অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে আবারও স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারদের বিপক্ষে স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার করবে টিভি চ্যানেল আল-জাজিরা। যদিও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) তদন্তে এ ব্যাপারে খেলোয়াড়দের জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায়নি
কাতারভিত্তিক টিভি চ্যানেল আল-জাজিরা এ বছরের মে মাসে তাদের তথ্যচিত্রে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের বিপক্ষে স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তুলেছিল। বিষয়টি তখন তোলপাড় সৃষ্টি করলেও ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ’ না থাকায় উড়িয়ে দিয়েছিল ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বোর্ড। এবার সেই একই টিভি চ্যানেল ‘অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই বর্তমান খেলোয়াড়’দের বিপক্ষে স্পট ফিক্সিং অভিযোগের বিষয়াদি প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগের সেই স্পট ফিক্সিং তথ্যচিত্রের ফলোআপ হিসেবে চ্যানেলটি এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার করবে।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) নিশ্চিত করেছে, আল-জাজিরার এই অভিযোগ ‘২০১১ সালের কিছু ঐতিহাসিক ম্যাচ’-এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। সে বছর অস্ট্রেলিয়া দল অ্যাশেজ হারের পাশাপাশি ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল। এ ছাড়া বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলার সঙ্গে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড ও ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল। সিএ প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড জানিয়েছেন, টিভি চ্যানেলটির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিএ নৈতিকতা পর্ষদ তদন্ত শুরু করেছে।
সিএ এই স্বীকারোক্তি এমন দিনে দিল যেদিন আইসিসিও অনিল মুনওয়ার নামে এক বাজিকরের ব্যাপারে তথ্য জানতে চেয়েছে সর্বসাধারণের কাছে। আল-জাজিরার প্রথম তথ্যচিত্রে এই ব্যক্তির নাম রয়েছে। ভারতীয় বাজিকর চক্রের সঙ্গে যোগসাজশ করে তিনি স্পট ফিক্সিংয়ের কারসাজি করে থাকেন বলে দাবি করা হয়েছে সেই তথ্যচিত্রে। আইসিসি জানিয়েছে, আল-জাজিরার এবারের ফলোআপ তথ্যচিত্রে অনিল মুনওয়ার এবং অবৈধ বাজিকরদের ধারণকৃত কথোপকথন প্রচার করা হবে।
সিএ প্রধান নির্বাহী সাদারল্যান্ড বলেছেন, ‘ক্রিকেটে দুর্নীতি নিয়ে আল-জাজিরার নতুন অনুসন্ধানী তথ্যচিত্রের কথা আমরা জেনেছি। প্রথম তথ্যচিত্রটির পর আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিট (আকসু) তা তদন্ত করছে। যদিও আল-জাজিরার অসহযোগিতার জন্য সেই কার্যক্রম ব্যাহতও হয়েছে। এ নিয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো বিশ্বাসযোগ্য যেকোনো কিছু গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নৈতিকতা ইউনিট আল-জাজিরার সাম্প্রতিকতম অভিযোগের পর্যালোচনা করেছে। সেখানে আল-জাজিরার পক্ষ থেকে সীমিত তথ্য সরবরাহ করা হলেও আমাদের দল (নৈতিকতা ইউনিট) অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়দের সঙ্গে দুর্নীতির কোনো সম্পর্ক খুঁজে পায়নি।’