টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার টুয়েলভে কাল অ্যাডিলেড ওভালে বাংলাদেশ সময় বেলা দুইটায় ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। বৃষ্টির কারণে আজ অনুশীলন করতে পারেননি সাকিব–লিটনরা। সংবাদ সম্মেলনে ওপরের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় সাকিব দুই হাত বাঁ দিকে দেখিয়ে বুঝিয়ে দেন, বাইরে তো বৃষ্টি নামছে। আবহাওয়া তো দেখলাম, কিন্তু উইকেট দেখব কীভাবে! এটুকু আসলে সাকিবের হাতের ইশারা দেখে কল্পনা করে নেওয়া রসিকতা।

এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময়ও মুখে হাসি লেগে থাকল বাংলাদেশ অধিনায়কের, ‘বৃষ্টি হচ্ছে। কেউ পিচও দেখেনি। তাই বলা মুশকিল। আর দেখলেই যে বলা যাবে, কেমন পিচ, কেমন কন্ডিশন, তা নয়। এটা খুবই কঠিন। খেলা শুরুর আগ পর্যন্ত এটা কারও পক্ষে বলা সম্ভব নয়।’

অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া ব্যুরো জানিয়েছে, কাল অ্যাডিলেডে বৃষ্টির সম্ভাবনা ৬০ শতাংশ এবং ১ থেকে ৩ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। অ্যাডিলেডের পশ্চিম দিক থেকে দক্ষিণ–পশ্চিম দিকে ঘণ্টায় ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় শুরু হবে এই ম্যাচ। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী সন্ধ্যায়ই বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানানো প্রতিষ্ঠান ‘আকুওয়েদার’ জানিয়েছে, ম্যাচের শুরুতে কনকনে বাতাস বইবে। আকাশ প্রায় ৭০ শতাংশ মেঘে ঢাকা থাকবে। তাপমাত্রা থাকবে প্রায় ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাত ৮টা এবং ১১টায় অ্যাডিলেডে বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আকুওয়েদার।

সংবাদ সম্মেলনে সাকিবকে দেখে মনে হয়েছে, ঠান্ডায় সম্ভবত একটু জড়োসড়ো হয়ে বসেছেন। বাইরে বৃষ্টির সঙ্গে ছিল কনকনে শীতল হাওয়া। কাল এমন কন্ডিশনের মধ্যেই ভারতের বিপক্ষে লড়াই করতে হবে বাংলাদেশ দলকে। কাজটা কঠিন মনে হলেও সামলে তো নিতে হবেই।

সাকিবও আশস্ত করলেন সেভাবেই, ‘(অ্যাডিলেডের ঠান্ডা) অবশ্যই খুব কঠিন। শুধু বোলিং বা ফিল্ডিং নয়, ব্যাটিংয়ের জন্যও। তবে বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়, তাদের ক্যারিয়ারের কোনো না কোনো অংশে এমন কন্ডিশন অথবা ভিন্ন কন্ডিশনে খেলেছে। তারা জানে কীভাবে এটি সামলাতে হবে। আমরা অস্বীকার করতে পারব না, এখানে খুব ঠান্ডা। তবে আমাদের সামলে নিতে হবে। আমি মনে করি, দুই দলই জানে (কন্ডিশন) কীভাবে সামলাতে হয়।’

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যেহেতু অস্ট্রেলিয়ায়, এই টুর্নামেন্টের আগেই কন্ডিশন নিয়ে মানসিক প্রস্তুতি ছিল বাংলাদেশ দলের। সাকিব আল হাসান ও তাসকিন আহমেদের (২০১৫ বিশ্বকাপে অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ) মতো যাঁরা এখানে খেলেছেন, তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতা অবশ্যই সতীর্থদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছেন। তবে এবার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার এক ভেন্যু থেকে আরেক ভেন্যুতে সাকিবদের অভিজ্ঞতা মিশ্র।

হোবার্টে কনকনে ঠান্ডার মধ্যে নেদারল্যান্ডসকে হারায় বাংলাদেশ। এরপর সিডনিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বেশ ভালো কন্ডিশনে খেলেছে বাংলাদেশ। হোবার্টের মতো অত ঠান্ডা না থাকলেও ফলটা অনুকূলে নিতে পারেনি সাকিবের দল। ব্রিসবেনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও এত ঠান্ডার সন্মুখীন হয়নি বাংলাদেশ দল।

ঠান্ডা থেকে গরম কিংবা গরম থেকে ঠান্ডা কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়া কঠিন বলে স্বীকার করছেন সাকিব। কিন্তু মানিয়ে নেওয়া ছাড়া যে পথ নেই, সেটাও জানিয়ে দিলেন সাকিব, ‘হোবার্টে আমরা যখন খেলেছি, খুব ঠান্ডা ছিল। বিশেষ করে যারা উপমহাদেশ থেকে এসেছে, তাদের জন্য। সিডনিতে গেলাম, খুব ভালো ছিল। ব্রিসবেনও ভালো ছিল। এখন আরেকটি ঠান্ডা আবহাওয়া পেলাম। আমাদের মানিয়ে নিতে হবে। এর বাইরে পথ নেই। আমার মনে হয় না এটি কোনো সমস্যা। কারণ, আমরা মানসিকভাবে তৈরি খেলার জন্য।’