ভারতের জয় কেড়ে নিলেন দিনুশা
ভারত: প্রথম ইনিংসে ৫০৩/৯ ডিক্লে.। শ্রীলঙ্কা: ২৯০ ও ৪২৯/৯। ফল: ড্র।
জয়টা মনে হচ্ছিল ভারতের হাতের মুঠোয়। শ্রীলঙ্কার শেষ চার উইকেট তুলে নিতে শুবমান গিলের দলের হাতে ছিল পুরো দিন।
কিন্তু কলম্বোয় আজ ৮১.২ ওভার চেষ্টা করেও পারল না ভারত। পারল না আসলে সোনাল দিনুশার কারণে। বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যানের টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের শেষ দিনে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে শ্রীলঙ্কা।
আর তাতে ম্যাচের শেষটা হলো ভারতের জন্য হতাশার। স্বাগতিকদের ফলো–অন করানোর পরও গিলদের মাঠ ছাড়তে হয়েছে ড্র নিয়ে।
১৩৩ রানে অপরাজিত থেকে দিনুশা মাঠ ছেড়েছেন নায়কের বেশে।
গল টেস্টে জিতে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ভারত আজ কলম্বো টেস্টের পঞ্চম দিন শুরু করেছিল সিরিজ ২–০ করার লক্ষ্য নিয়ে। আগের দিন ফলো–অনে পড়া শ্রীলঙ্কার স্কোরবোর্ডে ছিল ৬ উইকেটে ২২৯ রান। দুই ইনিংস মিলিয়ে লিড মাত্র ১৬ রানের।
সেখান থেকে দিনটা যেন একাই নিজের করে নিলেন দিনুশা। আগের দিন ৭ রানে অপরাজিত থাকা বাঁহাতি ব্যাটসম্যান আজ শুরু থেকেই ছিলেন অবিচল। ভারতের অধিনায়ক একের পর এক বোলার বদলেছেন, ফিল্ডিং বদলেছেন, চাপ তৈরি করেছেন—কিন্তু দিনুশার প্রতিরোধ ভাঙতে পারেননি।
দিনুশার সঙ্গে সপ্তম উইকেটে কেশারা নুয়ান্থার জুটিটাই দিনের সুর বেঁধে দেয়। সপ্তম উইকেটে দুজনের ৪০.২ ওভার জুটিতে ১৫০ বলই খেলেছেন নুয়ান্থা। ১১২ রানের জুটি ভাঙার সময় নুয়ান্থার রান ছিল ৪৬। এরপর প্রবাত জয়াসুরিয়া এসে টিকতে না পারলেও দিনুশাকে আরেকটি বড় জুটিতে সঙ্গ দেন লাহিরু কুমারা। এ দুজন ভারতকে হতাশ করে অবিচ্ছিন্ন কাটিয়ে দেন ২৮ ওভার। যার মধ্যে লাহিরু একাই খেলেছেন ১৫ ওভার (৯০ বল)।
এর মধ্যেই টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন দিনুশা। এই সিরিজে এটি তাঁর তৃতীয় শতক।
দিনুশা অবশ্য এরপরও থামেননি। লাহিরুকে জাদেজা তুলে নেওয়ার পর আসিতা ফার্নান্দোকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান। আসিতা কোনো রান করতে পারেননি, তবে খেলে ফেলেন ২৪ বল।
লিড ততক্ষণে ২১৬ রান হয়ে যাওয়ায় শ্রীলঙ্কার হার এড়ানো নিশ্চিত হয়ে গেলে ইনিংস ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা। ভারত ড্র মেনে নিলে খেলা থামে দিনের খেলা ১৭ ওভার বাকি থাকতে।
ভারতীয় ক্রিকেটাররাই এগিয়ে এসে দিনুশাকে অভিনন্দন জানান। মাঠে ছুটে এসে ২৫ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানকে জড়িয়ে ধরেন কোচ গ্যারি কারস্টেন।
একসময় যে ম্যাচে শ্রীলঙ্কার হার ছিল প্রায় নিশ্চিত, সেটিই দিনুশার ব্যাটে হয়ে গেল স্মরণীয় ড্র। দুই টেস্টের সিরিজে তাই ১–০ ব্যবধানেই সন্তুষ্ট থাকতে হলো ভারতকে। শ্রীলঙ্কা পেল হার এড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের নতুন এক টেস্ট নায়কের সন্ধান।