টি-টুয়েন্টিতে ১৫ হাজারি ক্লাবে প্রথম বাটলার
রোহিত শর্মা পেছনে পড়েছিলেন সাউদাম্পটনে। কার্ডিফে কাইরন পোলার্ডে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচেই টপকে যাওয়ার খেলায় মেতেছেন জস বাটলার।
খেলাটা রানের। সাউদাম্পটনে রোহিতকে পেছনে ফেলে আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রানে দুইয়ে উঠে আসেন বাটলার। কার্ডিফে কাল রাতে বাটলারের পেছনে পড়লেন পোলার্ড। সেটা স্বীকৃত সব ধরনের টি-টুয়েন্টি মিলিয়ে সর্বোচ্চ রানের পরিসংখ্যানে। ব্যবধান মাত্র ১ রানের!
শ্রীলঙ্কার ১৪৫ রানের ভদ্রস্থ সংগ্রহ তাড়া করতে নেমেছিলেন বাটলার। তখন তিনি ২৯ রানে অপরাজিত। পঞ্চম ওভারে ঈশান মালিঙ্গার প্রথম বলটি পয়েন্টে ঠেলে বাটলার একটি রান নিতেই ভেঙে পড়ে রেকর্ড। টি-টুয়েন্টিতে পোলার্ডকে পেছনে ফেলে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি আবারও নিজের করে নেন বাটলার। এই সংস্করণে ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তির রান ১৪৯৯৯, বাটলারের তখন কাঁটায় কাঁটায় ১৫০০০।
কিন্তু বেরসিক বাটলার এরপরই আউট হন ব্যক্তিগত ৩০ রানে। তাতে জয় তুলে নিতে ইংল্যান্ডের কোনো সমস্যাই হয়নি। টম ব্যান্টনের ২৪ বলে অপরাজিত ৫২ রানের ইনিংসে ৪৭ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের জয় পায় ইংল্যান্ড। এই সিরিজে বাটলার যেমন দুই ম্যাচেই খুব সহজে পেছনে ফেলছেন রেকর্ডধারীদের, ইংল্যান্ডও তেমনি জয় পাচ্ছে হেসেখেলে। প্রথম টি-টুয়েন্টিতে যেমন জিতেছে ১১৯ রানে। ম্যানচেস্টারে আগামীকাল সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ খেলতে নামে ২-০ ব্যবধানে আগেই সিরিজ জিতে নেওয়া হ্যারি ব্রুকের দল।
টি-টুয়েন্টিতে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বাটলারের ১৫ হাজার রানের ‘পর্বত’ ইংল্যান্ড অধিনায়ক ব্রুকের চোখে সাধারণ কিছু নয়। জয়ের পর ব্রুক কী বলেছেন শুনুন, ‘অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান, ধারাটা দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকুক। ১৫ বছর ধরে তিনি অবিশ্বাস্য পারফর্ম করে যাচ্ছেন। মাঠে এবং সব সময় পাশে পাওয়ার মতো একজন মানুষ। ড্রেসিংরুমে তাঁকে এখনো পাওয়াটা দারুণ ব্যাপার।’
৩৬ বছর বয়সী বাটলার এখন তাঁর ‘রানপর্বত’কে কোন উচ্চতায় নিয়ে যান, সেটাই দেখার বিষয়। ৪৯৭ ইনিংসে ১৫০০০ রান করলেন বাটলার। পোলার্ড তাঁর চেয়ে ১ রান কম করেছেন ৬৭১ ইনিংস খেলে। ৫৩১ ইনিংসে ১৪৫৮১ রান নিয়ে তিনে বাটলারের একসময়ের জাতীয় দল সতীর্থ হেলস। রানে শীর্ষ পাঁচে থাকা ক্রিকেটারদের মধ্যে স্ট্রাইক রেটে শুধু পোলার্ডই (১৫০.৯২) বাটলারের (১৪৭.৪৬) চেয়ে এগিয়ে। ৪৫৫ ইনিংসে ১৪৫৬২ রান নিয়ে চারে গেইল।
টি-টুয়েন্টিতে বাটলারের অভিষেক ২০০৯ সালের অক্টোবরে। দুই বছর পর ২০১১ সালে ওপেন করা শুরু করেন। এ সংস্করণে ১ থেকে ৯ নম্বর পজিশন পর্যন্ত ব্যাট করলেও ওপেনার বাটলারই বেশি সফল। অর্ধেকের বেশি (৮১৪২) রান করেছেন ওপেনার হিসেবে ২২৭ ইনিংসে। গড় ৩৯.৭১।
বাটলারের রেকর্ড গড়ার আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শ্রীলঙ্কা তেমন সুবিধা করতে পারেনি। পাতুম নিশাঙ্কার ব্যাট থেকে এসেছে সর্বোচ্চ ৩৭। ৩২ রানে ৩ উইকেট নেন ইংলিশ স্পিনার লিয়াম ডসন।