এলোমেলো বোলিংয়েই শেষটা পাকিস্তানের

হতাশ নাহিদ রানা, ব্যাটে–বলে দিনটা পাকিস্তানেরশামসুল হক

আজান আওয়াইস নাহিদ রানার বলটা পুল করতে গেলেন। বল লাগল তাঁর হেলমেটের সামনের দিকে। কনকাশন পরীক্ষা–নিরীক্ষায় খেলা বন্ধ থাকল মিনিট পাঁচেক। নাহিদ পরের বলটাও করলেন শর্ট পিচ, আজান এবারও করলেন পুল।

সময় যত গেছে, আজানের সাহস বেড়েছে আরও। ওদিকে বাংলাদেশের বোলাররা পারেননি পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের ভয় ধরানোর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে। টানা ভালো বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার কাজটাও করতে পারেননি তাঁরা। উইকেট নেওয়ার সুযোগ অবশ্য তৈরি হয়েছিল কয়েকবারই। কিন্তু কখনো মাহমুদুল হাসান, কখনো সাদমান ইসলাম ক্যাচ ফেলে সেসব সুযোগ হাতছাড়া করেছেন।

মিরপুর টেস্টে আজ দ্বিতীয় দিন শেষে পাকিস্তান যে ১ উইকেটে ১৭৯ রান করে ফেলেছে, এর মূল দায়টা দলের বোলারদেরই দিলেন বাংলাদেশের সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন। দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘আমরা একটু এলোমেলো বল করে ফেলেছি। এ কারণে হয়তো রানটা (পাকিস্তানের) খুব দ্রুত উঠে গেছে। আমরা যদি ভালো চ্যানেলে বল করতাম, তাহলে হয়তো এত রান হতো না।’ আজ সমস্যার সমাধানটা দ্রুতই খুঁজতে চান তিনি, ‘এই উইকেটে কোথায় বল করতে হবে, সেটা নতুন করে ঠিক করতে হবে।’

আব্বাস নিয়েছেন ৫ উইকেট
শামসুল হক

প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ার পর কাল বাকি সময়ে ৪৩ ওভার বল করেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়েছেন ইমাম উল হক। তাঁকে ফিরিয়েছেন স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। অথচ উইকেটে এখনো ঘাস আছে, পেসারদেরই এখানে থাকার কথা সামনের সারিতে।

তবু পেসাররা কেন পারলেন না? সালাহউদ্দীনের ব্যাখ্যা, ‘যখন দেখবেন উইকেটে ঘাস আছে, তখন বোলারদের (বেশি) রোমাঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমার মনে হয়, ওখানেই আমরা ভুলটা করেছি। আমাদের ভালো জায়গা বল করাটা খুব জরুরি ছিল।’
বোলারদের আগে ভুল করেছেন ব্যাটসম্যানরাও। ৪ উইকেটে ৩০১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম–লিটন দাস প্রথম ঘণ্টা কাটিয়ে দিয়েছিলেন ভালোভাবেই। কিন্তু হঠাৎই ঘটে ছন্দপতন—শেষ ৬ উইকেট বাংলাদেশ হারিয়ে ফেলে ৭৫ রানে।

একসময় তো ৪০০ পেরোনোও কঠিন মনে হচ্ছিল। ১৯ বলে তাসকিন আহমেদের ২৮ রানের ইনিংসের কারণেই দূর হয়েছে শঙ্কাটা। তবু বাংলাদেশ ৫০ থেকে ৬০ রান কম করেছে বলে মনে করেন সালাহউদ্দীন। পাঁচ সেশন ব্যাটিংয়ের পরিকল্পনা থাকলেও তা করতে পারেনি দল।

বড় জুটি না হওয়াতেই সেটি হয়নি, সালাহউদ্দীনও বলেছেন তা, ‘সকালবেলা পাকিস্তান আসলে ভালো বোলিং করেছে। আমাদের জুটি হওয়া খুব কষ্ট ছিল। আমি মনে করি, আরেকটা ভালো জুটি হলে আমাদের জন্য ভালো হতো।’

আরও পড়ুন

বোলারদের এলোমেলো বোলিংয়ের কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে পার্থক্যটা দ্রুতই কমিয়ে আনছে পাকিস্তান। তবে সালাহউদ্দীন জানেন, টেস্ট ক্রিকেটে এমন পরিস্থিতি বদলাতেও বেশি সময় লাগে না। তবে সে জন্য স্পিনারদের চেয়ে পেসারদেরই বেশি ভূমিকা রাখতে হবে বলে মনে করেন তিনি, ‘হয়তো মাঝেমধ্যে দুয়েকটা বল নিচু হচ্ছে, কিন্তু এটা পুরো ম্যাচের চিত্র নয়। ফাস্ট বোলাররা যদি একটু ভালো জায়গায় বল করে, ধারাবাহিকভাবে অনেকগুলো ওভার ভালো বল করতে পারে, তখন আমাদের উইকেট পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।’

১ উইকেটে ১৭৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করল পাকিস্তান
শামসুল হক

সেই সুযোগই কাল বাংলাদেশকে দিচ্ছিলেন না পাকিস্তানের দুই অভিষিক্ত ব্যাটসম্যান আজান ও আবদুল্লাহ ফজল। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৭৩ রান এসেছে দিন শেষ হওয়ার আগে। ৮৫ রানে অপরাজিত থাকা আজানের সঙ্গে ইমামের জুটিও ১০০ পেরিয়ে গেছে।

তাঁকে নিয়ে দিন শেষে মুগ্ধতার কথাই জানালেন ইমাম উল হক, ‘পেস আর মুভমেন্টের মধ্যেও ছেলেটা চাপের মুখে যেভাবে ব্যাটিং করেছে, তাতে সত্যিই ওর ধৈর্য আর মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় পাওয়া গেছে। ওদের (আজান ও ফজল) দুজনকে এভাবে খেলতে দেখে আমি সত্যিই খুব খুশি হয়েছি।’ তবে ম্যাচে ফিরতে আরও কিছু করণীয় দেখছিলেন তিনি দ্বিতীয় দিন শেষে, ‘কাল (আজ) যদি এক ঘণ্টা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, নিশ্চিতভাবেই তাহলে আমরা ম্যাচে ফিরব।’

আরও পড়ুন