স্মিথের ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’কে পেলেন কোহলিরা
ভারতকে পেলেই যেন স্টিভ স্মিথের ব্যাট দুধারি তলোয়ার হয়ে ওঠে। ভারতীয়দের বিপক্ষে ১০ টেস্টে ১ হাজার ৪২৯ রান তোলা হয়ে গেছে এই ডানহাতি ব্যাটসম্যানের। সেঞ্চুরি করেছেন ৭টি, গড়ও অনবদ্য—৮৪.০৫।
৩১ বছর বয়সী এই তারকা এবারও যে নিজেদের মাঠে ভারতীয়দের ছেড়ে বলবেন না, সেটা বোঝা গেছে ওয়ানডে সিরিজেই। ভারতীয় বোলারদের কচুকাটা করে তুলে নিয়েছেন দুই সেঞ্চুরি।
টেস্টেও কি একই স্মিথের দেখা মিলবে? হয়তো মিলবে। তবে এই স্মিথকে কীভাবে থামানো যায়, তার উপায় বাতলে দিয়েছেন একজন।
তিনি স্মিথেরই দেশের মানুষ। এক রকম ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’ হয়েই ভারতীয়দের সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে স্মিথকে আউট করার পদ্ধতি জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই স্পিনার।
কী সেই পদ্ধতি? শুনুন হগের মুখেই, ‘দিবারাত্রির গোলাপি বলের টেস্টে স্মিথকে আউট করতে আমি ইনসুইং ও আউটসুইং করে স্পিন করার চেষ্টা করতাম।
ইনসুইং করতে গেলে আমি চেষ্টা করতাম যেন সে এলবিডব্লু হয়। আর আউটসুইং করতে চাইলে আমি পয়েন্টে ফিল্ডার রাখতাম, আর ওকে আউটসুইং দিয়ে ওই দিকে মারতে প্রলুব্ধ করতাম।’
হগ মনে করেন, স্মিথকে আউট করার ক্ষেত্রে ভারতের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হতে পারেন ডানহাতি স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। এ ক্ষেত্রে অশ্বিন তাঁর উচ্চতা কাজে লাগাতে পারেন বলে মনে করেন হগ। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৭ টেস্ট খেলা ‘চায়নাম্যান’ এ স্পিনার বলেন, ‘স্মিথ যখন মাঠে নামবে, ওর বিপক্ষে আমি ডিপ স্কয়ার লেগে কোনো সুইপার রাখতাম না। এ পর্যায়ে আমি অশ্বিনকে নিয়ে আসতাম এবং স্মিথ যে শটটা ইনিংসের শুরুতে একদমই খেলতে চায় না, সেই শটটাই খেলার জন্য বাধ্য করতাম।’
হগ ব্যাখ্যা করেন, ‘অশ্বিনের বাড়তি উচ্চতা আছে, এর সাহায্যে ও সহজেই স্মিথকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলতে পারে, বিশেষ করে সে যদি বলে সামান্যতম স্পিনও পায়। ব্যাট-প্যাডের ফাঁক দিয়ে একটা সুযোগ সে পেয়েই যাবে এভাবে।’
২০১৪-১৫ সিরিজে ভারতের বিপক্ষে ১২৮.১৬ গড়ে ৭৬৯ রান তুলেছিলেন স্মিথ। ২০১৮-১৯ সিরিজে খেলতে পারেননি। বল বিকৃতির দায় মাথায় নিয়ে তখন ডেভিড ওয়ার্নার আর ক্যামেরন ব্যানক্রফটের সঙ্গে মাঠের বাইরে শাস্তি কাটাচ্ছিলেন।
এবার তাই স্মিথের ভালো করার আগ্রহ আরও বেশি। সে আগ্রহে ভারত পানি ঢালতে পারে, যদি হগের বাতলে দেওয়া উপায় কাজে লাগে!