বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখানো মিসবাহ

ম্যাচ শুরুর আগে সব আলোচনা মোহাম্মদ আমিরকে ঘিরে। লর্ডসের প্রথম প্রহরেই কি বল হাতে দেখা যাবে পাকিস্তানের কলঙ্কিত পেসারকে? সেই সিদ্ধান্তও পাকিস্তানের হাতেই ছিল, সকালে টসে জিতেছিলেন মিসবাহ-উল-হকই। কিন্তু তখন কি মিসবাহ ভেবেছিলেন, দিন শেষে সব আলো থাকবে তাঁর নিজের ওপর? দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে রেকর্ড বুকে যে অনেক কিছুই নতুন করে লিখিয়েছেন!
সকালে যখন টস করতে নেমেছেন, তখনই একটা কীর্তি হয়ে গেছে মিসবাহ-উল-হকের। পাকিস্তানের অধিনায়কের বয়স এখন ৪২ বছর ৪৭ দিন। টেস্ট ক্রিকেটে এর চেয়ে বেশি বয়সে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাত্র আটজন, এশিয়ার আর কেউ নন। কিন্তু কে জানত, দিন শেষে তার চেয়েও অনেক বড় কীর্তি গড়ে ফেলবেন? টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে অধিনায়ক হিসেবে মিসবাহই এখন সবচেয়ে ‘বুড়ো’। তার চেয়েও বিস্ময়কর, ৪০ পেরোনোর পর একাধিক সেঞ্চুরি করার কীর্তি এখন শুধু মিসবাহরই। লর্ডসে গত ৮২ বছরে এর চেয়ে বেশি বয়সে সেঞ্চুরি আর কারও নেই, টেস্ট ক্রিকেটে গত ৬০ বছরেই কেউ তা আর করতে পারেননি।
একটু অবিশ্বাস্যই মনে হতে পারে, ৪২ পেরিয়ে ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথম টেস্ট খেলছেন মিসবাহ। তার ওপর সেটির আবার লর্ডসে! ৭৭ রানের সময় যখন নামেন, ৩ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান বেপথু। অনেক দিনের দোসর ইউনিস খানকে নিয়ে প্রাথমিক বিপদটা পার করলেন। এর পর আসাদ শফিককে সঙ্গে নিয়ে একটু একটু করে ম্যাচটা নিয়ে গেছেন পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৪ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের রান ২৭৮।
কাকতালীয়ই বটে, গত বছর মিসবাহর সর্বশেষ তিন টেস্টে প্রতিপক্ষ এই ইংল্যান্ডই। আজ যে আলো ছড়াবেন, সেই আভাস কিন্তু তখনই মিলেছিল! সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ ৫ ইনিংসে মিসবাহর রান ছিল ৩৬৯।
আজ অবশ্য ভাগ্যের ছোঁয়াও পেয়েছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক। ১৬ রানে স্লিপে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন, জো রুট সেটি হাতে জমাতে পারেননি। ৫৮ রানের সময় শফিকের সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝিতে রানআউট প্রায় হয়েই গিয়েছিলেন। একেবারে কাছ থেকেও বলটা স্টাম্পে লাগাতে পারেননি গ্যারি ব্যালান্স। তার আগেই হয়ে গেছে ফিফটি। সব কটি টেস্ট খেলুড়ে দেশেই ফিফটি পেলেন পাকিস্তান অধিনায়ক, শুধু বাকি আছে নিজের দেশ পাকিস্তান!