এক বছর আইপিএলের টাকা না পেলে কী এমন সমস্যা—প্রশ্ন শোয়েবের

আইপিএল স্থগিত করায় বিসিসিআইয়ের ওপর খুশি শোয়েব আখতার।ফাইল ছবি: এএফপি

‘ধান দিয়া কী হইব, মানুষের জান যদি না থাকে’—‘লালসালু’ উপন্যাসে উক্তিটি করেছিলেন রহিমা। সপ্তাহ দুয়েক আগে ভারতে করোনা সংক্রমণ যখন বাড়তে থাকে, টুর্নামেন্টটি বন্ধ করার দাবি তুলে ‘লালসালু’র সেই উক্তিই যেন আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন অনেকেই। সবারই কথা ছিল, চারদিকে এত মানুষ সংক্রমিত হচ্ছে, এত মানুষ মারা যাচ্ছে প্রতিদিন—এই পরিস্থিতিতে অর্থ আয় করার জন্য আইপিএল চালিয়ে গিয়ে কী হবে!

করোনা মহামারির কঠিন এই সময়ে যাঁরা আইপিএল আয়োজন করার বিপক্ষে কথা বলেছেন, তাঁদের অন্যতম শোয়েব আখতার। সপ্তাহ দুয়েক আগে তিনি আইপিএল বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন ভারতের ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিসিআই)। অবশেষে গত মঙ্গলবার আইপিএল স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক ফাস্ট বোলার।

গত মঙ্গলবার স্থগিত হয়ে গেছে আইপিএল।
ছবি: বিসিসিআই

কেন আইপিএল বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন, সেই ব্যাখ্যা শোয়েব তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে দিয়েছেন, ‘সপ্তাহ দুয়েক আগে আমি যখন আইপিএল বন্ধ করতে বলেছিলাম, এর পেছনে একটা আবেগ ছিল। একটা জাতীয় বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ভারত। মানুষ মারা যাচ্ছে। আমি এই কারণেই আহ্বানটা জানিয়েছিলাম যে প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ মানুষ সংক্রমিত হচ্ছে। এ রকম একটা সময়ে আইপিএল হতে পারে না। এমন সময়ে আনন্দমুখর কোনো কিছুই হতে পারে না।’

আইপিএল বা যেকোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট মানেই অর্থের ঝনঝনানি। আইপিএল থেকে প্রতিবছর কোটি কোটি রুপি আয় করে বিসিসিআই। অনেকেই মনে করেন, এ কারণেই করোনা মহামারিকে উপেক্ষা করে টুর্নামেন্টটি চালিয়ে যাচ্ছিল তারা। এ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন শোয়েব, ‘লোকেরা যদি টাকা না বানাতে পারে, তা নিয়ে আমার সমস্যা নেই। তারা তো ২০০৮ সাল (আইপিএল শুরুর বছর) থেকে টাকা কামাচ্ছে। এক বছর টাকা না পেলে কী এমন সমস্যা তাদের?’

করোনার কারণে আইপিএল আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিসিআই।
ছবি: আইপিএল

আইপিএল আর অর্থের সম্পর্ক নিয়ে বলার পর আবারও একবার শোয়েব আইপিএল বন্ধ করার আহ্বানের পক্ষে তাঁর যুক্তি উপস্থাপন করেছেন, ‘মানুষ মরছে। এমন সময়ে আপনি উৎসবমুখর কোনো কিছুর আয়োজন করতে পারেন না। এটা জাতীয় বিপর্যয়। এ কারণেই প্রতিবেশী দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমি আইপিএল বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলাম।’

আর ফ্র্যাঞ্চাইজি–ভিত্তিক এসব টুর্নামেন্টে জৈব সুরক্ষাবলয় কোনো সমাধান নয় বলেই মনে করেন শোয়েব। এর আগে পাকিস্তান সুপার লিগেও জৈব সুরক্ষাবলয়ের ফাঁক গলে করোনা ঢুকে পড়েছে। এ কারণে স্থগিত করা হয়েছিল টুর্নামেন্ট। একই অবস্থা হয়েছে আইপিএলেরও। শোয়েব বলেছেন, ‘ভারত জৈব সুরক্ষাবলয় তৈরি করেছিল, কিন্তু আমাদের মতো অবস্থাই হলো। সংযুক্ত আরব আমিরাত আর ইংল্যান্ডে এগুলো হতে পারে। এখানে তো হোটেলে যারা কাজ করে, তারাও নিরাপদ নয়। তারা জৈব সুরক্ষাবলয়ে থাকে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জৈব সুরক্ষাবলয়ে হতে পারে। কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট নয়। আইপিএল কোনো ছোট আসর নয়।’