'শত্রুশিবিরে' মুরালি

‘যস্মিন কন্ডিশনে যদা-বোলিং’। তিন টেস্টের সিরিজ খেলতে শ্রীলঙ্কা সফরে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। স্পিনের অস্ত্রটা শাণিয়ে নেওয়া দরকার। এ জন্য যোগ্যতম লোকটিকে দলেই ভিড়িয়েছে তারা। অস্ট্রেলীয় স্পিনারদের এই সিরিজে প্রশিক্ষণ দেবেন মুত্তিয়া মুরালিধরন!

পেশাদারির এই যুগে নিজের সাবেক দলের প্রতি টান কম থাকতে পারে, তাই বলে অস্ট্রেলিয়ার ড্রেসিংরুমে মুরালি! এই অস্ট্রেলিয়াই তো স্পিনজাদুকর মুরালিকে সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে। তাঁর ক্যারিয়ারটাই খুন হতে বসেছিল অস্ট্রেলিয়ার আম্পায়ার আর দর্শকদের কারণে। মুরালি নিজেও অস্ট্রেলিয়াকে কম ভোগাননি। সেটা অবশ্য বোলার হিসেবেই।

মুরালি অস্ট্রেলিয়ার পরামর্শক হিসেবে আপাতত এই সিরিজেই শুধু কাজ করবেন। এরই মধ্যে নেটে নাথান লায়ন, স্টিভ ও’কিফের সঙ্গে কাজও করতে দেখা গেছে তাঁকে। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কাজ করতে কোনো আপত্তি নেই তাঁর, ‘আমি শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে আর কোনোভাবেই যুক্ত নই। অন্যরা এখানে কাজ করছে। অস্ট্রেলিয়া আমাকে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে দুবার প্রস্তাব দিয়েছে। আমিও ভাবলাম, করলে অসুবিধা কী। এতে আমার জ্ঞান আমি অন্য কাউকে দিতে পারব, হোক না সেটা আমার কিংবা অন্য কারও দেশ।’

২০১৪ সালেও সংক্ষিপ্ত মেয়াদে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে কাজ করেছিলেন। ৮০০ টেস্ট উইকেটের মালিককে পেয়ে খুশি অস্ট্রেলিয়াও। অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ বলেছেন, ‘শ্রীলঙ্কায় মুরালির অভিজ্ঞতার ভাঁড়ার পরিপূর্ণ। ভূরি ভূরি উইকেট সে নিয়েছে। এই সিরিজে ওর মতো একজন আমাদের বোলারদের যে সাহায্য করছে, অভিজ্ঞতাগুলো আমাদের ভাগাভাগি করছে, এটা সত্যিই দারুণ। এখন পর্যন্ত ও আমাদের দলে দারুণ করছে, সে নিজেও সময়টা উপভোগ করছে।’

এর আগে ইংল্যান্ডের পরামর্শক হিসেবে প্রতিপক্ষ শিবিরে কাজ করেছেন মাহেলা জয়াবর্ধনে। সেটিও মাত্র ১০ দিনের মতো। তাতেই শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট এর ‘নৈতিক’ দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। এবার তো মুরালি কাজ করবেন পুরো তিন টেস্ট, সেটিও অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের হয়ে। দেখা যাক, কী প্রশ্ন ওঠে। সূত্র: রয়টার্স, ক্রিকইনফো।