'টেস্ট খেলোয়াড়' মুমিনুলের ওয়ানডেতে ১৩৩ বলে ১৮২

>২০১৫ সালের পর ওয়ানডে দলে সুযোগ না পাওয়া মুমিনুল হক আয়ারল্যান্ডে ‘এ’ দলের হয়ে সিরিজের চতুর্থ একদিনের ম্যাচে ১৩৩ বলে ১৮২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেছেন। ২৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় তিনি এ রান করেন। প্রথমে ব্যাট করে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৮৬ রান তুলেছে বাংলাদেশ ‘এ’
মুমিনুল হককে টেস্ট খেলোয়াড় বানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ৬ বছরের ক্যারিয়ারে ওয়ানডে খেলেছেন ২৬টি। আর ৫ বছরে টেস্ট খেলেছেন ২৯টি। অথচ সুযোগ পেলেই জানান দিয়েছেন, যে খেলতে পারে, সব সংস্করণেই পারে। এমনকি বিপিএলেও হেসেছে তাঁর ব্যাট। আজ আরও একবার সুযোগ পেতেই ঝলসে উঠলেন। তাতেই পুড়ে গেলেন আইরিশ বোলাররা।
স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে আজ ১৩৩ বলে ১৮২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেছেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের অধিনায়ক। ইনিংসে ২৭টি চার, ছয় আছে ৩টি। ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৮৫ রান তুলেছে বাংলাদেশ। ৩৮৭ রানের কঠিন লক্ষ্যটা আয়ারল্যান্ড ‘এ’ পেরিয়ে যেতে পারবে কি? না পারলে সিরিজে ২-১-এ এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথমটি বৃষ্টিতে ভেসে যায়। এর পর দুই দল একটি করে ম্যাচ জিতেছে। বাংলাদেশের সামনে শুধু সিরিজে এগিয়ে যাওয়া নয়; সিরিজ না-হারাও নিশ্চিত করার সুযোগ।
এমন ম্যাচে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন স্বয়ং অধিনায়ক। তৃতীয় ওভারে নেমে দুর্ভাগ্যজনক রানআউটের শিকার হয়েছেন ৪৫তম ওভারে। অন্যথায় ডাবল সেঞ্চুরি হয়তো হয়েই যেত। না হলেও ১৮২ রানের ইনিংসটি স্বীকৃত লিস্ট–এ বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংস। সর্বোচ্চ ১৯০ রান আছে রকিবুল ইসলামের।
ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খেয়েছিল বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারেই দলীয় ৬ রানে আউট হন মিজানুর রহমান (৪)। এর পরে ওয়ান ডাউনে নেমে অন্য ওপেনার জাকির হোসেনের সঙ্গে ২১০ রানের জুটি গড়েন মুমিনুল। ৩৪তম ওভারের প্রথম বলে ব্যক্তিগত ৭৯ রানে জাকির ফিরে যান। কিন্তু তাতেও মুমিনুলের ঝড় থামেনি। তৃতীয় উইকেট জুটিতে মোহাম্মদ মিথুনের সঙ্গে ১১২ রানের জুটি গড়েন। মিথুন ৫১ বলে ৮৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।
৩৯ বলে ফিফটি করা মুমিনুল সেঞ্চুরি করেছেন ৮১ বলে। শুরু থেকেই বেশ মেজাজে ছিলেন বোঝা যায়। এর মধ্যে ৪২তম ওভারের চতুর্থ বলে একদিনের ম্যাচে নিজের ক্যারিয়ার-সেরা স্কোর নতুন করে লেখান। এর আগে মুমিনুলের সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ১৫১ রানের।
আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে অবশ্য কোনো সেঞ্চুরি নেই। সর্বোচ্চ ৬০ রানের ইনিংস আছে একটা। এ ছাড়া আর ফিফটি করেছেনই মাত্র দুবার। ২৩.৬০ গড়। তবু নির্বাচকেরা দায় এড়াতে পারবেন না। ওয়ানডেতে নিয়মিত ধারাবাহিক সুযোগ যে পাননি, ওয়ানডের চেয়ে ৩টি টেস্ট বেশি খেলা সেটাই বলছে।
জাতীয় দলে যখন তরুণ ক্রিকেটারদের ব্যাট সেভাবে হাসছে না, মুমিনুল তখন নির্বাচকদের একটা বিকল্প এনে দিতে পারেন।