মোহামেডান থেকেও বাদ, সৌম্যর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন
মোহাম্মদ হাফিজ মোহামেডানের হয়ে খেলতে একটু আগে এসে পৌঁছেছেন ঢাকায়। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার আগে ক্লাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিটিং হচ্ছিল পাকিস্তান অলরাউন্ডারের, মিটিংয়ে ছিলেন সৌম্য সরকার ও শুভাগত হোমও। এমনিতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডান এবার গড়েছে তারকাঠাসা দলই। তবে সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, তাসকিন আহমেদ, মাহমুদউল্লাহসহ জাতীয় দলের হয়ে খেলতে ছয়জন তখন ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকায়। হাফিজ ছাড়াও মোহামেডানের অন্যতম ভরসার নাম হতে যাচ্ছেন শুভাগত ও সৌম্য—সেদিনের মিটিং ইঙ্গিত দিচ্ছিল এমনই।
টেস্ট থেকে আগেই অবসর নেওয়া মাহমুদউল্লাহ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের পরই ফিরেছেন, পারিবারিক কারণে যুক্তরাষ্ট্রে সাকিব। বাকিরা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ব্যস্ত। মোহামেডানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শুভাগত, কিন্তু সৌম্য কিনা বাদই পড়লেন মোহামেডানের দল থেকে! আবাহনীর বিপক্ষে আজ সৌম্যকে ছাড়াই নেমেছিল মোহামেডান, শেষ পর্যন্ত যেটি তারা হেরেছে বড় ব্যবধানেই। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, পারফরম্যান্সের কারণেই বাদ দেওয়া হয়েছে সৌম্যকে।
সৌম্যকেও এমনই বলা হয়েছে। ফোনে সৌম্য নিজেই জানালেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে বাদ পড়ার অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম। অনুমিতভাবেই ফিরে আসার প্রতিজ্ঞার কথাও শোনালেন। সেটি বেশ নাটকীয়ভাবেই, ‘ক্রিকেটই যেহেতু খেলি, ফিরে আসার চেষ্টা তো করবই।’
মোহামেডানের এর আগের ছয়টি ম্যাচেই ছিলেন সৌম্য। খেলাঘরের বিপক্ষে ৫ উইকেটে জেতা ম্যাচে চার নম্বরে নেমে ১০০ বলে করেছিলেন ৫৯ রান, ছয় ম্যাচে তাঁর সর্বোচ্চ ইনিংস সেটিই। বাকি ৫ ম্যাচে সৌম্যর স্কোর—৭, ৭, ১, ২৩, ৩। বোলিংয়ে অবশ্য ভালোই করেছেন। খেলাঘরের বিপক্ষে ৩ উইকেটের পর সর্বশেষ প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে নিয়েছেন ৪ উইকেট। তবে আবাহনীর বিপক্ষে দলে জায়গা ধরে রাখতে যথেষ্ট হয়নি তা।
সে-ই আবাহনী, ২০১৯ সালে যাদের হয়েই ইতিহাস গড়েছিলেন সৌম্য। প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে লিস্ট ‘এ’-তে করেছিলেন দ্বিশতক—বিকেএসপিতে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিপক্ষে ১৫৩ বলে অপরাজিত ২০৮ রান। এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের লিস্ট ‘এ’-তে একমাত্র দ্বিশতক সেটিই। গতবার প্রিমিয়ার লিগ হয়েছিল টি-টোয়েন্টি সংস্করণে, এবার আবারও ফিরেছে ৫০ ওভারের সংস্করণে।
তবে তিন বছর পর আরেকটি প্রিমিয়ার লিগে অন্য রকম বাস্তবতার মুখে দাঁড়িয়ে সৌম্য। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলে খেলেননি, সর্বশেষ বিপিএলটাও সুবিধার যায়নি তেমন। এবার দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় লিগেও দল থেকে বাদ পড়াটা সৌম্যকে আরেকটু অনিশ্চয়তার দিকেই ঠেলে দিল।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সৌম্যর সর্বশেষ ভালো সময়টা এসেছিল গত বছর। টি-টোয়েন্টি সংস্করণে নিউজিল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৫ ম্যাচের ব্যবধানে পেয়েছিলেন তিনটি অর্ধশতক। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো সিরিজসেরার পুরস্কারও পান। তবে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে নিষ্প্রভই ছিলেন, যদিও সুযোগ মিলেছিল বিশ্বকাপ দলে। কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ ১০ ইনিংসে এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান দুই অঙ্ক ছুঁতে পেরেছেন মাত্র দুবার!
বিশ্বকাপের পর পাকিস্তান সিরিজে জায়গা হারিয়েছিলেন, জাতীয় দলে এখনো ফেরা হয়নি তাঁর। বিসিবির সর্বশেষ কেন্দ্রীয় চুক্তিতেও জায়গা হয়নি।
তবে যে ঘরোয়া ক্রিকেট দিয়ে নিজের দাবিটা জোরালো করবেন, সৌম্য পিছিয়ে পড়ছেন সেখানেও। সর্বশেষ বিপিএলে খুলনা টাইগার্সের হয়ে ৯ ম্যাচে ২৩.৪২ গড় ও ১০৯.৩৩ স্ট্রাইক রেটে করেছিলেন ১৬৪ রান। অবশ্য অপরাজিত ৮২ ও ৪৩ রানের দুটি ইনিংসই ছিল, যা বলার মতো।
২০১৪ সালে অভিষেকের পর তিন সংস্করণ মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত ১৪৩টি ম্যাচ খেলেছেন সৌম্য। ইনিংস উদ্বোধন করানো, তিনে খেলানো, এমনকি ‘ফিনিশার’-এর ভূমিকাতেও পাঠানো হয়েছিল তাঁকে। তবে দলে জায়গাটা দৃঢ় করতে পারেননি, এবার তো বাদ পড়লেন ঘরোয়া ক্রিকেটের দল থেকেও।
নতুন এই অভিজ্ঞতা বড় একটা পরীক্ষার সামনেই দাঁড় করিয়ে দিয়েছে সৌম্যকে।