ঘূর্ণিজালে ১৭ উইকেট পতনের দিন

উইকেট বিসর্জন দিয়ে ফিরছেন সাকিব। ছবি: এএফপি
উইকেট বিসর্জন দিয়ে ফিরছেন সাকিব। ছবি: এএফপি
>চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে মোট ১৭ উইকেটের পতন হয়েছে। সব উইকেটই নিয়েছেন দুই দলের স্পিনাররা

শুধু ব্যাটিং বিপর্যয় বললে সঠিক চিত্রটা ঠিক ফুটে ওঠে না। এ রীতিমতো আত্মহত্যার মিছিল! হাতে ৭৮ রানের লিড নিয়ে আজ শেষ সেশনে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ। অর্থাৎ পথটা এখনো বহু দূরের। সেই পথে আজ দ্বিতীয় দিনের বাকি ১৭ ওভার খেলার আগে স্কোরবোর্ডে জমা হয়েছে ৫৫ রান। আর ‘আত্মহত্যা’ করেছেন প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যান!

হাতে ৫ উইকেট নিয়ে ১৩৩ রানের লিড নিয়েছে বাংলাদেশ। কাল টেস্টের তৃতীয় দিনে এই ইনিংস কত দূর যাবে, তা নির্ভর করছে অপরাজিত থাকা মুশফিকুর রহিমের ওপর। মুশফিকের (১১*) সঙ্গে উইকেটে রয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ (০*)। তবে দ্বিতীয় দিনকে দর্শকেরা মনে রাখবেন ১৭ উইকেট পড়ার জন্য, যেখানে সব উইকেটই স্পিনারদের!

দ্বিতীয় দিনের প্রথম ২৮ বলের ব্যবধানে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের বাকি ২ উইকেট তুলে নেন ক্যারিবীয় স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যান। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের সব উইকেটে ভাগ করেছেন বাংলাদেশের চার স্পিনার—নাঈম হাসান, সাকিব আল হাসান, তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ। অভিষেক টেস্টে নেমেই ৫ উইকেট নিয়েছেন অফ স্পিনার নাঈম। সাকিবের শিকার ৩ উইকেট আর ১টি করে উইকেট পেয়েছেন তাইজুল ও মিরাজ।

পরে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে দিনের শেষ ঘূর্ণি ফাঁসে জড়িয়েছে বাংলাদেশও। পাঁচ ব্যাটসম্যানকেই ‘আত্মহত্যা’য় প্ররোচিত করেছেন ক্যারিবীয় স্পিনাররা। শুরুটা করেছিলেন ইমরুল কায়েস। জোমেল ওয়ারিক্যানের বলটি খেলেছেন স্পিনের বিপরীতে। ব্যাট ও প্যাডের মাঝে ফাঁক থাকায় বোঝাই গেছে দিনের ইমরুল সাবধান ছিলেন না। সৌম্য সরকারও অনুসরণ করেছেন তাঁকে। পায়ের কাজ ছাড়াই রোস্টন চেজের স্পিন খেলতে গিয়ে ধরা পড়েছেন স্লিপে। ক্যারিবীয় এই দুই স্পিনার দুই স্বাগতিক ওপেনারকে ফিরিয়েছেন মাত্র ৫ বলের ব্যবধানে!

ফিরিয়েছেন না বলে ব্যাটসম্যানেরা ফিরেছেন বলাই ভালো—অন্তত, দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই একমত হবেন। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নেওয়া পেসার শ্যানন গ্যাব্রিয়েলকে দিয়ে আজ বোলিং করাননি ক্রেগ ব্রাফেট। আরেক পেসার কেমার রোচকে দিয়ে শুধু প্রথম ওভারটি করিয়েছেন। সেই ওভারের শেষ দুই বলে সৌম্য দারুণ দুটি শটে চার পাওয়ার পরই বোধ হয় সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেলেছিলেন ব্রাফেট—শুধু স্পিনারদের দিয়ে বল করাবেন। সারা দিন স্পিনারদের উইকেট নেওয়ার ব্যাপারটা তো ছিল। ব্রাফেটের এই সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক প্রমাণ করেছেন প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানই।

মুমিনুল ফিরেছেন এলবিডব্লিউ হয়ে। মাত্র ১১ বলের ইনিংস। ১২ রান করে সহজ বলকে কঠিন করে খেলতে গিয়ে ফিরেছেন প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান। অধিনায়ক সাকিব এই বিপর্যয়কে ধ্বংসস্তূপ বানিয়ে ছেড়েছেন খুব দ্রুতই। প্রথম বল খেলেই বোধ হয় রান করার তাড়া মাথায় চেপে গিয়েছিল সাকিবের। নিজের ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ফিরেছেন স্লগ সু্ইপের খেসারত–গুণে। ওয়ারিক্যানের এই উইকেটে তাঁর চেয়ে সাকিবের অবদানই বেশি!

মোহাম্মদ মিঠুনকে দেবেন্দ্র বিশু ফিরিয়েছেন দ্বিতীয় দিনের দুই ওভার বাকি থাকতে। বিশুর ওই লেগ স্পিন কোথায় পড়েছে তা কি মিঠুন বুঝতে পেরেছিলেন! সম্ভবত না, তাই ফিরেছেন বোল্ড হয়ে। সব মিলিয়ে ১৭ উইকেট পতনের এই দিনটা স্পিনারদের। মনে রেকর্ড উঁকি দিলে বলে রাখা ভালো, আর একটি মাত্র উইকেট পড়লেই ১৫ বছর আগের এক কীর্তি ছুঁয়ে ফেলতে দুই দল। ২০০৩ সালে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টের তৃতীয় দিনে ১৮ উইকেট পড়েছিল। টেস্টে বাংলাদেশের মাটিতে একদিনে এটাই সর্বোচ্চ উইকেট পতনের রেকর্ড। আর টেস্ট ইতিহাসে একদিনে সর্বোচ্চ উইকেট পড়েছে ২৭টি। সেটি ১৩০ বছর আগে লর্ডসে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া টেস্টে।