আইপিএলকে পেতে হলো আরেকটি দুঃসংবাদ
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) বহুদিন এত বড় ধাক্কা খায়নি। ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগ বা আইসিএল চালু হওয়ার পরই সর্বশেষ বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট। যা কেউ কখনো করতে পারেনি, করোনাভাইরাস সেটাই করেছে; ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে বিসিসিআইকে। করোনা মহামারির মধ্যেও দেশে আইপিএল চালিয়ে নিতে চেয়েছিল ভারত। কিন্তু জৈব সুরক্ষাবলয়ের লখিন্দরের বাসরঘর বানিয়ে করোনা ঢুকে পড়েছিল। চার খেলোয়াড়সহ সাতজন আক্রান্ত হওয়ার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে আইপিএল।
বন্ধ হওয়া সেই আইপিএল বছরের অন্য কোনো সময়ে আয়োজন করতে চায় বিসিসিআই। এ জন্য আন্তর্জাতিক সূচিতে মোটামুটি একটি ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করছে তারা। সে সঙ্গে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে কোন দেশকে বেছে নেওয়া যায়, সে চিন্তাও আছে। এর মধ্যেই নতুন একটা ধাক্কা খেল বিসিসিআই। নতুন সূচিতে আইপিএল শুরু হলেও ইংলিশ ক্রিকেটারদের সেখানে দেখার সম্ভাবনা নেই।
আইপিএলের জন্য জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের এ বছর আর ছাড়া হবে না বলে প্রায় নিশ্চিত করে দিয়েছেন ইংল্যান্ড ও ওয়েলশ ক্রিকেট বোর্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যাশলি জাইলস।
মে মাসের শুরুতে আইপিএল স্থগিত করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে ভারতে করোনা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। উল্টো গতকালও দেশটিতে নতুন করে ৩ লাখ ২৯ হাজার ৫১৭ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর এসেছে। ৩ হাজার ৮৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে কাল। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ভারতে ২ কোটি ২৬ লাখে বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাই ঘরের মাঠে আগামী বেশ কিছুদিন আইপিএল আয়োজনের কোনো সম্ভাবনা নেই। সংযুক্ত আরব আমিরাত, শ্রীলঙ্কা বা ইংল্যান্ড—বিকল্প ভেন্যু হিসেবে অনেক নামই এসেছে। কিন্তু দেশের বাইরে আইপিএল আয়োজন করলে আশানুরূপ আর্থিক ফল মেলে না বলে আগ্রহ কম বিসিসিআইয়ের।
এখন পর্যন্ত ভারতীয় বোর্ড তাই অক্টোবরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগের তুলনামূলক ফাঁকা সূচিকে লক্ষ্য বানিয়েছে। কিন্তু জাইলস কাল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়ে দিয়েছেন, এমন কিছু হলে বোর্ডের চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের জাতীয় দলকেই বেছে নিতে হবে। ওই সময় ইংল্যান্ড সফরে বের হবে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে দুটি সিরিজ খেলবে তারা। জাইলসের কথায় স্পষ্ট ইঙ্গিত খেলোয়াড়দের কাছ থেকে তাঁদের চাওয়া কী, ‘যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী সফর হয়, খেলোয়াড়েরা সেখানে যাবে বলেই আমি আশা করি। ইংল্যান্ডের ম্যাচে সব শীর্ষ ক্রিকেটার থাকবে, এটাই তো আমাদের পরিকল্পনা।’
আইপিএলে দিন দিন ইংলিশ ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। চোটের জন্য এ মৌসুমে জফরা আর্চার ও বেন স্টোকস খেলতে পারেননি। তবু জাতীয় দলে ইংলিশ ক্রিকেটারের অভাব ছিল না আইপিএলে। জস বাটলার, জেসন রয়, জনি বেয়ারস্টো, ক্রিস ওকস, ক্রিস জর্ডান, মঈন আলী, স্যাম কারেন, ডেভিড মালান, টম কারেনদের মতো খেলোয়াড়েরা অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজিরই মূল খেলোয়াড়দের মধ্যে পড়েন। এঁদের মধ্যে আইপিএল থেকে একটু দেরি করে দেশে ফেরা বাটলার, স্যাম, ওকস, বেয়ারস্টো ও মঈন আলীকে ১০ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হচ্ছে।
২ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরু হবে ইংল্যান্ডের। সে সিরিজে আইপিএল ফেরত কাউকে দেখার সম্ভাবনা নেই। এতে অবশ্য খেলোয়াড়দের যে কোনো দায় নেই, সেটা মেনে নিয়েছেন জাইলস, ‘নিউজিল্যান্ডের সিরিজের পরিস্থিতি ভিন্ন। এই সিরিজের ম্যাচের সূচি ঠিক হয়েছে জানুয়ারির শেষে। তত দিনে আইপিএলে সময় দেওয়ার ব্যাপারে খেলোয়াড়েরা চুক্তি করেই ফেলেছিল।’ কোয়ারেন্টিন শেষে চাইলেই ২ জুনের আগে তাঁদের দলে ফেরানো যায়। কিন্তু এভাবে স্বল্প প্রস্তুতিতে টেস্ট খেলানোর ব্যাপারে আপত্তি আছে জাইলসের, ‘ওদের দেখভাল করতে হবে আমাদের। সামনে যত খেলা আছে, তাড়াহুড়া করে বা জোর করে ক্রিকেটে ফেরাব না আমরা। ক্রিস সিলভারউড (প্রধান কোচ) এদের সবার সঙ্গে আলাদাভাবে কাজ করবে, আমাদের চিকিৎসক দলও কাজ করবে ওদের উন্নতির জন্য সবচেয়ে সেরা উপায় খুঁজে পাওয়ার জন্য।’
নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য ছাড় পেলেও বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সিরিজে পাবেন না ক্রিকেটাররা। কারণ, এ দুই সিরিজের সূচি আগেই ঠিক করা হয়েছে। ফলে ওই সময় চুক্তিবদ্ধ কোনো ক্রিকেটারের সিরিজ থেকে নাম সরিয়ে নেওয়া সহজ হবে না।