ইংল্যান্ডের হারে কিয়েল্লিনির অভিশাপ—কী সেই অভিশাপ?

বুকায়ো সাকাকে অভিশপা দিয়েছিলেন কিয়েলিনি?ছবি: এএফপি

ইউরো ফাইনালে বুকায়ো সাকার টাইব্রেকার নিতে যাওয়ার দৃশ্যটি মনে আছে? ১৯ বছর বয়সী ইংল্যান্ড উইঙ্গারের চোখমুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল ভীষণ চাপে আছেন। টাইব্রেকারেও তিনি লক্ষ্য ভেদ করতে পারেননি। তাঁর শট রুখে দিয়ে ইতালিকে ট্রফি জেতান গোলকিপার জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। টাইব্রেকারে সাকার সেই ব্যর্থতার পেছনে নাকি কাজ করেছে ‘অভিশাপ’, এমন দাবি করেছেন ইতালি ডিফেন্ডার জর্জো কিয়েল্লিনি।

ওয়েম্বলিতে নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটি ১–১ ড্র ছিল। অতিরিক্ত সময়েও আর গোল পায়নি দুই দল। টাইব্রেকারে ৩–২ গোলের জয় পায় ইতালি। সাকা লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হওয়ায় জয় নিশ্চিত হয় তাদের। সাকা শট নেওয়ার মুহূর্তখানেক আগে ‘কিরিকোচো’ বলে চিৎকার দিয়েছিলেন কিয়েল্লিনি। ফুটবলে প্রতিপক্ষের দুর্ভাগ্যের প্রার্থনা করে এ শব্দ বহু আগে থেকেই ব্যবহার করেন খেলোয়াড়েরা।

ইতালির সাফল্যের অন্যতম নায়ক তিনি
ছবি: এএফপি

ইএসপিএনে এক ভিডিওতে প্রশ্নের উত্তরে ইতালিয়ান ভাষায় কিয়েল্লিনি বলেন, ‘কী খবর ক্রিস্টিয়ান (সংবাদকর্মী ক্রিস্টিয়ান মার্টিন), নিশ্চিত করছি, কিরিকোচো বলেছি।’ ভিডিওটি ইএসপিএন আর্জেন্টিনা টুইট করে ক্যাপশনে লিখেছে, ‘ক্রিস্টিয়ান মার্টিনকে কিয়েল্লিনি নিশ্চিত করেছেন, তিনি বিখ্যাত অভিশাপমূলক শব্দ কিরিকোচো বলেছেন, যেন ইংল্যান্ড শেষ পেনাল্টিটা মিস করে।’ উয়েফার এক ভিডিওতেও দেখা যায়, সাকার শট দোন্নারুম্মা সেভ করার আগে ইতালির এই তারকা ডিফেন্ডার চিৎকার করে শব্দটা বলছেন।

এখন প্রশ্ন হলো এই কিরিকোচো শব্দের কী অর্থ? এটি আসলে আশির দশকে আর্জেন্টিনার ক্লাব এস্তুদিয়েন্তেসের এক পাঁড় ভক্তের নাম। তাঁকে ঘিরে নানা রকম গল্প আছে। ক্লাবের অনুশীলন সেশনে উপস্থিত থাকতেন কিরিকোচো। তখন ক্লাবটির কোচ কার্লোস বিলার্দো (ক্লাবটির সাবেক খেলোয়াড় ও আর্জেন্টিনাকে ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জেতানো কোচ) একদিন খেয়াল করলেন কিরিকোচো অনুশীলন দেখতে এলেই কোনো না কোনো খেলোয়াড় চোট পাচ্ছেন। বিলার্দো এরপর এক বুদ্ধি বের করলেন।

ইউরোতে দারুণ উজ্জল ছিলেন কিয়েলিনি।
ছবি: এএফপি

কিরিকোচোকে ডেকে তিনি বললেন, এস্তুদিয়েন্তেসের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবগুলোর অনুশীলনে থাকলেই তো পারো! কিরিকোচোকে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবগুলোর অনুশীলন দেখতে যেতে বললেন। বিলার্দো ভেবেছিলেন, কিরিকোচোর এই ব্যাখ্যাতীত শক্তি প্রতিপক্ষ দলগুলোর ওপর ব্যবহার করবেন। তাতে কাজও হয়েছিল। বিলার্দো একবার তাঁকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, ‘কিরিকোচো লা প্লাতার সেই খুদে ছেলে, যে সব সময় আমাদের সঙ্গেই ছিল। ১৯৮২ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তাকে আমরা মাসকট করে নিই। সে ভালো একটা ছেলে ছিল, কিন্তু তাকে আর কখনো দেখিনি। এস্তুদিয়েন্তেসকে সর্বশেষ যখন কোচিং (২০০৩–০৪) করিয়েছি, তখন তাঁর খোঁজ নিয়েছিলাম। কেউ কিছু বলতে পারেনি।’

এস্তুদিয়েন্তেসের সেই ভক্তের নাম এরপর ছড়িয়ে পড়ে ফুটবল বিশ্বে। খেলোয়াড়েরা প্রতিপক্ষকে অভিশাপ দিতে তাঁর নামটা বলে থাকেন।