বিশ্বকাপ খেলতে ‘মিরাকলের’ আশায় বিসিবি সভাপতি
থমথমে বিসিবি কার্যালয়ের আবহ, তার চেয়েও থমথমে আমিনুল ইসলামের চেহারা। সামনেই বসা ছিলেন ক্রিকেট পরিচালনা প্রধান নাজমূল আবেদীন ও বোর্ড পরিচালক আবদুর রাজ্জাক। আরেক পরিচালক ইফতেখার রহমানও তখন বিসিবি সভাপতির রুমে। কিন্তু কেউই যেন ঠিক কথা বলার মেজাজে নেই।
তার মধ্যেও এক মিনিট সময় চেয়ে রুমে ঢোকার অনুমতি মিলল আমিনুলের কাছ থেকে। উদ্দেশ্য আইসিসির সভায় বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্তে বিসিবি সভাপতির প্রতিক্রিয়া জানা। এমন পরিস্থিতিতে সংক্ষিপ্ত আলোচনা থেকে যা বোঝা গেল, আইসিসির সিদ্ধান্তের পরও আমিনুল আছেন ‘মিরাকলের’ আশায়। আগামী ২৪ ঘণ্টায় যদি অলৌকিক কিছু ঘটে যায়, তাহলেই কেবল বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা।
আইসিসি তার একটু আগেই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে যা জানানোর জানিয়ে দিয়েছে। যার সারমর্ম, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের ম্যাচ ভারতে রেখেই হবে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। বাংলাদেশ ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে যে প্রশ্ন তুলে ম্যাচ অন্য দেশে নেওয়ার দাবি তুলেছিল, সেটির কোনো ভিত্তি পায়নি আইসিসি। বোর্ড সভার ভোটাভুটিতেও ভেন্যু না বদলানোর পক্ষে বেশির ভাগ মত পড়েছে। আইসিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ না থাকলেও জানা গেছে, সভায় বিসিবি সভাপতি আমিনুলকে সরকারের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য এক দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
প্রথম আলোকে আমিনুল জানিয়েছেন, ‘এটাই ঠিক।’ অর্থাৎ হাতে এক দিন সময় আছে। এই সময়ের মধ্যে সরকারের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবে বিসিবি। কিন্তু সময় দিলেই কী! বাংলাদেশ তো আগেই একাধিকবার জানিয়েছে, নিরাপত্তাশঙ্কার কারণে ভারতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবে না। নতুন করে এক দিন সময়ে কি সিদ্ধান্ত বদলাবে?
সরকারের একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, সে রকম সম্ভাবনা নেই। ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসবে না। সরকারকে মত বদলাতে বিসিবি কোনো অনুরোধ করবে কি না, জানতে চাইলে আমিনুলও বললেন একই কথা, ‘আসলে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর থেকে আমার নিজেরই মনে হচ্ছে ভারতে খেলা আমাদের জন্য নিরাপদ নয়। সেটাই আজ আইসিসির মিটিংয়ে আবার বলেছি। আমরা আমাদের উদ্বেগের জায়গাগুলো জানিয়েছি।’
আরেক প্রশ্নে যদিও আমিনুল বলেছেন, আরেকবার সরকারের সঙ্গে কথা বলে দেখবেন। তবে পরে যোগ করেছেন, ‘সরকারকে আমরা কোনো চাপ দিতে চাই না। সরকার তো চায় আমরা খেলি। কিন্তু ভারতে খেলা এ মুহূর্তে আমাদের জন্য নিরাপদ নয়। আমরা শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই। এই অবস্থানে আমরা এখনো অটল আছি।’
ভেন্যু বদলের প্রশ্নে আইসিসিতে ভোটাভুটিতে হেরে যাওয়ার পরও এ কথা বলার একটাই অর্থ—আইসিসির সভায় নিজেদের বাইরে মাত্র এক ভোট পাওয়া বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলছে না। আধা ঘণ্টার মতো হওয়া ভার্চ্যুয়াল সভার ভোটাভুটিতে পাকিস্তান ছাড়া অন্য সব বোর্ড ভেন্যু বদলানোর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এমনকি শ্রীলঙ্কা নাকি তাদের গ্রুপেও নিতে চায়নি বাংলাদেশকে। বিস্ময়কর হলেও সত্যি, খড়কুটোর মতো তারপরও আশা আঁকড়ে ধরে থাকতে চাইছেন বিসিবি সভাপতি, ‘দেখি, যদি মিরাকল কিছু ঘটে...।’
এ কথার পর আমিনুলের কাছে পাল্টা প্রশ্ন ছিল—অলৌকিক কিছুর আশা কোন দিক থেকে করছেন, সরকার নাকি আইসিসি? আমিনুলের উত্তর, ‘আইসিসি, তারাও তো মত বদলাতে পারে...।’
সরকারের সিদ্ধান্তের পক্ষে আবারও নিজের সমর্থন জানিয়ে আমিনুল বলেন, ‘সরকার অবশ্যই সব দিক চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেয়। রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তার বিষয়টি তারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। আমরা জেনেছি, সেখানে (ভারতে) পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি।’
আমিনুল জানান, ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নে কানাডার একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিয়েছিল আইসিসি। তারা আইসিসিকে জানিয়েছে, ভারতে বাংলাদেশের খেলতে বড় কোনো নিরাপত্তাঝুঁকি নেই। এ পরিস্থিতিতে আইনি কোনো পদক্ষেপ নেবেন কি না, জানতে চাইলে বিসিবি সভাপতির উত্তর, ‘ভোটাভুটি হওয়ার পর সে সুযোগ আছে কি না, আমি নিশ্চিত নই।’
