কিছুদিন আগে আরেক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ফুটবল নিয়ে করা টুইটের ১ শতাংশই হয়রানিমূলক। ইউরো ও নেশনস কাপ ফাইনালে অংশ নেওয়া ৫৫ শতাংশ খেলোয়াড়কেই কোনো না কোনোভাবে হেনস্তা করা হয়েছে অনলাইনে। আফকনে সবচেয়ে বেশি হেনস্তা করা হয়েছে সালাহকে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হয়রানিমূলক বার্তা ছিল বর্ণবাদী। ইতালির কাছে ইংল্যান্ডের হারের পর করা হয়রানিমূলক সব বার্তার ৭৮ ভাগই ছিল বর্ণবাদী কিংবা সমকামিতার ইঙ্গিতপূর্ণ। এ দুজন ছাড়া আর যে খেলোয়াড়কে বেশি হেনস্তা করা হয়েছে, তিনি জ্যাডন সাঞ্চো। সেদিন পেনাল্টি মিস করা ইংল্যান্ডের তৃতীয় কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড় ইউনাইটেডের এই উইঙ্গার।

এই সমীক্ষায় আরেকটি বিষয় দেখা গেছে, পেনাল্টির আগে হয়রানিমূলক বার্তা খুব কমই ছিল। এর অধিকাংশই ছিল সমকামিতার ইঙ্গিতপূর্ণ। কিন্তু পেনাল্টি শুটআউটের পর হঠাৎ সব বদলে যায়। এ থেকে এই উপসংহার টানা হয়েছে যে কোনো টুর্নামেন্টে বা ম্যাচে হয়রানি তুলনামূলক কম হলেও ছোট একটা অনুঘটক সব বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে বর্ণবাদী আচরণের ব্যাপারে যাঁরা দায়সারা আচরণ করেন, তাঁদের জন্য এটা বড় শিক্ষা।

default-image

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্ণবাদী আচরণের বিরুদ্ধে ফিফার লড়াইয়ের চেষ্টার অংশ এই গবেষণা। কারণ, কিছুদিন আগে আরেক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ফুটবল নিয়ে করা টুইটের ১ শতাংশই হয়রানিমূলক। ইউরো ও নেশনস কাপ ফাইনালে অংশ নেওয়া ৫৫ শতাংশ খেলোয়াড়কেই কোনো না কোনোভাবে হেনস্তা করা হয়েছে অনলাইনে। আফকনে সবচেয়ে বেশি হেনস্তা করা হয়েছে সালাহকে। ফাইনালে সেনেগালের কাছে হেরে গিয়েছিল সালাহর মিসর।

আফকন ফাইনালে হেনস্তার শিকার হয়েছেন সালাহ ও মানে দুজনই। দুজনের ক্ষেত্রেই অবশ্য হেনস্তার কারণ ধর্ম। তাঁদের ক্ষেত্রে ইসলাম বিরোধী আচরণ দেখিয়েছেন হেনস্তাকারীরা।

ফিফা আশা করছে, ভবিষ্যতে খেলোয়াড়দের হেনস্তার হাত থেকে রক্ষা করতে বাড়তি ভূমিকা নিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করবে তাদের এই গবেষণা।

default-image

টুইটার ও ফেসবুক বারবার এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিলেও একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এই দুই ফাইনাল উপলক্ষে করা হয়রানিমূলক বার্তাগুলোর ৫৮ ভাগই এখনো রয়ে গেছে ওয়েবসাইটগুলোয়। আর সমকামী বিদ্বেষমূলক পোস্টগুলো মোছার ক্ষেত্রে বিস্ময়কর ব্যর্থতা দেখা গেছে।

গত জুলাইয়ে হওয়া ইউরো ফাইনালে বর্ণবাদী নয়, এমন হয়রানিমূলক বার্তার ৮৭ ভাগই এপ্রিলে রয়ে গেছে। ইতালিয়ান খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্য করে করা বর্ণবাদী বার্তাও মুছতে অনাগ্রহ দেখা যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর। অধিকাংশ ক্ষেত্রে টুইটার বা ফেসবুক দাবি করেছে, এসব বার্তা যাঁরা পাঠান, তাঁদের খুঁজে পাওয়া কঠিন। কিন্তু ফিফার গবেষণায় দেখা গেছে, হয়রানিমূলক বার্তা পাঠানোর পর মুছে ফেলা ৯০ শতাংশ অ্যাকাউন্টই খুব সহজে খুঁজে পাওয়া যেত।

বিদেশি অ্যাকাউন্ট থেকে বেশি হেনস্তা করা হয় বলে ধারণা ছিল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, নিজ দেশের মানুষের হাতেই হেনস্তা বেশি হচ্ছেন ফুটবলাররা। এসব ক্ষেত্রে ক্লাব পর্যায়ে দ্বৈরথও প্রভাব ফেলছে। লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের খেলোয়াড়েরা প্রতিপক্ষের সমর্থকদের কাছ থেকে বেশি হেনস্তার শিকার হন।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন