জিসান-মোসাদ্দেকের ঝড়ে ফাইনালে মধ্যাঞ্চল
জাতীয় দলের কোচিং স্টাফের সদস্যরা প্রথম দুটি ম্যাচ দেখেছিলেন বগুড়ায়। কালই তাঁরা ছিলেন রাজশাহীতে। ফিল সিমন্স-শন টেইটদের সামনে জমজমাট এক ম্যাচই হয়েছে। তাওহিদ হৃদয়ের সেঞ্চুরিতে উত্তরাঞ্চলের দেওয়া ৩২৩ রানের লক্ষ্য ২ উইকেট হাতে রেখে জিতেছে মধ্যাঞ্চল। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি পেয়েছেন মধ্যাঞ্চলের জিসান আলম।
এই জয়ে ফাইনালেও উঠে গেছে মধ্যাঞ্চল। সেটি অবশ্য নিশ্চিত হয়েছে বগুড়ায় পূর্বাঞ্চলের কাছে দক্ষিণাঞ্চলের ১ উইকেটের হারে। আগামী মঙ্গলবার উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলই মুখোমুখি হবে ফাইনালে।
রাজশাহীতে বড় রান তাড়া করতে নেমে যেমন ব্যাটিং করা দরকার, জিসান শুরু থেকেই ছিলেন তেমন। শরীফুল ইসলামকে মারা ছক্কায় তিনি যখন ৩৫ বলে ফিফটি করেন, তখনো ইনিংসের মাত্র ৯.৩ ওভার। অন্য প্রান্তে সাইফ হাসান অপরাজিত ছিলেন ১২ বলে ৩ রান করে।
কিছুক্ষণ পর সাইফ আউট হলে চাপ বাড়ে দলের। তখন জিসান জুটি বাঁধেন মাহফিজুল ইসলামের সঙ্গে। আরেক প্রান্তে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও জিসান খেলতে থাকেন তাঁর মতোই।
৭৪ বলে তিনি যখন সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন, তখন দলের রান ১৪৩। এর আগে টি-টুয়েন্টিতে সেঞ্চুরি পেলেও লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এবারই প্রথম তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন জিসান। ৯৩ বলে ১৬ চার ও ৫ ছক্কার ইনিংস থামে রিশাদের বলে ক্যাচ তুলে দিলে।
তাঁর বিদায়ের পর আবার চাপে পড়ে যায় মধ্যাঞ্চল। একসময় ৬ ওভারে দরকার ছিল ৬৪ রান। এবার দলের পক্ষে হাল ধরেন মোসাদ্দেক হোসেন। ২৬ বলে ৪ চার ও সমান ছক্কায় ৪ বল আগেই দলের জয় নিশ্চিত করেন।
আগে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের ২ ওভার শেষ হওয়ার আগেই ৯ রান তুলতে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে উত্তরাঞ্চল। সেখান থেকে তাওহিদ হৃদয়-তানজিদ হাসান জুটি দলকে টেনে তোলেন। ৯২ বলে ৯২ রান করে আউট হয়েছেন তানজিদ।
তবে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে নিজের চতুর্থ সেঞ্চুরি পাওয়া হৃদয় ১১৩ বলে ১০২ রানের ইনিংস খেলে আবু হায়দারের বলে বোল্ড হন। শেষ দিকে সাব্বির রহমানের ৩ চার ও ৫ ছক্কায় ৫১ বলে ৭৩ রানে বড় সংগ্রহ পায় উত্তরাঞ্চল। সেটিও যথেষ্ট হয়নি জয়ের জন্য।
বগুড়ায় পূর্বাঞ্চলের বিপক্ষে জিতলে ফাইনালে যেত দক্ষিণাঞ্চল। তবে ১ উইকেটে ম্যাচটা হেরে গেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। আগে ব্যাট করে ১৮০ রানে অলআউট হয়ে যায় দক্ষিণাঞ্চল। ওপেনার আনিসুল ইসলামের ৫৩ বলে ৫০ রানই দলের পক্ষে সর্বোচ্চ।
এই রান করতে নেমে জয়টা বেশ দূরেরই মনে হচ্ছিল পূর্বাঞ্চলের জন্য। ১০৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। কিন্তু লড়াই চালিয়ে গেছেন হাসান মাহমুদ। নবম উইকেট যখন হারায় তাঁর দল, তখনো দলের জয়ের জন্য দরকার ৪০ রান।
মুশফিক হাসানকে সঙ্গে নিয়ে তা করে ফেলেন এই পেসার। ৪৫ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ৩৫ বল খেলে মাত্র ৪ রান করলেও দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন হাসান।
দল ম্যাচ জয় পয়েন্ট
উত্তরাঞ্চল ৩ ২ ৪
মধ্যাঞ্চল ৩ ২ ৪
পূর্বাঞ্চল ৩ ১ ২
দক্ষিণাঞ্চল ৩ ১ ২