টি–টোয়েন্টির পোলার্ড—কোথাও কোচ, কোথাও খেলোয়াড়

এক কাইরন পোলার্ডের কত পরিচয়ইনস্টাগ্রাম

এক কাইরন পোলার্ডের কত পরিচয়!

কখনো তিনি বোলার, কখনো ব্যাটসম্যান, কখনো ফিল্ডার। অলরাউন্ডার নামে পরিচিত একজন ক্রিকেটারের বেলায় তো এটাই হওয়ার কথা। কিন্তু পোলার্ডের বেলায় এটা বলার একটা কারণ আছে। কারণ, একজন ফিল্ডার হিসেবে পোলার্ড যা পারেন, তাতে শুধু ফিল্ডার হিসেবেও হয়তো তাঁকে দলে নেওয়া যায়! ফিল্ডার হিসেবে পোলার্ড কী পারেন, তার নমুনা গত পরশুর পাকিস্তান সুপার লিগে লাহোর বনাম করাচির ম্যাচ দেখলেই বুঝবেন।

মজার ব্যাপার হলো, পোলার্ডের পরিচয় এখানেই শেষ নয়। তিনি একজন কোচও। সেটাও যেনতেন কোনো দলের নয়। আইপিএলে মুম্বাইয়ের ব্যাটিং কোচ তিনি। আসছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সহকারী কোচের দায়িত্বেও থাকবেন এই অলরাউন্ডার। অর্থাৎ একই পোলার্ড একই সঙ্গে কোচ, আবার খেলোয়াড় হিসেবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন মাঠও।

আরও পড়ুন

২০১০ থেকে ২০২১—এই সময়ে পোলার্ড আইপিএলে মুম্বাইয়ের হয়ে খেলেছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজটির হয়ে প্রথম ১৫০ ম্যাচ খেলার কীর্তিও তাঁর। এরপর পোলার্ড আইপিএল থেকে অবসর নেন। ২০২২ সালে হন মুম্বাইয়ের ব্যাটিং কোচ। আইপিএল থেকে অবসর, ক্রিকেট থেকে নয়! এখনকার ক্রিকেটারদের সুবিধাটাই এই, চাইলে আলাদা করে কোনো লিগ থেকেও অবসর নেওয়া যায়। অবশ্য সে জন্য পোলার্ডের মতো চাহিদা থাকতে হবে। ২০২২ আইপিএল মৌসুম থেকে পোলার্ড মুম্বাইয়ের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পালন করছেন।

পোলার্ড কোথাও কোচ, কোথাও খেলোয়াড়
ইনস্টাগ্রাম

এরপর গত ডিসেম্বরে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ইংল্যান্ডের সহকারী কোচ হিসেবে পোলার্ডের নাম ঘোষণা করে ইংল্যান্ড। আগামী বছরের জুন-জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এই আসরে স্থানীয় কন্ডিশন সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার জন্য পোলার্ডকে নিয়োগ দেওয়ার কথা নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।

মুম্বাই ও ইংল্যান্ডের কোচ খেলে বেড়াচ্ছেন অন্য লিগগুলো। এসএ টি-টোয়েন্টি, ইন্টারন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি থেকে পিএসএল সব জায়গায় খেলছেন। বর্তমানে পোলার্ড খেলছেন পিএসএলে। কোচ পোলার্ড ব্যাট হাতে পারফর্মও করছেন।

সবচেয়ে বেশি ৬৫৪টি স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি খেলেছেন পোলার্ড
ইনস্টাগ্রাম

পরশু লাহোরের বিপক্ষে ১৭৭ রানের লক্ষ্যে করাচি যখন ৪৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে, তখন ক্রিজে এসে খেলেন ৩৩ বলে ৫৮ রানের ইনিংস, হন ম্যাচসেরা। এর আগে লং অফে দাঁড়িয়ে নিশ্চিত ছক্কা বাঁচিয়ে সেটাকে ক্যাচে পরিণত করেন পোলার্ড। শুধু এই ম্যাচে নয়, এর আগের দুই ম্যাচেও রান পেয়েছেন। টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম ম্যাচে মুলতান সুলতানের বিপক্ষে অপরাজিত ২৮ রানের ইনিংস খেলার পর পেশোয়ার জালমির বিপক্ষে খেলেছেন অপরাজিত ৪৯ রানের ইনিংস, সেটাও ২১ বলে।

সবচেয়ে বেশি ৬৫৪টি স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি খেলা এই ক্রিকেটার কবে খেলোয়াড়ি জীবনকে পাকাপাকিভাবে বিদায় জানাবেন, কে জানে! এখন তাঁর বয়স ৩৬ বছর ২৮৯ দিন। টি-টোয়েন্টি খেলার জন্য জন্য খুব বেশিও কিন্তু নয়। দক্ষিণ আফ্রিকার ইমরান তাহির তো ৪৪ বছর বয়সেও খেলে যাচ্ছেন। তাই খেলোয়াড় পোলার্ডের সমাপ্তি বোধ হয় এখনই টানা ঠিক হবে না। কোচ ও ক্রিকেটার—দুই ভূমিকাতেই একসঙ্গে পোলার্ডকে আরও কিছুদিন হয়তো পাবে ক্রিকেট-বিশ্ব।

আরও পড়ুন