ভারতের ইনিংস শেষেই ম্যাচটা হেলে পড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে। ১৩৩ রানে ভারত থামার পর যেভাবে হাত মিলিয়ে প্রোটিয়া ফিল্ডাররা মাঠ ছাড়ছিলেন, সেটাই বলে দিচ্ছিল, প্রথম অর্ধের কাজটা ঠিকঠাকভাবেই সম্পন্ন।

তবে দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে সেই সহজ কাজটাই কঠিন বানান দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা। তবে জীবন পেয়ে আর ভুল করেননি মার্করাম ও মিলার। মার্করাম ৪১ বলে ৫২ রান করে ফিরলেও মিলার অপরাজিত থাকেন ৫৯ রানে।

এই জয়ে গ্রুপ ২ থেকে সেমিফাইনালে যাওয়ার লড়াইটা আরও জমিয়ে তুলল দক্ষিণ আফ্রিকা। ৩ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে এল বাভুমার দল। ৪ পয়েন্ট করে আছে বাংলাদেশ ও ভারতের।

টসে হেরেই দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা বলেছিলেন, ‘এই ম্যাচ আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ টস জিতলে আগে ব্যাট করতেন তিনিও। সেটা করলে যে ভুল হতে পারত, সে প্রমাণ তো ভারতের ইনিংস শেষেই মিলেছে।

বোলিংয়ে মেডেন নিয়েই শুরু করেন ওয়েইন পারনেল। পরের ওভারের প্রথম তিন বলও ছিল ডট। ছক্কা মেরেই দল ও নিজের রানের খাতা খোলেন রোহিত শর্মা। ওভারের শেষ বলে নিজের বলেই দুরূহ ক্যাচটি নিতে পারলে রোহিতকে ফেরাতে পারতেন কাগিসো রাবাদা।

পরের ওভারে লোকেশ রাহুলও রানের খাতা খোলেন ছক্কা মেরে। তবে রাবাদা না পারলেও লুঙ্গি এনগিডি ঠিকই নিজের বলে নিজে ক্যাচ নিয়ে ফিরিয়েছেন রোহিতকে। শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে এনগিডির হাতেই ক্যাচ দেন ভারত অধিনায়ক। ওভারের শেষ বলে আবার ধাক্কা দেন এ পেসার। এবার তিনি রাহুলকে স্লিপে এইডেন মার্করামের হাতে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান।

সপ্তম ওভারের প্রথম দুই বলে এনগিডিকে দুই চারে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দেন বিরাট কোহলি। তবে ম্যাচে কোহলি–ঝলক বলতে এটুকুই ছিল। ওভারের পঞ্চম বলে এনগিডির তৃতীয় শিকার হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন দুর্দান্ত ছন্দে থাকা কোহলি। তিনি চাইলে অবশ্য অধিনায়ক রোহিতের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারতেন। কোহলিও যে নাকাল হয়েছেন সেই শর্ট বলে। উড়িয়ে মারতে গিয়ে ফাইন লেগ বাউন্ডারি লাইনে দারুণ এক ক্যাচ নেন রাবাদা। ভারতীয় সমর্থকদের মধ্যে তখন রাজ্যের নীরবতা।

ভারতকে চাপে রেখে দক্ষিণ আফ্রিকাকে চতুর্থ সাফল্য এনে দেন এনরিখ নরকিয়া। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন দীপক হুদা (০)। ৪২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ভারত তখন রীতিমতো কাঁপছিল।

বিধ্বংসী এনগিডি অবশ্য অতটুকুতেই সন্তুষ্ট ছিলেন না। আবার সেই শর্ট বল, এবার ফাঁদে পড়লেন হার্দিক পান্ডিয়া (২)। ভারতের ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদণ্ড ভাঙতে শর্ট বলকেই এদিন পাখির চোখ করেছিলেন এনগিডি, ৫০ পেরোনোর আগেই ৫ উইকেট হারিয়ে তখন ধ্বংসস্তূপ ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ।

ভারতকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন দুর্দান্ত ছন্দে থাকা সূর্যকুমার। প্রতি–আক্রমণে দারুণ জবাব দেন এই ব্যাটসম্যান। দিনেশ কার্তিককে এক পাশে রেখে চার–ছক্কার ফুলঝুরিতে ৩০ বলে তুলে নেন অর্ধশতক। এ দুজনের ব্যাটেই ভারতের সংগ্রহ ১০০ পার হয়।

লেংথ বলে পুল করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন দিনেশ (৬)। সূর্যের কাউন্টার অ্যাটাকের পরও ভারতের সংগ্রহ ১৩৩–এর বেশি যেতে পারল না। অন্য প্রান্ত থেকে যে কোনো সহায়তাই পাননি। তাঁর ৪০ বলে ৬৮ রানের ইনিংসটির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ রান আসে রোহিতের ব্যাট থেকে।

বোলিংয়ের শুরুতে আগুনের জবাবটা আগুন দিয়েই দিয়েছিল ভারত। দ্বিতীয় ওভারে তিন বলের মধ্যেই আগের ম্যাচে দারুণ ব্যাট করা কুইন্টন ডি কক ও রাইলি রুশোকে ফিরিয়ে দেন আর্শদীপ সিং। ডি কককে (১) সেকেন্ড স্লিপে ক্যাচ বানানোর পর রানের খাতা খোলার আগেই ফেরান রুশোকে।

দলীয় ২৪ রানে অধিনায়ক বাভুমাও ফিরে গেলে চাপ বাড়ে প্রোটিয়াদের। ম্যাচের প্রথম ৬ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং ছিল ভারতের ব্যাটিংয়ের প্রতিচ্ছবি। তবে শামি–হার্দিকদের দারুণ বোলিংয়ে লড়াইয়ে ফিরেও ফিল্ডারদের ভুলে ম্যাচটা আর জেতা হলো না, ছিটকে যায় ভারত। পরে মার্করাম ও ত্রিস্তান আউট হলেও ওয়েইন পারনেলকে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার জয় নিশ্চিত করেন মিলার।