই ফাইনালিস্ট পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা হাজির হয়েছেন ভক্ত-সমর্থকদের সামনে, কথা বলেছেন, ছবি তোলার সুযোগ দিয়েছেন।

তিন নম্বর গেটের সামনের সবুজ চত্বরে সংবাদমাধ্যমের আকর্ষণ ছিল পাকিস্তানি সমর্থকেরা। ফাইনাল নিয়ে তাঁরা জানিয়েছেন বাবর আজমের দলের কাছে তাঁদের প্রত্যাশার কথা। অনুমিতভাবেই সবার আশা, কাল ইংল্যান্ডকে হারিয়ে পাকিস্তানই হবে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন।

এমন উৎসবের আমেজের মধ্যেই কয়েক সেকেন্ডের জন্য দেখা হয়ে গিয়েছিল ফাইনালের দুই অধিনায়ক বাবর আজম ও জস বাটলারের। এমসিজির অলিম্পিক স্ট্যান্ডে তখন চলছিল পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজমের সংবাদ সম্মেলন। ইংল্যান্ড অধিনায়ক বাটলারের সংবাদ সম্মেলন হবে এরপর। কিন্তু বাবরের সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার আগেই সেখানে হাজির বাটলার।

ফাইনালের আগের আনুষ্ঠানিকতা, বেশ কিছু বলে স্বাক্ষর করছিলেন তিনি। সেটি শেষ করে যখন সংবাদ সম্মেলনের টেবিলের দিকে যাচ্ছেন, বাবর বের হয়ে আসছিলেন সেখান থেকে। কাছাকাছি আসতেই হেসে হাত মেলালেন দুজন, শুভেচ্ছা জানালেন একে অন্যকে।

ফাইনাল যেহেতু খেলছেন, দুজনের দৃষ্টিই স্বাভাবিকভাবে শিরোপায়। ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে পাকিস্তানের বড় শক্তি শাহীন শাহ আফ্রিদি-নাসিম শাহদের নিয়ে গড়া পেস আক্রমণ। সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন হলো, বাটলার-হেলসরা ভারতের বিপক্ষে যেভাবে খেলেছেন, পাকিস্তানের পেস আক্রমণের বিপক্ষে নিশ্চয়ই সেটা অত সহজ হবে না। বাবরও কি তা–ই মনে করেন?

পাকিস্তান অধিনায়কও এ ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী, তবে উড়িয়ে দেননি ইংলিশদের সামর্থ্যকেও, ‘ইংল্যান্ড প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল। ভারতকে হারিয়ে তাদের ফাইনালে আসা সেটাই প্রমাণ করে। আমরা আমাদের পরিকল্পনায় ঠিক থাকব এবং ফাইনাল জিততে আমাদের শক্তি পেস আক্রমণকে কাজে লাগাব।’

পরে বাটলারও বলেছেন, পাকিস্তানের পেসারদের সামলানোটাই মূল চ্যালেঞ্জ হবে তাঁর ব্যাটসম্যানদের, ‘দারুণ সব ফাস্ট বোলার তৈরি করার ইতিহাস আছে তাদের। এ দলও ব্যতিক্রম নয়। পাকিস্তানের ফাইনালে আসার পেছনে তাদের বড় ভূমিকা আছে। ওদের কাছে আমরা কঠিন চ্যালেঞ্জই আশা করছি।’

ফাইনালটা শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের পেস আক্রমণের সঙ্গে ইংল্যান্ডের লম্বা ব্যাটিং লাইনআপের লড়াই হয়ে ওঠে কি না দেখা যাক। তবে এই দুই দলের ফাইনালকে ঘিরে কাল ছুটির দিনে এমসিজি যে উৎসবের মঞ্চ হয়ে উঠবে, সেটি বলে দেওয়া যাচ্ছে এখনই।