বাংলাদেশ দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের তাদের ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই চেনা জেমি সিডন্সের। ২০০৭ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ছিলেন তিনি। সে সময় সাকিব-তামিমদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু। গত বছর ডিসেম্বরে সেই সিডন্সই যখন বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ হয়ে ফিরলেন, তখন সাকিবদের ক্যারিয়ার অনেকটাই প্রায় শেষের অধ্যায়েই।
সিডন্সের চাওয়া, বাংলাদেশ দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ক্যারিয়ারের এই শেষ অধ্যায়ের পারফরম্যান্সও যেন ঊর্ধ্বমুখী থাকে। সে জন্য কোচ হিসেবে সাহায্যের হাতটাও বাড়িয়ে দিচ্ছেন এই অস্ট্রেলিয়ান কোচ।
মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিন টিভি সম্প্রচারকদের তিনি বলছিলেন, ‘সিনিয়র খেলোয়াড়দের জন্য আমার কাজটা হলো তাদের পথ সহজ করা। তাদের ক্যারিয়ারের শেষ ৩-৪ বছর অবশ্যই সেরা ফর্মে কাটানো উচিত। গ্রাফটা নিম্নমুখী হলে চলবে না। সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে তাদের ছোটখাটো বিষয় নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন। আমরা সেগুলো নিয়েই কাজ করছি।’
মুশফিকুর রহিমের উদাহরণ দেখিয়ে সিডন্স বলেছেন, ‘আমরা সৌভাগ্যবান যে চট্টগ্রামে বেশ ভালো ব্যাটিং উইকেট পেয়েছিলাম। মুশফিক দারুণ ক্রিকেটার। তার ঘুরে দাঁড়াতে খুব বেশি কিছু দরকার পড়ে না। আমরা তার প্রস্তুতিতে ছোটখাটো কিছু পরিবর্তন এনেছি, তার পা নিয়ে কিছু কাজ করেছি, যা যথেষ্ট মনে হয়েছে। চট্টগ্রামে সে নিজেই পথ খুঁজে নিয়েছে, দারুণ ব্যাট করেছে। আমি মনে করি, এই ম্যাচের সেঞ্চুরিটি তার অন্যতম সেরা ইনিংস।’
আমার মনে হয় সবচেয়ে বড় বদলটা এসেছে পেস বোলারদের দিক থেকে। বাংলাদেশের এখন দুর্দান্ত কিছু পেসার আছে।
তবে বাংলাদেশ দলের টেস্ট ব্যাটিংয়ের বড় সমস্যার নাম ধস। দক্ষিণ আফ্রিকায় ৫৩ ও ৮০ রানে অলআউটের পর চলমান মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশ ২৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়েছে। সিডন্স প্রধান কোচ থাকা অবস্থায়ও বাংলাদেশ দলের তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে।
এখন ব্যাটিং কোচ হিসেবে সিডন্সের মূল দুশ্চিন্তা ধস থামানো, ‘আমাদের এখনো একসঙ্গে উইকেট হারানোর প্রবণতা রয়ে গেছে। এই দিকটাতে কোনো বদল আসেনি। এটা অগ্রহণযোগ্য। এই ম্যাচেই যেমন অল্প রানে পাঁচ উইকেট গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকাতেও এমন হয়েছে। আমাদের এটা দ্রুত বদলাতে হবে। আমার মনে হয় না এটা থেকে বেশি দূরে আছি। কিছু মানসিক ও কৌশলগত পরিবর্তন আনলেই আমরা দ্রুত পরিবর্তন দেখতে পাব।’
তবে বাংলাদেশ দলের ব্যাটসম্যানদের লম্বা সময় ক্রিজে পড়ে থাকার সামর্থ্য দেখে সিডন্সকে খুশিই মনে হয়েছে, ‘এখন লম্বা সময় ব্যাট করার সামর্থ্যটা দুর্দান্ত। মুশফিক, লিটন, প্রথম টেস্টে তামিম... এ জিনিসগুলো তখন (২০১১ সালে) খুব একটা দেখা যেত না। এই পরিবর্তনটা এসেছে।’
বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের পেশাদারি মনোভাবের পরিবর্তনের কথাটাও আলাদা করে বললেন এই অভিজ্ঞ কোচ, ‘তারা এখন অনেক বেশি পেশাদার। আমার মনে হয় সিনিয়ররা এখনো সেরা খেলোয়াড়, লিটনকে বাদ দিলে হয়তো, সে এখন সিনিয়র খেলোয়াড় হওয়ার পথে, অনেক টেস্ট খেলে ফেলেছে।’
দলগতভাবে পেস বোলিং বিভাগের সাম্প্রতিক সাফল্যটা সিডন্সকে আশাবাদী করে তুলছে, ‘আমার মনে হয় সবচেয়ে বড় বদলটা এসেছে পেস বোলারদের দিক থেকে। বাংলাদেশের এখন দুর্দান্ত কিছু পেসার আছে। এটা বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী দল হিসেবে গড়ে তুলবে।’