সাকিবদের চোখে চোখ রাখার সাহস হয়নি রাসেলের

রাসেলের এই ছবি দিয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সয়লাব।ছবি : কেকেআর

আন্দ্রে রাসেলের ঝড় দেখতে সেই গত মৌসুমের শুরু থেকে অপেক্ষা করছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের সমর্থকেরা। ২০১৯ আইপিএলে রাসেলের ব্যাট যেভাবে হেসেছিল, পরের মৌসুমে, এমনকি চলতি মৌসুমে শুরুর দিকেও কয়েক ম্যাচে রাসেলের ব্যাট ছিল ধারহীন।

কিন্তু চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে ব্যাটসম্যান রাসেলের সেই ঝলক আবারও দেখা গেছে। স্যাম কারেন, শার্দুল ঠাকুর আর দীপক চাহারদের কচুকাটা করে ২২ বলে ৫৪ রান করেছেন, তিন চারের সঙ্গে মেরেছেন বিশাল ছয়টি ছক্কা। পাওয়ার প্লেতে পাঁচ ব্যাটসম্যানকে হারানো কলকাতা রাসেলের ব্যাটেই দেখে আশার ঝলক। কিন্তু এরপরই ঘটে বিপত্তি। কারেনের নির্বিষ এক বল ছেড়ে দিতে গিয়ে দৃষ্টিকটুভাবে বোল্ড হন এই ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার। তাঁর আউট হওয়ার পরেই যে কলকাতার জয়ের আশা মোটামুটি শেষ হয়ে গিয়েছে, সেটা রাসেল নিজেও বুঝেছিলেন। বুঝেছিলেন বলেই আউট হওয়ার পর ড্রেসিংরুমে না গিয়ে সিঁড়িতে বসে ছিলেন অনেকক্ষণ। কী কারণে সিঁড়িতে বসে থাকা, সেটাই জানিয়েছেন রাসেল।

চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে ব্যাটসম্যান রাসেলের সেই ঝলক আবারও দেখা গেছে।
ছবি : আইপিএল

দুর্দান্ত একটা ইনিংস খেলার মধ্যে ওভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো আউট হওয়ায় ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের মুখোমুখি হওয়ার সাহস ছিল না বলে জানিয়েছেন রাসেল। কলকাতা নাইট রাইডার্সের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট কেকেআর ডট ইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাসেল বলেছেন, ‘আসলে আমি একটু আবেগপ্রবণ হয়ে গিয়েছিলাম। আমার মাথায় আসছিল না আমি কীভাবে ড্রেসিংরুমে যাব, সতীর্থদের চোখে চোখে রাখব। বিশেষ করে যেভাবে বল ছেড়ে দিতে গিয়ে বোল্ড হলাম; এরপর আমার আসলেই সাহস ছিল না।’

মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে সেদিন আউট হওয়ার পর ক্রিজ থেকে ড্রেসিংরুমের রাস্তাটা যেন শেষই হচ্ছিল না রাসেলের জন্য। মাঝপথে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গিয়ে থেমে গেলে নতমুখে বসে রইলেন কিছুক্ষণ। সেই ছবি দিয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সয়লাব।

কারেনের নির্বিষ এক বল ছেড়ে দিতে গিয়ে দৃষ্টিকটুভাবে বোল্ড হন রাসেল।
ছবি : আইপিএল

রাসেল বুঝেছিলেন, সেদিন তাঁর ব্যাট কথা বললেও দলের জয়ের জন্য অতটুকু যথেষ্ট ছিল না। চেন্নাইয়ের করা ২২০ রানের জবাবে জিততে হলে ইনিংসটা আরও বড় করতে হতো। আরও বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে হতো। আরও বেশি রান করতে হতো, ‘দেখুন, আমি যখন আউট হলাম, তখনো আমার কাজ শেষ হয়নি। আমি চেয়েছিলাম একদম শেষ পর্যন্ত ক্রিজে থেকে দলকে জিতিয়ে আসতে। যাহোক, শেষমেশ একটু বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু এখন ঠিক আছি।’

সেদিন রাসেলের পর অস্ট্রেলিয়ান পেসার প্যাট কামিন্সের ব্যাটেও দেখা মিলেছিল ঝড়ের। এত কিছুর পরেও ২০১ রানে থেমে গিয়েছিল কলকাতার ইনিংস। টানা তিন ম্যাচ হারের পর আজ রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে রাত আটটায় আবারও মাঠে নামবে কলকাতা। লক্ষ্য শুধুই জয়। না হয় প্লে-অফের আশা যে মরীচিকার মতো উবে যাচ্ছে আস্তে আস্তে!