ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের যত ‘ফাইনাল’ জয়

জয়ের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সালমান আগা। তাঁকে ফেরানোর পর তাসকিন আহমেদের (ডানে) তাই এমন উল্লাসে ফেটে পড়া। কাল মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতেশামসুল হক
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। দুই ম্যাচ শেষে ১-১ সমতা। তৃতীয় ম্যাচটার গায়ে ‘ফাইনাল’ তকমা লাগতেই পারে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এমন ‘ফাইনাল’ কম খেলেনি। গতকালের বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের এমন ১৮তম ‘ফাইনাল’। প্রথম ১৭ ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছিল আটটি ম্যাচে, হেরেছিল নয়টিতে। গতকালের জয়ে সমতা এল হার-জিতে। সিরিজ ‘ফাইনালে’ বাংলাদেশের প্রথম আটটি জয়ে কীভাবে এসেছিল...

১. বিপক্ষ জিম্বাবুয়ে, মিরপুর (২০০৯)

মিরপুরে প্রথম ম্যাচে হারার পর টানা দুই ম্যাচ জয়। কুয়াশার কারণে ৩৭ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ৯ উইকেটে ১১৯ রান করে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশ রানটা ২৭ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে পেরোয়। মাশরাফি ৮ ওভারে ২৬ রানে ৩ ও সাকিব ৮ ওভারে ৪ মেডেনসহ ১৫ রানে নেন ৩ উইকেট।

২. বিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা, মিরপুর (২০১৫)

ছয় বছর পর আবারও প্রথম ম্যাচ হারার পর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জয় বাংলাদেশের। চট্টগ্রামে বৃষ্টিতে ৪০ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ৯ উইকেটে ১৬৮ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই ম্যাচেও ৩ উইকেট নেন সাকিব। সৌম্য সরকারের ৭৫ বলের ৯০ রানের ইনিংসে ৮৩ বল ও ৯ উইকেট হাতে রেখেই জিতে যায় বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে যেটা ছিল বাংলাদেশের টানা চতুর্থ ওয়ানডে সিরিজ জয়।

৩. বিপক্ষ আফগানিস্তান, মিরপুর (২০১৬)

দ্বিতীয় ম্যাচটি জিতে সিরিজে সমতা ফেরায় আফগানরা। মিরপুরে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশ করে ৮ উইকেট ২৭৯ রান। তামিম ইকবাল করেন ১১৮ রান। রান তাড়ায় ৩৩.৫ ওভারে ১৩৮ রানে অলআউট আফগানরা। এটি ছিল বাংলাদেশের ১০০তম ওয়ানডে জয়। ঘরের মাঠে টানা ষষ্ঠ সিরিজ জেতে বাংলাদেশ।

৪. বিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, সেন্ট কিটস (২০১৮)

গায়ানায় সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ জেতে, দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেন্ট কিটসে শেষ ম্যাচে তামিমের সেঞ্চুরি (১০৩) ও মাহমুদউল্লাহর ঝড়ে (৪৯ বলে অপরাজিত ৬৭) ৩০১ রান করে বাংলাদেশ। ক্যারিবীয়রা থামে ৬ উইকেটে ২৮৩ রান তুলে।

সেন্ট কিটসে সেঞ্চুরির পর তামিম ইকবাল
এএফপি

৫. বিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, সিলেট (২০১৮)

পাঁচ মাস পর ঘরের মাঠেও শেষ ম্যাচটি জিতে সিরিজ জয় বাংলাদেশের। এবার মিরপুরে প্রথম ম্যাচটি জেতে বাংলাদেশ, দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিলেটে শেষ ম্যাচে ওপেনার শাই হোপ ১০৮ রানে অপরাজিত থাকলেও ক্যারিবীয়রা করতে পারে ৯ উইকেটে ১৯৮ রান। মেহেদী হাসান মিরাজ ২৯ রানে পেয়েছিলেন ৪ উইকেট। ৩৮.৩ ওভারেই ২ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছায় বাংলাদেশ। তামিম ৮১ ও সৌম্য ৮০ রান করেন।

আরও পড়ুন

৬. বিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা, সেঞ্চুরিয়ন (২০২২)

সেঞ্চুরিয়নেই সিরিজের প্রথম ম্যাচটি জয়ের পর জোহানেসবার্গে দ্বিতীয় ম্যাচে জিতে সমতা ফেরায় দক্ষিণ আফ্রিকা। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটিও হয় সেঞ্চুরিয়নে। তাসকিন আহমেদের (৫/৩৫) তোপে ৩৭ ওভারে ১৫৪ রানে অলআউট প্রোটিয়ারা। ২৬.৩ ওভারেই মাত্র ১ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্য পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ। তামিম অপরাজিত ছিলেন ৮৭ রানে।

৭. বিপক্ষ শ্রীলঙ্কা, চট্টগ্রাম (২০২৪)

সিরিজের প্রথম ম্যাচ জেতে বাংলাদেশ, দ্বিতীয় ম্যাচ শ্রীলঙ্কা। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ২৩৫ রানে অলআউট শ্রীলঙ্কা। রানটা ৫৮ বল ও ৪ উইকেট হাতে রেখে পেরোয় বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান সর্বোচ্চ ৮৪ করেন, তবে ১৭৮ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর মুশফিকুর রহিম (৩৬ বলে ৩৭) ও রিশাদ হোসেন (১৮ বলে ৪৮) দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন।

গত অক্টোবরে শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সিরিজ জেতে বাংলাদেশ
শামসুল হক

৮. বিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, মিরপুর (২০২৫)

প্রথম ম্যাচটা বাংলাদেশ জেতে, দ্বিতীয় ম্যাচটি সুপার ওভারে জিতে সমতা ফেরায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষ ম্যাচে সাইফ হাসান (৮০) ও সৌম্য সরকারের (৯১) ১৭৬ রানের ওপেনিং জুটির পরও ২৯৬ রান করতে পারে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের চার স্পিনার ৩০.১ ওভারেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১১৭ রানে অলআউট করে দেন।

আরও পড়ুন