আগ্রহ না থাকাটাই স্বাভাবিক অবশ্য। তাঁদের অপেক্ষা মূলত ছিল বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচটা কখন শেষ হবে, তার জন্য। এসসিজিতে এরপরই শুরু হয়েছে ভারত-নেদারল্যান্ডস ম্যাচ। সেই ম্যাচকে সামনে রেখেই প্রেসবক্সের মতো গ্যালারিতেও চলছিল অপেক্ষা।

দিনের প্রথম ম্যাচে অবশ্য এসসিজির গ্যালারির বেশির ভাগটা লাল-সবুজেই আচ্ছাদিত হয়ে থাকল। দক্ষিণ আফ্রিকার খুব বেশি দর্শক ছিল না, ভারতীয় সমর্থকেরাও সবাই এসে তখনো পৌঁছাননি। বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান আগের দিন যে রকম আশা করেছিলেন, গ্যালারিতে ঠিক তত বেশি বাংলাদেশি দর্শক অবশ্য ছিল না। তা–ও যাঁরা ছিলেন, অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী সেই বাংলাদেশিদের ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ চিৎকার আর হাততালি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাড়তি টনিক হওয়ার কথা খেলোয়াড়দের জন্য। কিন্তু হলো কি?

বাংলাদেশের বোলিং পর্বে তো হাইলাইটস বলতে পুরোটাই রুশোর ৫৬ বলে ১০৯ রানের মারকাটারি ইনিংস। হোবার্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগের ম্যাচে বৃষ্টির কারণে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি। কিন্তু এ মাসের শুরুতেই খেলা তার আগের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ইন্দোরে খেলেছেন অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস। সেই অর্থে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পরপর দুই ইনিংসেই সেঞ্চরি পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

ইনিংসের প্রথম ওভারের শেষ বলে ওপেনার টেম্বা বাভুমাকে ফেরান তাসকিন আহেমদ। সেটাই বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য ডেকে আনল কি না, কে জানে! এরপরই দ্বিতীয় উইকেটে কুইন্টন ডি কক আর রুশোর ১৬৩ রানের জুটি। মোস্তাফিজুর রহমান (৪ ওভারে ২৫) ও হাসান মাহমুদকে (৪ ওভারে ৩৬) বাদ দিলে ঝড় বয়ে গেছে সব বোলারের ওপর দিয়েই।

১৫তম ওভারে আফিফ হোসেনের বলে ডি কক ফিরে যাওয়ার পর অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের ঝোড়ো গতি কিছুটা কমে আসে। নিজের পরপর ২ ওভারে সাকিব ফেরান ট্রিস্টান স্টাবস ও রুশোকে। তা–ও ২০ ওভারে ২০৫-এ গিয়ে ঠেকে রানটা, বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২০৬ রান। কিন্তু ২০৬ দূরের কথা, ১০১ রানে মুখ থুবড়ে পড়ে বাংলাদেশ ম্যাচ হেরেছে ১০৪ রানের ব্যবধানে, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেই যেটি রানের ব্যবধানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হার।

অবশ্য বাংলাদেশের যে একটা লক্ষ্য ছিল, সেটার উপস্থিতি বোঝা গেছে শুধু স্কোরবোর্ডেই। ব্যাটসম্যানদের অপরিকল্পিত ও এলোমেলো ব্যাটিং দেখে কখনোই মনে হয়নি বাংলাদেশ রানটা তাড়া করে জিততে চায়। ওহ্‌, ইনিংসের প্রথম ওভারটা কিন্তু ছিল একটু অন্য রকমই।

দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার কাগিসো রাবাদাকে দ্বিতীয় বলেই মিড অন দিয়ে বাউন্ডারি মেরে দেন ওপেনার নাজমুল হোসেন। ওভারের শেষ ২ বলে দারুণ দুই ফ্লিকে মিড উইকেট দিয়ে সৌম্য সরকারের ছক্কা। প্রথম ওভার থেকেই আসে ১৭ রান। ওয়েইন পারনেলের পরের ওভারে আসে ১০ রান। ২ ওভারে ২৭—আশাজাগানিয়া শুরুই বলতে হবে। এসসিজির গ্যালারিতেও তখন লাল-সবুজ উল্লাস।

স্বপ্নভঙ্গের শুরু তৃতীয় ওভার থেকে, যখন রাবাদার জায়গায় বল হাতে নিলেন আনরিখ নর্কিয়া। প্রথম বলেই সৌম্য কট বিহাইন্ড। এরপর আর একবারও বাংলাদেশের মাথা তুলে দাঁড়ানো হয়নি। একটার পর একটা উইকেট পতন আর হারের দিকে এগিয়ে যাওয়া। দক্ষিণ আফ্রিকার ২০০ রান তাড়া করার কোনো পরিকল্পনাই যেন ছিল না বাংলাদেশের।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তো সাকিব বলেই দিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকা ২০০ করে ফেলতে পারে, এ রকম ধারণাও তাঁদের ছিল না ম্যাচের আগে। সেটাকে পরিকল্পনাহীনতার আরেকটি ছাপই বলতে হয়। এ মাঠে আগের ম্যাচেও প্রথমে ব্যাট করা নিউজিল্যান্ড ২০০ রান করে অস্ট্রেলিয়াকে ৮৯ রানে হারিয়েছে। আবার বৃষ্টিবিঘ্নিত জিম্বাবুয়ে ম্যাচে না জিতলেও ডি ককরা তাঁদের ব্যাটিং–সামর্থ্য ঠিকই দেখিয়েছেন। দুটি মেলালে বাংলাদেশের বিপক্ষে আগে ব্যাট করা দক্ষিণ আফ্রিকার বড় কিছু করার সম্ভাবনা ভালোভাবেই ছিল। অথচ এই ভাবনা নাকি ছিলই না দলের মধ্যে!

৩ ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে নর্কিয়া পরে ফিরিয়েছেন নাজমুল আর সাকিবকেও। সাকিব অবশ্য এলবিডব্লু থেকে বেঁচে যেতে পারতেন রিভিউ নিলে। কিন্তু নেব নেব করেও শেষ পর্যন্ত নিলেন না। যেদিন ভুল হয়, ভুল থেকে যায় আসলে সবকিছুতেই।