লিটনদের আর্জেন্টিনা, নাকি মিরাজদের ব্রাজিল
আপনি কি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সমর্থক, নাকি অন্য কোনো দলের? তা আপনি যে দলেরই সমর্থক হোন না কেন, বিশ্বকাপের বাঁশি বেজে ওঠার পর নিশ্চয়ই ফুটবল আর নিজের দল নিয়ে উন্মাদনা বেড়েছে। বন্ধু, পরিবারের অন্য কোনো সদস্য কিংবা অফিসের সহকর্মী—তাঁদের সঙ্গে হচ্ছে তর্কবিতর্কও।
শুধু আপনি কেন, পুরো বাংলাদেশে, পুরো বিশ্বেই ফুটবল বিশ্বকাপ এলে বয়ে যায় একই হাওয়া। পতাকা ওড়ে, গায়ে ওঠে প্রিয় দলের জার্সি। তা থেকে বাদ যান না জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাও। আর সবার মতো ফুটবল বিশ্বকাপে তাঁদের সমর্থনেও আছে বৈচিত্র্য, প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর বিশ্বকাপ নিয়ে কাড়াকাড়ি।
জাতীয় দলের তিন সংস্করণের অধিনায়কদের কথাই ভাবুন। তাঁদের দুজন টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন আর টি–টোয়েন্টির লিটন দাস আর্জেন্টিনার সমর্থক। মিরাজ আবার একটু ব্যতিক্রম। তাঁর প্রিয় দল কোনটা? তাঁর কথা, ‘আমি রোনালদিনহোকে দেখে ব্রাজিলের সমর্থক হয়েছিলাম। এখনো ওই সমর্থনটা রয়ে গেছে।’
ব্রাজিল–আর্জেন্টিনা ‘বিভেদ’ বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমে সব সময় ছিল, এখনো আছে। নিজেদের মধ্যে আড্ডায় তাই মিরাজকে কখনো কখনো কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হয় লিটন–নাজমুলদের সামনে। তবে সেটা যে কেবলই খুনসুটি, তা তো বুঝতেই পারছেন।
আর্জেন্টিনার কট্টর সমর্থক লিটন এবারও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আশা নিয়ে আছেন, ‘আমার কাছে সব সময়ের প্রিয় ফুটবলার মেসি, প্রিয় দল আর্জেন্টিনা। এখন তো আমরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নই, আশা করি, আরও একবার বিশ্বকাপ জিতব!’
মিরাজ ড্রেসিংরুমে একেবারে একা নন। ব্রাজিল–সমর্থকদের দলে তাঁর সঙ্গে আছেন পেসার তাসকিন আহমেদও, ‘পুরো পরিবারের জন্যই জার্সি অর্ডার করেছি।’ সেখানেও অবশ্য জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমের মতোই পরিস্থিতি। তাসকিনের পরিবারের সবাই তাঁর মতো ব্রাজিলের সমর্থক নন।
পাঁচটি বিশ্বকাপ ধরে হেক্সার অপেক্ষায় দিন কাটছে সেলেসাও–সমর্থকদের। প্রতিবার বিশ্বকাপ এলেই তাঁদের সেই অপেক্ষা আরও বেশি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। একসময় যাদের দাপটে পুরো ফুটবল বিশ্ব কাঁপত, তাদের এখনকার হালে মন খারাপ হয় সমর্থকদের।
তাঁদের দলের একজন মিরাজ প্রিয় খেলোয়াড় হিসেবে রোনালদিনহোর জায়গাটা এখন দিয়েছেন নেইমার জুনিয়রকে। দলে থাকবেন কি না এই অনিশ্চয়তা কাটিয়ে তিনিই এখন ব্রাজিলের স্বপ্নের সারথি। তাঁর হাতে ধরেই এবার হেক্সার অপেক্ষা শেষ হবে বলে বিশ্বাস মিরাজের, ‘অনেক দিন ধরে বিশ্বকাপ পাওয়া হচ্ছে না। মনে হচ্ছে এবার ওই অপেক্ষাটা শেষ হবে।’
বাংলাদেশ দলের সবাই যে বিশ্বকাপে কোনো না কোনো দলের সমর্থক, ব্যাপারটা তেমন কিন্তু নয়। গত এক বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় চরিত্র নাহিদ রানা যেমন। পরিশ্রম আর বোলিংয়ের লাইন–লেন্থে প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে আসা এই পেসার আলাদা করে কোনো দলের সমর্থক নন, বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে তাই তাঁর মধ্যে নেই বাড়তি কোনো উন্মাদনাও।
নাহিদের তবু ভালো লাগে পর্তুগালের তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে, সেটি ফুটবলের সঙ্গে তাঁর জীবনাচারের কারণেও। তাঁর হাতে বিশ্বকাপ দেখার জন্যই নাকি নাহিদের নজর থাকবে বিশ্বকাপে, ‘এবার বিশ্বকাপের সময় আমাদের অনেক খেলা, অস্ট্রেলিয়া সিরিজ আছে, পরে জিম্বাবুয়ে সিরিজ। বোধ হয় খুব বেশি সুযোগ থাকবে না বিশ্বকাপ দেখার। সুযোগ হলে পর্তুগালের ম্যাচগুলোতে চোখ রাখব।’
উল্টো ব্যাপারও আছে কিন্তু। হ্যাঁ, বিশ্বকাপ নিয়ে কোনো উন্মাদনা নেই, এমন ক্রিকেটারও আছেন বাংলাদেশ দলে। তাঁদের একজন ওপেনার তানজিদ হাসান। সাদা বলের ক্রিকেটে তিনি নিয়মিত মুখ অনেক দিন ধরেই, সবশেষ পাকিস্তান সিরিজে অভিষেক হয়ে গেছে টেস্টেও।
ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে জানতে চাইতেই তিনি বলে উঠলেন, ‘আমাকে বাদ দেন ভাই!’ তবে পুরো দেশ, এমনকি বিশ্বই যেখানে ফুটবল বিশ্বকাপে বুঁদ হতে যাচ্ছে, সেখানে নিজেকে আলাদা রাখতে চান না তানজিদও। তিনি তাই বলেন, ‘যদি সবাই মিলে কোথাও খেলা দেখে, তাহলে হয়তো দেখতে পারি। আমার এমনিতে আলাদা করে কোনো দলের প্রতি ভালো লাগা নেই।’
এখন নেই, বিশ্বকাপ শুরু হলেও কি থাকবে না! দেখা যাক, আগামী দেড় মাসে লিটনদের আর্জেন্টিনা আর মিরাজদের ব্রাজিল নিয়ে লড়াই থেকে কতটা দূরে থাকতে পারেন তানজিদের মতোরা।