টেস্ট ক্যাপটা কি একটু সস্তা হয়ে যাচ্ছে?

৯৪তম ক্রিকেটার হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে আজ টেস্ট অভিষেক হলো সাদমান ইসলামের। ছবি: শামসুল হক
৯৪তম ক্রিকেটার হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে আজ টেস্ট অভিষেক হলো সাদমান ইসলামের। ছবি: শামসুল হক
>বাংলাদেশের ৯৪তম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে অভিষেক হয়ে গেল সাদমান ইসলামের। এ বছর অভিষেক হলো বাংলাদেশের আট ক্রিকেটারের, গত ১৫ বছরের মধ্যে যেটি সর্বোচ্চ।

সকালে সাদমান ইসলামের মাথায় অভিষেক টুপি তুলে দিলেন বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমানে বিসিবির প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন। বাংলাদেশের ৯৪তম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট আঙিনায় পা রাখলেন সাদমান। এ বছর অভিষেক হলো বাংলাদেশের আট ক্রিকেটারের, গত ১৫ বছরের মধ্যে যেটি সর্বোচ্চ। এই আটজনের ছয়জন টেস্ট ক্যাপ পেয়েছেন গত ৪ টেস্টে।

২০০০ সালে অভিষেক টেস্টে ১১ খেলোয়াড়ের পর সর্বোচ্চ ১০ জনের অভিষেক হয়েছিল ২০০২ সালে। ২০০১ সালে ৯ জনের। এ বছর অভিষেক টুপি পেলেন ৮ ক্রিকেটার, যেটি গত ১৫ বছরে দেখা যায়নি। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার বছরে গড়ে অভিষেক হয়েছে ৫ জনের। ১১২ টেস্ট খেলা বাংলাদেশে ইদানীং অভিষেক টুপিটা বেশ ‘সহজপ্রাপ্য’, প্রতি টেস্টেই নতুন মুখ দেখাটা যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে!

এ বছর যে ৮ জনের অভিষেক হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ৩ জন আছেন বর্তমান একাদশে। গত দুই বছরে যে ১৬ জনের অভিষেক হয়েছে তাঁদের মধ্যে মাত্র ৪ জন আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের একাদশে । প্রায় প্রতি টেস্টেই ক্যাপ বিতরণ হওয়ার অর্থ দাঁড়ায়, দলটা স্থিতিশীল নয়। আর অভিষেক খেলোয়াড়দের জায়গা পোক্ত না হওয়ার অর্থ, তাঁদের ওপর দ্রুত আস্থা হারিয়ে ফেলছে টিম ম্যানেজমেন্ট। এটা ঠিক, কন্ডিশন-পরিস্থিতির কারণে অনেক সময় দলের সমন্বয়ে পরিবর্তন আনা জরুরি হয়ে পড়ে। তাই বলে এত ঘন ঘন দলে অদল-বদল আনার অর্থ কী? অভিষিক্তদের ওপরই কেন দ্রুত আস্থা হারানো? যদি নবীন খেলোয়াড়টি টেস্টের জন্য যথার্থ না হন, তবে কেন হুটহাট অভিষেক টুপি দেওয়া? গাঢ় সবুজ ব্যাগি টুপিটা কি এতই সস্তা!

অকাতরে অভিষেক টুপি বিলানো নিয়ে কাল কথা বলতে হয়েছে সাকিব আল হাসানকেও। বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়কও ঘন ঘন স্কোয়াড বদলানোর পক্ষে নন, ‘সব সময় মনে করি একজন খেলোয়াড়ের যখন অভিষেক হয় কিংবা তাকে যখন খেলানো হয়, তাকে যেন যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়, তার সম্ভাবনা কিংবা প্রতিভা প্রমাণের। তারপরও সে যদি ব্যর্থ হয়, তবেই তাকে বাদ দেওয়া উচিত। ঘন ঘন খেলোয়াড় বদলানোর পক্ষে আমিও না। আমিও মনে করি না এটা কোনো ভালো বার্তা দেয়। দিন শেষে আমরা সব সময় চাই ম্যাচ জিততে। ম্যাচ জেতার জন্যই অনেক সময় অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়।’

এত ঘন ঘন টেস্ট অভিষেকের মধ্যে একটা হাহাকার থেকেই গেছে। বাংলাদেশ দল এখনো পায়নি দুর্দান্ত একজন লেগ স্পিনার। অলক কাপালি-জুবায়ের হোসেন ধূমকেতুর মতো এসেছেন, আবার হারিয়েও গেছেন! মিরপুর টেস্টেও চার স্পিনার নিয়ে নেমেছে বাংলাদেশ। এমনকি দলে কোনো পেসারও রাখা হয়নি। স্পিনারদের এ রাজত্বে একজন লেগ স্পিনার থাকলে ক্যারিবীয়দের জন্য পরীক্ষা কতটা কঠিন হতো, ভাবা যায়!


              কোন বছরে কত অভিষেক

বছরঅভিষেক সংখ্যা 
২০০০১১
২০০২১০
২০০১
২০১৮
২০০৮
২০০৪
২০১৩
২০১৭
২০০৩
২০০৫
২০১১
২০১৪
২০১৫
২০১০
২০১৬
২০০৭
২০০৯
২০১২
২০০৬