
কীভাবে একজন ভালো ফাস্ট বোলার তৈরি হয়? একজন ভালো বোলারের গুণগুলোই-বা কী কী! এসব প্রশ্নের উত্তর ভালো জানার কথা আকিব জাভেদের। নব্বইয়ের দশকে পাকিস্তানের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার, ১৯৯২ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যও। খেলা ছাড়ার পর ফাস্ট বোলিং কোচ হিসেবে গড়েছেন নতুন ক্যারিয়ার। প্রথম আলোর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তরুণ বোলারদের শিখিয়ে দিলেন এক মন্ত্র, একজন ভালো বোলারকে অবশ্যই ব্যাটসম্যানের আগে ম্যাচের পরিস্থিতি মাথায় নিয়ে নিতে হয়।
আকিব স্বীকার করে নিয়েছেন, ফাস্ট বোলার তৈরির কোনো নির্দিষ্ট ছকবাঁধা ফর্মূলা নেই। ফাস্ট বোলার জন্মায়, তাদের তৈরি করা যায় না। ভালো বোলারের গুণাবলীও কারও ভেতর ঢুকিয়ে দেওয়া যায় না। ভালো বোলারদের অবশ্যই বুদ্ধিদীপ্ত হতে হবে। দ্রুত ভাবতে জানতে হয়, 'একজন ভালো বোলার সব সময়ই ভাবনায় ব্যাটসম্যানের চেয়ে এগিয়ে থাকবে। এর মানে হচ্ছে, বোলারকে খুঁজে বের করতে হবে, ব্যাটসম্যান কী ভাবছে। তাঁর পরিকল্পনাটা কী! একজন বোলারকে অবশ্যই নিজের বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ ঘটিয়ে ম্যাচ রিডিংয়ে ব্যাটসম্যানকে পেছনে ফেলতে হবে। পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে।'
ফাস্ট বোলার কোনো কর্মসূচি দিয়ে তৈরি করা যায় না। আকিবের অভিজ্ঞতা সেটিই বলে, 'একজন ক্রিকেটারের প্রকৃতি প্রদত্ত প্রতিভা আর শারীরিক গঠনের ওপরই নির্ভর করে ফাস্ট বোলার হওয়া। জোরে বল করা কাউকে অনুশীলন করিয়ে শেখানো যায় না। এটা ভেতরেই থাকতে হয়। প্রতিভা খুঁজে বের করে ফাস্ট বোলিং উপযোগী পরিবেশ দিতে হবে। তাঁর খাওয়া–দাওয়া ও অনুশীলনের প্রক্রিয়াটা যেন ঠিক থাকে, সে ব্যবস্থা করে দিতে হবে। আরেকটা ব্যাপার হলো, আপনাকে ফাস্ট বোলার খুঁজে বের করতে হবে। আপনাকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে খোঁজ করতে হবে কে জোরে বোলিং করছে। বিভিন্ন মাঠে ছেলেদের টেপ টেনিস ক্রিকেটে নজর রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে ফাস্ট বোলার জন্মায়, তৈরি করা যায় না।'
পাকিস্তানে এ উপমহাদেশের অন্য দেশগুলোর তুলনায় বেশি বেশি ফাস্ট বোলার বেরিয়ে আসে। আকিবের চোখে এর বড় কারণ, 'পাকিস্তানে এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক বেশি ফাস্ট বোলার বেরিয়ে আসে। এর একটা বড় কারণ, পাকিস্তানে অনেক তরুণই টেপ টেনিস ক্রিকেটটা বেশি খেলে। টেপ বলে হাত খুব জোরে ঘুরিয়ে বোলিং করা যায়। কিন্তু সাড়ে ৫ আউন্সের একটা ক্রিকেট বল দিয়ে আপনি বোলিং শুরু করবেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই হাত বেশি জোরে ঘোরাতে পারবেন না। ছোটবেলা থেকে টেপ টেনিস বলে বোলিং করাটা একটা বড় কারণ পাকিস্তানে ফাস্ট বোলার বেশি তৈরি হওয়ার।'
করোনা পরবর্তী সময়ে ক্রিকেটে লালা নিষিদ্ধ হতে চলেছে স্বাস্থ্যববিধি মানার জন্যই। আকিব এটিকে আইসিসির বাস্তবানুগ সিদ্ধান্ত মনে করেন না। লাল যদি নিষিদ্ধ করতেই হয়, তাহলে বোলারদের সুইং করানোর জন্য বিকল্প উপদানও দিতে হবে বলে মনে করেন তিনি, 'এশীয় দেশগুলো, যেমন বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলঙ্কায় মাঠ বেশ শক্ত আর উইকেট ঘাসহীন। লালা নিষিদ্ধ করাটা ফাস্ট বোলারদের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়াবে। কারণ, কুকাবুরা বল মাত্র ৬ থেকে ৮ ওভার পরই ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে বসে। এ বল দিয়ে ফাস্ট বোলারদের সুইং করানোটা ভীষণ কঠিন একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। দলগুলো তখন ফাস্ট বোলারদের বাদ দিয়ে স্পিনারদের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে যাবে। আমি মনে করি আইসিসির উচিত, এ ব্যাপারে সঠিক একটা সমাধানে আসা প্রয়োজন। ভ্যাসলিন বা এ জাতীয় কিছু ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত বল চকচকে করার জন্য। অবশ্যই সেটি হবে আম্পায়ারের তত্ত্বাবধানে। লালা নিদ্ধিদ্ধ করলে আইসিসির উচিত কৃত্রিম কিছু ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া।'
আরও পড়ুন...