ব্যাটে রান নেই, মুমিনুলের আকুতি মিরপুরে

ব্যাটে রান নেই মুমিনুলেরছবি: এএফপি

একদিন আগে দক্ষিণ আফ্রিকার পোর্ট এলিজাবেথ থেকে ঢাকা ফিরেছেন ২০ ঘন্টার ভ্রমণের পর। একদিন বিশ্রাম নিয়ে আজ প্রাইম ব্যাংকের জার্সি গায়ে মুমিনুল হক নেমে গেলেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলতে। প্রতিপক্ষ আবাহনী। সে দলেও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দুজন ছিলেন— লিটন দাস ও মাহমুদুল হাসান। তবে মুমিনুল ম্যাচে কী করলেন, তাঁর চেয়েও বড় ব্যাপার তিনি ম্যাচের বাইরে যা করলেন!

আবাহনীর ২৭১ রান রানের জবাবে প্রাইম ব্যাংক ম্যাচটা হেরেছে ২৮ রানে। প্রাইমের মুমিনুল ৩৪ বলে ১৫ রান করে মোসাদ্দেক হোসেনের বলে আউট হন। একে তো ম্যাচে ভালো করেননি, তাঁর মাথায় হয়তো ছিল সাম্প্রতিক ফর্মের বিষয়টি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই টেস্টের চার ইনিংসেই যে বাজেভাবে ব্যর্থ বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক।

দক্ষিণ আফ্রিকায় চার ইনিংসেই ব্যর্থ মুমিনুল
এএফপি

আজ আউট হয়েই তাই মুমিনুল চলে গেলেন একাডেমি মাঠের মাঝের উইকেটে, সঙ্গী দক্ষিণ আফ্রিকা ফেরত তাইজুল ইসলাম। প্রাইম ব্যাংকের হয়ে তাঁরও খেলার কথা ছিল। কিন্তু একাদশে তাঁর জায়গা হয়নি।

দুজন মিলে প্রায় ঘন্টাখানেক সাদা বলে অনুশীলন করেন। দুজন নেট বোলারও ছিলেন। প্রাইম ব্যাংকের সহকারী কোচ আশিকুর রহমান নেটের পাশ থেকে দেখলেন মুমিনুলের ব্যাটিং। তাইজুলের বাঁহাতি স্পিনে মুমিনুলের ব্যাটিংয়ের ছবিটা দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের বাংলাদেশ দলের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার স্মৃতি মনে করিয়ে দিল যেন।

কদিন আগেই দক্ষিণ আফ্রিকার বাঁহাতি স্পিনার কেশব মহারাজের বলে আউট হয়েছেন মুমিনুল। শুধু মুমিনুলের উইকেট নয়, ডারবান ও পোর্ট এলিজাবেথ টেস্টে ১৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ দলকে ডুবিয়েছেন তিনি। তাইজুলের বাঁহাতি স্পিনে ব্যাফ ফুট ও ফ্রন্ট ফুটে ডিফেন্সিভ শট খেলতে দেখা গেছে। বাঁ হাতি স্পিনারের বলগুলোকে স্কয়ার লেগে ঠেলে খেলছিলেন।

একাডেমি মাঠে আজ প্রাইম ব্যাংক–আবাহনী ম্যাচের সময়ই চলল মুমিনুলের অনুশীলন। বোলিং করে গেলেন তাইজুল ইসলাম
ছবি: প্রথম আলো

তবে অনুশীলনটা যেহেতু সাদা বলের, ওয়ানডে ম্যাচের আবহও ছিল মুমিনুলের অনুশীলনে। শেষ পর্যায়ে এসে স্পিনের বিপক্ষে ক্রিজ ছেড়ে ছক্কা মারার অনুশীলন করেন। মুমিনুলের মারা কিছু শট একাডেমি মাঠ পেরিয়ে মিডিয়া প্লাজায় এসে পড়ল।

মুমিনুলকে বোলিং করে নিজের সাদা বলের অনুশীলনটাও সেরেছেন তাইজুল। পোর্ট এলিজাবেথ টেস্টে তাইজুলই ছিলেন বাংলাদেশের সেরা বোলার। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে তাইজুলের শিকার ৩ উইকেট। আটসাঁট বোলিং, ফ্লাইট, গতির বৈচিত্র্য—সবই ছিল তাইজুলের বোলিংয়ে। পোর্ট এলিজাবেথের সেই বোলিংটাই যেন আজ সাদা বলে করলেন তিনি। তাঁর কয়েকটি বল মুমিনুলের জন্যও চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠল। বার বারই যেন তাঁর অনুশীলনে মহারাজের বাঁ হাতি ঘূর্ণিতে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের পরাস্ত হওয়ার ছবিই ফিরে আসছিল।