রাঁচিতে ইংলিশ স্পিনে কাবু ভারত

রাঁচি টেস্টে দ্বিতীয় দিনে ৪ উইকেট নেন ইংল্যান্ডের স্পিনার শোয়েব বশির। জয়সোয়ালকে আউট করে অধিনায়ক বেন স্টোকসকে জড়িয়ে ধরেন বশিরএএফপি
সংক্ষিপ্ত স্কোর: ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ১০৪.৫ ওভারে ৩৫৩ (রুট ১২২*, রবিনসন ৫৮, ফোকস ৪৭,ক্রলি ৪২, বেয়ারস্টো ৩৮; জাদেজা ৪/৬৭, আকাশ ৩/৮৩, সিরাজ ২/৭৮, অশ্বিন ১/৮৩) ভারত ১ম ইনিংস: ৭৩ ওভারে ২১৯/৭ (জয়সোয়াল ৭৩, গিল ৩৮, জুরেল ৩০*, রজত ১৭, সরফরাজ ১৪, কুলদীপ ১৭*, জাদেজা ১২; বশির ৪/৮৪, হার্টলি ২/৪৭, অ্যান্ডারসন ১/৩৬)।—দ্বিতীয় দিন শেষে।

জেএসসিএ স্টেডিয়ামে ৭ উইকেটে ৩০২ রান নিয়ে প্রথম দিনের খেলা শেষ করেছিল ইংল্যান্ড। আজ টেস্টের দ্বিতীয় দিনে সকালের সেশনে মাত্র ১৪.৫ ওভার টিকেছে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস। জো রুট ১২২ রানে এক প্রান্ত আগলে রাখলেও ৩৫৩ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। এরপর ভারত নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ উইকেটে ২১৯ রানে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে। ক্রিজে অপরাজিত ধ্রুব জুরেল (৩০*) ও কুলদীপ যাদব (১৭*)। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস থেকে এখনো ১৩৪ রানে পিছিয়ে ভারত।

আরও পড়ুন

মধ্যাহ্নভোজনে যাওয়ার আগে ১০ ওভার ব্যাট করেছে ভারত (৩৪/১)। এ সময় শুধু রোহিত শর্মাকে তুলে নিতে পেরেছে ইংল্যান্ড। অফ স্টাম্পের বাইরে ভালো চ্যানেল ধরে বোলিংয়ের পুরস্কার হিসেবে রোহিতের উইকেটটি তুলে নেন জেমস অ্যান্ডারসন। ডিফেন্সিভ পুশ করতে গিয়ে উইকেটকিপার বেন ফোকসকে ক্যাচ দেন ভারত অধিনায়ক। দলের সংগ্রহ তখন মাত্র ৪ রান। এরপরই ভারত দ্বিতীয় দিনে সবচেয়ে বড় জুটিটি পেয়েছে দুই তরুণ ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে। তৃতীয় উইকেটে ১৩১ বলে ৮২ রানের জুটি গড়েন শুবমান গিল ও যশস্বী জয়সোয়াল।

রাঁচির এই উইকেট আজ দ্বিতীয় দিনেই বেশ ফেটেছে। ইংল্যান্ডের স্পিনাররাও বাঁক পেয়েছেন দ্বিতীয় সেশন থেকে। এই সেশনে ইংল্যান্ড যে ৩টি উইকেট পেয়েছে, তার সব কটিই ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা অফ স্পিনার শোয়েব বশিরের। ৩৮ রান করা গিলকে তুলে নিয়েছেন এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলে (২৪.১ ওভার)। ঠিক ১০ ওভার পরই (৩৪.৩ ওভার) আবারও আঘাত হানেন বশির। এবার তাঁর শিকার রজত পাতিদার এবং আউট সেই এলবিডব্লুই!

ভারতের ভরসা হয়ে ক্রিজে ছিলেন জয়সোয়াল
এএফপি

অফ স্পিনার হয়ে দুজন ডানহাতি ব্যাটসম্যানকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেছেন—এখান থেকে বুঝে নেওয়া যায়, বয়স কম হলেও মাথা খাঁটিয়ে জায়গামতো বল করতে জানেন বশির। আর সেই সুবাদে নিজের তৃতীয় উইকেটটি পেয়েছেন এক ওভার পরই। উচ্চতাকে ব্যবহার করে ভালো লেংথে টপ স্পিন মেরেছিলেন বশির। রবীন্দ্র জাদেজা বলটি রক্ষণাত্মকভাবে খেললেও সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ওলি পোপের হাতে জমা পড়ে বল। ক্যাচ আউট!

আরও পড়ুন

দ্বিতীয় সেশনে ৯৭ রান তোলার বিপরীতে ৩ উইকেট হারিয়েছে ভারত। উইকেট সহায়তা করায় এই সেশনে বশিরকে এক প্রান্ত থেকে টানা বোলিং করিয়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকস। এ সেশনে তাঁর বোলিং বিশ্লেষণ ১৪-২-৩১-৩। প্রথম সেশনে ১ ওভার বল করে ১ রান দিয়েছিলেন। চা–বিরতিতে যাওয়ার আগে ভারতের স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ১৩১। ক্রিজে অপরাজিত আগের টেস্টেই অভিষিক্ত দুই তরুণ জয়সোয়াল ও সরফরাজ। বিশাখাপট্টনম ও রাজকোটে টানা দুই ম্যাচে ‘ডাবল সেঞ্চুরি’ পাওয়া জয়সোয়াল ভারতের এই ইনিংসেও বহুদূর এগোনোর চাবিকাঠি হয়ে ছিলেন।

উইকেটে দ্বিতীয় দিনেই বাঁক ধরছে বলে, অর্থাৎ টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে অপেক্ষা করছে ‘মাইনফিল্ড’—তাই যতটা বেশি রান করে নেওয়ার প্রথম ইনিংসেই করতে হবে ভারতকে। সে জন্য ৭৩ রানে অপরাজিত থাকা জয়সোয়ালে তাকিয়ে ছিল স্বাগতিকেরা। কিন্তু চা–বিরতির পর শেষ সেশনে জয়সোয়ালকে বোল্ড করে ইংল্যান্ডের ‘মাথাব্যথা’র উৎপাটন করেন বশির। তাতে অবশ্য রাঁচির উইকেটের অদ্ভুত আচরণের ‘অবদান’ও আছে। এই সেশনে স্পিনারদের বল যতটা বাঁক পেয়েছে, তার চেয়ে বেশি ভয়ংকরভাবে কয়েকটি ডেলিভারি নিচে নেমেছে। বল ওঠেনি। বশিরের এমন এক বলেই আউট হয়েছেন জয়সোয়াল। ১৪ রান করা সরফরাজ এবং রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে তুলে নেন ইংল্যান্ডের আরেক স্পিনার টম হার্টলি।

ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান রুট ও ওলি রবিনসন আজও জমাট শুরু করেছিলেন। তাঁদের জুটি ১০২ রানে পৌঁছানোর পর জাদেজার শিকার হন ৫৮ রান করা রবিনসন। অলআউট হওয়ার আগে সকালের সেশনে ৫১ রান যোগ করতে পেরেছে ইংল্যান্ড। শেষ ৩টি উইকেট তারা হারিয়েছে ৬ রানে, ১৭ বলের ব্যবধানে!

আরও পড়ুন