বাংলাদেশের ভরসা সেই পাঁচ

এ তিনের সঙ্গে মুশফিক-মাহমুদউল্লাহই বাংলাদেশের ভরসা। প্রথম আলো ফাইল ছবি
এ তিনের সঙ্গে মুশফিক-মাহমুদউল্লাহই বাংলাদেশের ভরসা। প্রথম আলো ফাইল ছবি

আজ ১৫ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে ১৪তম এশিয়া কাপ। ১৩তমবারের মতো অংশ নিতে এই প্রথম বাংলাদেশ দল আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠেই জানাচ্ছে শিরোপা জেতার আশার কথা। কোচ স্টিভ রোডস এ সাহস পাচ্ছেন সাকিব-তামিম-মাশরাফিদের দিকে তাকিয়েই। নিকট অতীতে প্রথম তিনজনের সঙ্গে মুশফিক-মাহমুদউল্লাহতে ভর করেই যত সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। এশিয়া কাপও এর ব্যতিক্রম নয়।

এশিয়া কাপে বাংলাদেশ স্কোয়াডে থাকা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন তামিম। গত এশিয়া কাপ (২০১৪ সালের ওয়ানডে সংস্করণ) না খেলার পরও! ১২ ম্যাচ খেলে ৪৩ গড়ে ৫১৭ করা তামিম অবশ্য শুধু বাংলাদেশই নন, এবারের এশিয়া কাপে ছয় দলের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ডান হাতের আঙুল নিয়ে হালকা অস্বস্তি থাকলেও এবারের এশিয়া কাপেও বাংলাদেশের মূল ভরসা এই তামিমই। আর ভুললে চলবে না, এশিয়া কাপে সর্বশেষ চার ম্যাচেই ফিফটি পেরিয়েছেন তামিম।

এশিয়া কাপে রান করায় এরপরই আছেন মুশফিকুর রহিম। গড়টা তামিমের মতো নয় সাবেক অধিনায়কের (২৮.৩৫), রানটাও চার শ (৩৯৭) পেরোয়নি। কিন্তু বাংলাদেশ স্কোয়াডে এশিয়া কাপে সেঞ্চুরি করা একমাত্র খেলোয়াড় কিন্তু মুশফিকই। ২০১৪ এশিয়া কাপটা বাংলাদেশের জন্য হতাশাজনক হলেও মুশফিকের কিন্তু ১১৭ রানের একটি ইনিংস ছিল সেবার। ওয়েস্ট ইন্ডিজে সীমিত ওভারে সাফল্যের পর মুশফিকের কাছ থেকে তেমন কিছু ইনিংস আশা করাই যায় এবার।

সেদিক থেকে সাকিব আল হাসানের কাছে দল কী পাবে, এ নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকছেই। হাতের চোটে অস্ত্রোপচার করানোর জন্য এ টুর্নামেন্ট থেকে ছুটি চেয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু জিম্বাবুয়ে সিরিজের চেয়ে এশিয়া কাপই বাংলাদেশের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর নির্বাচক হাবিবুল বাশারও প্রথম আলোকে বলেছেন, এ চোট নিয়েই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর খেলেছেন সাকিব। তাঁর অবস্থা আগের মতোই আছে, কোনো অবনতি হয়নি। তা ছাড়া পরিসংখ্যানের দিকে একবার নজর বুলালেই দেখা যায়, কেন তাঁকে ছাড়া আরব আমিরাতে যেতে চায়নি দল। মাত্র ৯ ম্যাচেই ৩৫৩ রান। দলের সেরা গড়টাও (৪৪.১২) সাকিবের। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, এত এত রান করেও স্ট্রাইক রেটটা ১১০-এর ওপরে রেখেছেন। বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের আর কারও এটা ৯০-এর ওপরে নয়।

এ তিনজনের তুলনায় এশিয়া কাপে মাহমুদউল্লাহ বড্ড অনুজ্জ্বল। ১৪টি ম্যাচ খেলেও রান দুই শ (১৭২) ছাড়ায়নি। সেঞ্চুরির তো নেই-ই, নেই কোনো ফিফটিও। স্ট্রাইক রেটও গত কিছুদিনের মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে একদমই যায় না (৫৯.৭২)। তবু মাহমুদউল্লাহকে ছাড়া দল গঠনের চিন্তা করাই যায় না। গত দুই বছরে দলকে বারবার বিপদ থেকে বাঁচানো মাহমুদউল্লাহ তাই এশিয়া কাপেও দলের ভরসা।

ব্যাটিংয়ের তুলনায় বোলিংয়ে বাংলাদেশের ভরসা করার লোক বেশ কম। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা সেখানে শুধু সাকিবকেই সঙ্গী পাচ্ছেন। দুজনই সর্বোচ্চ ১২টি করে উইকেট পেয়েছেন। উইকেট প্রাপ্তিতে এশিয়া কাপে তাঁদের ধারেকাছে আছেন শুধু মাহমুদউল্লাহ। ৭ উইকেট নিয়ে তিনে থাকা মাহমুদউল্লাহ অনেক দিন হলো দলের বোলিংয়ে মূল ভাবনার মধ্যে নেই। অপেক্ষাকৃত তরুণ বোলিং আক্রমণটাকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব তাই সাকিব-মাশরাফির কাঁধেই।

অবশ্য এ নতুন কিছু নয়। সেই ২০১৫ বিশ্বকাপের আগ থেকেই তো বাংলাদেশ দলকে টেনে নিচ্ছেন এ পাঁচজন। এশিয়া কাপের পরিসংখ্যান শুধু আরেকবার জানিয়ে দিল সেটা।