বিশ্বকাপে কেমন করল বাংলাদেশ
হতাশার এক বিশ্বকাপ কাটাল বাংলাদেশ দল। প্রথম রাউন্ডে একটু আশা জাগালেও সুপার টুয়েলভের পারফরম্যান্স সে আশার বাতি নিভিয়ে দিতে সময় নেয়নি মোটেও। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে যে বহু পথ পাড়ি দিতে হবে, তা টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের দলগত পারফরম্যান্স বুঝিয়ে দিয়েছে বেশ ভালোভাবে। ব্যাটিং কিংবা বোলিং—কোনো বিভাগই যে খুব বেশি খুশি করতে পেরেছে সবাইকে, তা বলা যাবে না। আর ফিল্ডিংয়ে ব্যর্থতার ব্যাপারটা তো নতুন করে বলার কিছু নেই।
ব্যর্থ এই টুর্নামেন্টে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের খতিয়ানে কে এগিয়ে আছেন? আসুন, দেখে নেওয়া যাক একনজরে।
ব্যাটিং
বাংলাদেশ এবার যা ব্যাটিং দেখিয়েছে, তা কোনোভাবেই আদর্শ টি-টোয়েন্টি ব্যাটিংয়ের পর্যায়ে পড়ে না। ধুমধাড়াক্কা ক্রিকেটে যেখানে সবার স্ট্রাইক রেট হওয়া উচিত আকাশচুম্বী, সেখানে চার-ছয়ে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের যেন বড্ড অনীহা। প্রথম রাউন্ড ও সুপার টুয়েলভ মিলিয়ে আট ম্যাচের মধ্যে সাত ম্যাচ খেলে রানের তালিকায় শীর্ষে আছেন ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম। ১৭৪ রান তুলেছেন নাঈম।
তবে অন্যান্য দেশের ওপেনাররা যেখানে শুরু থেকেই হাত চালিয়ে খেলে দলের রান বাড়াতে সাহায্য করেন, সেখানে নাঈমের স্ট্রাইক রেটই বলছে, ওতে তাঁর রুচি নেই তেমন। ১১০.৮২ স্ট্রাইক রেট তাঁর।
সে হিসাবে আবার এগিয়ে আছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। তাই বলে মাহমুদউল্লাহ যে খুব বেশি মেরে খেলেছেন, সেটাও বলা যাবে না। আট ম্যাচ মিলিয়ে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা মাহমুদউল্লাহ (১৬৯ রান) শীর্ষে আছেন স্ট্রাইক রেটের হিসাবে ১২০.৭১, যা মোটেও আশাব্যঞ্জক কিছু নয়।
স্ট্রাইক রেটের হিসেবে তিন ও চারে আছেন যথাক্রমে মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসান। তবে প্রতি বলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রান তুলতে তাঁদের যে যথেষ্ট সংগ্রাম করতে হয়েছে, সেটা তাঁদের স্ট্রাইক রেটই বোঝাচ্ছে। ১১৩.৩৮ ও ১০৯.১৬ স্ট্রাইক রেট তাঁদের।
সংগ্রামের হিসেবে অবশ্য বাংলাদেশের আরেক ওপেনার লিটন দাসের জুড়ি নেই। বলপ্রতি এক রানও নিতে পারেননি এই ওপেনার। স্ট্রাইক রেট মাত্র ৯৪.৩২। রানের হিসাবে তিন থেকে পাঁচ নম্বর অবস্থানে আছেন যথাক্রমে মুশফিকুর রহিম (১৪৪ রান), লিটন দাস (১৩৩ রান), সাকিব আল হাসান (১৩১)। রানের হিসাবে পঞ্চম স্থানে থাকা সাকিব আর ষষ্ঠ স্থানে থাকা আফিফ হোসেনের ব্যবধানটা দেখার মতো। আট ইনিংস খেলে সাকল্যে ৫৪ রান করেছেন আফিফ।
এবার প্রথম রাউন্ডের হিসাব বাদ দিয়ে শুধু সুপার টুয়েলভের হিসাব করা যাক। এখানেও রানের হিসাবে শীর্ষে মোহাম্মদ নাঈম। যদিও ৫ ম্যাচ খেলে তাঁর রান ১১০। বাকিরা ৫ ম্যাচ খেলে ১০০ রানও পার করতে পারেননি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মুশফিক করেছেন ৯৫, লিটন, মাহমুদউল্লাহ ও মেহেদী হাসানের রান যথাক্রমে ৯৩, ৭৯ ও ৩৮। স্ট্রাইক রেটের হিসাবে সুপার টুয়েলভে অবশ্য নাঈমকে টপকেছেন মুশফিক। শীর্ষে থাকা মুশফিকের স্ট্রাইক রেট ১২০.২৫। পরের স্থানগুলোতে আছে যথাক্রমে মেহেদী হাসান (১০৫.৫৫), নাঈম (১০৪.৭৬) ও মাহমুদউল্লাহ (৯৮.৭৫) ও লিটন দাস (৮৯.৪২)!
বোলিং
প্রথম রাউন্ড আর সুপার টুয়েলভ মিলিয়ে বোলিংয়ের দিক দিয়ে সবচেয়ে ভালো করেছেন সাকিব। ১১ উইকেট নিয়েছেন তিনি। মেহেদী আর মোস্তাফিজ নিয়েছেন আটটি করে উইকেট। তাসকিনের উইকেট ছয়টি। সবচেয়ে কিপটে বোলিংয়ের দিক দিয়েও সবার ওপরে সাকিব। ওভারপ্রতি ৫.৫৯ রান দিয়েছেন এই বাঁহাতি স্পিনার। বাকিদের ইকোনমি রেটও আশেপাশেই—মেহেদীর ৬.১২, তাসকিনের ৬.৫০ ও সাইফউদ্দিনের ৭।
হতাশ করেছেন মোস্তাফিজ। দুহাতে রান বিলিয়েছেন তিনি। রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে আলো ছড়িয়ে বিশ্বকাপে এসেছিলেন, আশা ছিল, বোলিং নেতৃত্বটা তিনিই সামলাবেন। সেটা হয়নি। আইপিএলের অভিজ্ঞতা নিয়েও তাঁর ইকোনমি ৯.২৫।
তবে শুধু সুপার টুয়েলভের হিসাব করলে অবশ্য সবাইকে টপকে গেছেন নাসুম আহমেদ। চার উইকেট পেয়েছেন। সমান উইকেট শরিফুলেরও। তিনটি করে উইকেট মেহেদী হাসান ও তাসকিন আহমেদের। সাকল্য দুটি উইকেট পেয়েছেন মোস্তাফিজ। ইকোনমির হিসাবে এ পর্বে শরিফুলই যা ছয়ের কম রান দিয়েছেন (৫.৭৫)। ওভারপ্রতি ৬.২৬ রান দিয়ে ভালো বোলিং করেছেন তাসকিনও। বাকিদের হতশ্রী দশা। নাসুম প্রতি ওভারে রান দিয়েছেন ৯.৮২ করে, মেহেদী ৭.৭৬। এখানেও সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছেন মোস্তাফিজ। ওভারপ্রতি ১০ রান দিয়েছেন কাটার-মাস্টার।
আগামী অক্টোবর আবারও বিশ্বকাপের আসর বসবে অস্ট্রেলিয়ায়। এসব ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ সে বিশ্বকাপে কাজে লাগাতে পারবে তো?