জেমস বন্ডকে বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছিলেন শন কনারি।
জেমস বন্ডকে বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছিলেন শন কনারি। ছবি : টুইটার

জন্মেছিলেন স্কটল্যান্ডে। যুক্তরাজ্যের পূর্বাংশের এই দেশটায় যে জন্মায়, হয় সবুজ-সাদা, নয় নীলরঙা জার্সি গায়ে কাটিয়ে দেয় বাকি জীবন। সেল্টিক কিংবা রেঞ্জার্সের সমর্থক হিসেবে। শন কনারিও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। বিখ্যাত ‘ওল্ড ফার্ম ডার্বি’র উন্মাদনা ছুঁয়ে গিয়েছিল তাঁকেও। শেষমেশ বেছে নিয়েছিলেন সেল্টিকের সবুজ-সাদাকে। প্যাটসি গ্যালাকার, জিমি ম্যাকগ্রোরিদের দেখে তাঁরও সাধ হয়েছিল, সবুজ মাঠে চর্মগোলক নিয়ে শিল্প সৃষ্টি করার। শেষমেশ ফুটবলার হওয়ার সাধকে টেক্কা দিয়েছিল কনারির অভিনয়-সত্তা। পরে ফুটবলার নয়, অভিনেতা হয়েই কাটিয়ে দিলেন জীবনটা। সেটিও খ্যাতির চূড়ায় থেকেই। জীবনের ইতি টানলেন গতকাল। নব্বই বছর বয়সে প্রয়াণ হলো ক্ষণজন্মা এই তারকার।

default-image

ফুটবলার হতে পারেননি দেখে কনারির সঙ্গে ফুটবলের সম্পর্ক যে চুকেবুকে গেছে, তা কিন্তু নয়। আজীবন নিজেকে ফুটবল-ভক্ত হিসেবে পরিচয় দিয়ে গেছেন সর্বপ্রথম এই ‘জেমস বন্ড’। ব্রাজিল তারকা রোনালদিনিওর সঙ্গে বার্সেলোনার জার্সি হাতে কনারির ছবিটা এখনো ইন্টারনেটের আনাচ-কানাচে খুঁজে পাওয়া যাবে। শুধু সেল্টিক-রেঞ্জার্স দ্বৈরথই নয়, কনারির মনে ফুটবলপ্রেম বাড়িয়ে দিয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ফুটবল বেশ ভালোই খেলতেন, সেটা চোখ এড়ায়নি কিংবদন্তি ইউনাইটেড ম্যানেজার স্যার ম্যাট বাসবির। বিখ্যাত ‘বাসবি বেবস’ এর অংশ হিসেবে ইউনাইটেডে আনতে চেয়েছিলেন কনারিকে। প্রস্তাব দিয়েছিলেন, প্রতি সপ্তাহে ২৫ পাউন্ড করে আয় করতে পারবেন ইউনাইটেডের হয়ে খেললে। তখন বনিরিগ রোজ নামের এক আধা পেশাদার স্কটিশ ক্লাবের হয়ে খেলতেন কনারি। প্রস্তাবটা প্রায় লুফেই নিয়েছিলেন, শেষমেশ জিতে যায় অভিনয়ের প্রতি তাঁর ভালোবাসা।

বিজ্ঞাপন

পরে ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কনারি নিজেই বলেছিলেন সেই অভিজ্ঞতার কথা, ‘আমি ফুটবল ভালোবাসতাম অনেক, ফলে বাসবির প্রস্তাবটা গ্রহণ করতে চেয়েছিলাম। পরে ফুটবলার না হয়ে অভিনেতা হলাম। ভেবে দেখলাম, শীর্ষ পর্যায়ে ফুটবল হয়তো তিরিশ বছর বয়স পর্যন্ত খেলতে পারব, এর পর কী হবে কেউ জানে না। কিন্তু অভিনেতা হলে আরও অনেক বছর খেয়ে-পরে থাকতে পারব। আমার বয়স তখন এমনিতেই তেইশ হয়ে গিয়েছিল (ইউনাইটেডের প্রস্তাব পাওয়ার সময়)। দেখা গেল, এই সিদ্ধান্তটা আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠতম সিদ্ধান্ত ছিল।’

default-image

অথচ সিদ্ধান্তের একটু বদল হলে জর্জ বেস্ট, ডানকান এডওয়ার্ডস, ববি চার্লটনদের সঙ্গে মাঠে নামতে দেখা যেত কনারিকেও। তা না করে হলেন অভিনেতা। বলা হয়ে থাকে, বন্ড সিরিজের উন্মাদনা আর ব্র্যান্ড ভ্যালু শনেরই তৈরি। অন্য বন্ডরা সেটিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন কেবল। প্রথম পাঁচটি ছবির পরও ১৯৭১ ও ১৯৮৩ সালে ‘ডায়মন্ডস আর ফরএভার’ ও ‘নেভার সে নেভার অ্যাগেইন’ ছবিতে আবারও বন্ড হিসেবে দেখা দেন তিনি। বন্ড সিরিজের এই সাত ছবিই বাণিজ্যিকভাবে সফল।

ছোট বয়সে সেল্টিককে মন দিলেও, পরে সেই ভালোবাসার নিক্তিটা ঝুঁকে পড়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রেঞ্জার্সের দিকে। রেঞ্জার্স কিংবদন্তি পল গ্যাসকোয়েনের সঙ্গে ছিল তাঁর সুসম্পর্ক। সাবেক রেঞ্জার্স তারকা লিওনেল শার্বোনিয়ের যেমন বলেছেন, প্রায় সময়ই রেঞ্জার্সের খেলা দেখতে আসতেন কিংবদন্তি এই অভিনেতা। রেঞ্জার্সের সভাপতি ডেভিড মারের খুব কাছে বন্ধু ছিলেন কনারি। এই ডেভিড মারের কারণেই সেল্টিক ছেড়ে রেঞ্জার্সের শুভানুধ্যায়ী হয়েছিলেন কনারি।

বলাই যায়, মৃত্যুর মাধ্যমে শুধু বিনোদন জগৎই যে একজন কিংবদন্তি হারিয়েছে তা নয়, ফুটবলবিশ্বও হারিয়েছে একজন অনুরাগীকে।

মন্তব্য পড়ুন 0