রামোস নিজেও ভেবেছিলেন, ওটা পেনাল্টি

বলটা রামোসের হাতেই লেগেছিল।ছবি: রয়টার্স

এইবারের মাঠে কাল রাতে সের্হিও রামোসের ট্যাকলটি অনেক দিন মনে থাকবে রিয়াল মাদ্রিদ–সমর্থকদের। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার তখন প্রায় ৮ মিনিট বাকি। ২-১ গোলে এগিয়ে রিয়াল। স্বাগতিক ডিফেন্ডার পেদ্রো বিগাস একা পেয়েছিলেন রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে।

কিন্তু পাশ থেকে রামোসের নিখুঁত ট্যাকলে সে যাত্রায় দলকে সমতায় ফেরাতে পারেননি বিগাস। পরে রিয়াল আরও একটি গোল পেলেও রামোসের এই ট্যাকল ছিল আলোচনায়। দলের জন্য রামোসের নিজেকে নিংড়ে দেওয়া নতুন কিছু না। এভাবে নিজেকে সমর্পণ করতে গিয়ে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় লাল কার্ড দেখা কিংবা হ্যান্ডবল করা রিয়াল অধিনায়কের জন্য যেন ডাল-ভাত। কালও এমন এক হ্যান্ডবলের কারণে পেনাল্টি হজম থেকে বেঁচে যান রামোস।

হ্যান্ডবল করেও পেনাল্টি থেকে বেঁচে গেছেন রামোস।
ছবি: রয়টার্স

ম্যাচে তখন ৮২ মিনিট। এইবারের জাপানি স্ট্রাইকার ইয়োশিনোরি মুতোর হেড রিয়ালের বক্সে রামোসের হাতে লেগেছিল। কিন্তু রেফারি হোসে লুইস মুনুয়েরা পেনাল্টির বাঁশি বাজাননি। এইবার খেলোয়াড়েরা পেনাল্টির আবেদনও করেছিলেন। রেফারি তাতে কর্ণপাত করেন। সেটি পেনাল্টি ছিল কি না, তা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে স্পেনের সাবেক রেফারি হুয়ান আন্দুজার অলিভার মনে করেন মাঠে রেফারি পেনাল্টি দিতে পারতেন।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’কে অলিভারের ব্যাখ্যা, ‘মুতোর সামনে রিয়ালের সেন্টার ব্যাক তার শরীর ও কনুই নিয়ে গেছে। বল ও গোলের মাঝে জায়গা দখল করেছে। এইবারের পক্ষে পেনাল্টি দেওয়া উচিত ছিল।’ এইবার কোচ হোসে লুইস মেন্দিলিবারও পেনাল্টি না পেয়ে হতাশ, ‘বলটা তার হাতে লেগেছে এবং আমার কাছে তা পেনাল্টি বলেই মনে হয়েছে।’

এইবার কোচ এরপর ভিডিও অ্যাসিসট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির কোনো ভূমিকা না রাখারও সমালোচনা করেন। রামোস নিজেও নাকি ভেবেছিলেন ওটা পেনাল্টি, এমন কথাই ম্যাচ শেষে বলেছেন মেন্দিলিবার, ‘রামোস নিজেও ভেবেছিল পেনাল্টি। সে পরে খেলোয়াড়দের এমন কথাই বলেছে। অন্য সময় তারা দুই-তিন মিনিট ধরে ক্যামেরা দেখে নানা কোণ থেকে। কিন্তু আজ (কাল রাতে) তারা প্রায় ২০ সেকেন্ডে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ওদিকে (ভিএআর) তাকানোর প্রয়োজনও মনে করেনি। জানি না ভিএআর কি নির্দেশনা দিত। এটা যে পেনাল্টি ছিল না, তা কি পরিষ্কার?’

মেন্দিলিবার অবশ্য মনে করেন, হ্যান্ডবলের ক্ষেত্রে ‘এমন হয়। পেনাল্টি কি না তা কেউ নিশ্চিত হতে পারে না। এমনকি রেফারিও নিশ্চিত হতে পারে না।’ এদিকে রিয়াল কোচ জিনেদিন জিদান পেনাল্টি হওয়া না–হওয়া নিয়ে সব সিদ্ধান্ত ছেড়ে দেন রেফারির ওপর। তাঁর মতে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মাঠে রেফারি ছিলেন। তাই এ নিয়ে তাঁর কথা বলার কোনো প্রয়োজন নেই।

এইবারের মাঠে ৩-১ গোলে জয়ের পর জিদান বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রেফারি (পেনাল্টি নয়) নিশ্চিত ছিলেন। তাই এ নিয়ে আমার কথা বলা নিষ্প্রয়োজন। সিদ্ধান্ত নিতে রেফারি মাঠে ছিলেন।’ রিয়াল ডিফেন্ডার দানি কারবাহলও কথা বলেছেন রামোসের ‘হ্যান্ডবল’ নিয়ে। তাঁর মতে, হ্যান্ডবলের নিয়ম স্বয়ং খেলোয়াড়দেরই ভালো করে জানা নেই, ‘হ্যান্ডবলটি আমি দেখিনি। কিন্তু সত্যি বলতে আমাদের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার নয়। কোনটি হ্যান্ডবল আর কোনটি হ্যান্ডবল নয়--এটা পরিষ্কার করা উচিত। কারণ প্রশ্নটা ওঠে খেলোয়াড়দের নিয়ে।’