মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে ইতিহাসের সঙ্গী হতে না পেরেও খুশি সাকিব

সাকিব আল হাসানফাইল ছবি

বাংলাদেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সাফল্য এটি। যে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দেশেই কখনো টেস্ট জেতেনি বাংলাদেশ, যাদের মাটিতে নিদেনপক্ষে কখনো ড্র–ও করতে পারেনি বাংলাদেশ, হেরেছে সব সংস্করণ মিলিয়ে আগের ৩২টি ম্যাচই; সেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের মাটিতে প্রায় পূর্ণ শক্তির দলের বিপক্ষে টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ। মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে পাঁচ দিনই দাপট দেখিয়ে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের জন্য এ জয় আরও বেশি মহিমান্বিত। কারণ, এ জয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আত্মবিশ্বাস জাগিয়েছে। গত এক দশক যাঁদের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ, সেই পাঁচজনের মাত্র একজনই সাক্ষী এই টেস্ট জয়ের। তবে জয়ের মুহূর্তে মাঠে থাকলেও ম্যাচে খুব একটা অবদান ছিল না মুশফিকুর রহিমের। বাকিদের মধ্যে মাশরাফি তো এক যুগ আগেই টেস্ট থেকে অতীত হয়ে গেছেন, মাহমুদউল্লাহও অবসর নিয়ে নিয়েছেন। তামিম ইকবাল চোটের কারণে দেশে। আর সাকিব আল হাসান ছুটি কাটাচ্ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে।

ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়া সে ম্যাচে থাকতে না পেরেও অবশ্য আফসোস নেই সাকিবের। বরং এ ম্যাচে তাঁর অনুপস্থিতিটাই সাকিবের খুশির কারণ।

পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় ছুটিতে ছিলেন সাকিব
ছবি: ইনস্টাগ্রাম

৯ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে বিসিএলের লিস্ট ‘এ’ পর্ব। এরপর ২১ জানুয়ারি শুরু হবে ২০২২ বিপিএল। ছুটি কাটিয়ে গতকাল তাই দেশে ফিরেছেন সাকিব। আজ একটি মুঠোফোন প্রতিষ্ঠানের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে সাকিবকে। সে অনুষ্ঠানে নতুন বছরের শুরুতেই বাংলাদেশ দলের এমন দুর্দান্ত এক জয়ে তৃপ্তির কথা জানিয়েছেন সাকিব।

এ জয়ের অনুপ্রেরণা ভালো একটা বছর কাটাতে সাহায্য করবে বলে তাঁর ধারণা, ‘বছরের শুরুটা যেভাবে হলো, অবিশ্বাস্য। খুবই আনন্দিত। দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ—সবাইকে এর কৃতিত্ব দিতে হবে। সবাই যেভাবে চেষ্টা করেছে! কারণ, আমাদের আগের বছরটি ভালো যায়নি। এ বছরটি আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। শুরুটা যেহেতু এত ভালো হয়েছে, আশা করি সামনে আরও ভালো কিছু করতে পারব। আসলে সত্যি বলতে এত ভালো ক্রিকেট বাংলাদেশ খুব কম সময়েই খেলে। প্রত্যেক খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফকে এই কৃতিত্বটা দিতে হয়। তারা এত চাপের মধ্যেও এ রকম একটা কঠিন কন্ডিশনে গিয়ে এত ভালো খেলেছে।’

সাকিবের ধারণা, এ জয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে একটা ভ্রান্তি দূর হয়েছে। বাংলাদেশের ক্রিকেট মানেই মোটা দাগে পাঁচজন ক্রিকেটারকে আলাদা করে তুলে ধরা। অভিজ্ঞ চারজনকে ছাড়াই দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় সাফল্য পাওয়ায় এখন থেকে ‘পঞ্চপাণ্ডব’ নিয়ে বাড়াবাড়ি কমবে বলে ধারণা সাকিবের, ‘এটা অবশ্যই ভালো লাগার মতো ব্যাপার। সংবাদমাধ্যম সব সময় মনে করে, আমরা চার-পাঁচজন ছাড়া খেলোয়াড় নেই। সেটা ভুল প্রমাণিত হলো বলে আমার ধারণা। তাদের (অন্য ক্রিকেটারদের) যদি এভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়, তারা ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

সাকিব
ফাইল ছবি

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের আগের সেরা ম্যাচের নায়ক ছিলেন সাকিব। ২০১৭ সালে ওয়েলিংটনে ২১৭ রানের সে ইনিংসের পরও পরাজিত দলে ছিলেন সাকিব। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম জয়ের অংশ হতে না পারায় তাঁর নিশ্চয় আক্ষেপ হচ্ছে?

সাকিব বললেন উল্টো, ‘না, আমি বরং অনেক বেশি খুশি হয়েছি যে আমি ছাড়াও জিতেছে। শুধু আমি ছাড়া না, আমি থাকা না–থাকা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু মনে হয় না। যেটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা হচ্ছে আমাদের দলটা খেলছে এবং কেমন করছে। সেদিক থেকে আমি খুবই খুশি। খুবই গর্বিত প্রত্যেক খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফের ব্যাপারে।’