default-image
>আবাহনী-মোহামেডান দেশের ফুটবলের দুই ‘চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী’। কিন্তু দর্শকপ্রিয় দুই ক্লাবের লড়াইয়ে উত্তাপটা উধাও হয়ে গেছে প্রায় এক যুগ আগেই। স্টেডিয়াম-পাড়া দূরে থাক, দুই ক্লাব চত্বরেও পাওয়া যায় না লড়াইয়ের কোনো আমেজ। এটা যেন দেশের ঘরোয়া ফুটবলে আর দশটা সাধারণ ম্যাচের মতোই একটা কিছু।

‘কখনো সময় আসে, জীবন মুচকি হাসে...।’ কবির সুমনের গানটা গুনগুনিয়ে গাইতে পারতেন আবাহনী-মোহামেডানের পাঁড় সমর্থকেরা। সময়টা এমনই যে, দর্শকদের উদ্দেশে বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেলের সুরে বলতে হয়, ‘আজ আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ আছে। আপনার জ্ঞাতার্থে প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় পর্বে সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল। হ্যাঁ ভাই!’ ঘাড় ঘুরিয়ে বলতে পারেন আবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী! আসলেই আবাহনী-মোহামেডানের পাশে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী কথাটি শুনলে এখন ন্যাকামো মনে হয়।

আবাহনী-মোহামেডান দেশের ফুটবলের দুই ‘চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী’। কিন্তু দর্শকপ্রিয় দুই ক্লাবের লড়াইয়ে উত্তাপটা উধাও হয়ে গেছে প্রায় এক যুগ আগেই। স্টেডিয়ামপাড়া দূরে থাক, দুই ক্লাবে চত্বরেও পাওয়া যায় না লড়াইয়ের কোনো আমেজ। এটা যেন দেশের ঘরোয়া ফুটবলে আর দশটা সাধারণ ম্যাচের মতোই একটা কিছু। হবে নাই-বা কেন! ব্যর্থতার স্তূপ জমতে জমতে মোহামেডান যে আরও ডুবতে বসেছে। তারা আবাহনীর কাছ থেকে এক পয়েন্টও যদি পায়, তা হবে জয়ের সমান। আর আবাহনীর সামনে ইতিমধ্যে শিরোপা হারানোর শঙ্কা। পয়েন্ট হারালে একেবারেই লিগ রেস থেকে ছিটকে যাওয়ার ভয়।

এমন ম্যাচের আগে ঐতিহ্যবাহী দুই দল অবস্থান করছে দুই মেরুতে। পার্থক্যের ব্যবধান এমনই যে আবাহনী নামবে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকতে আর মোহামেডান অবনমন বাঁচানোর লড়াইয়ে। ২০ ম্যাচে ৫১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। আর ১৯ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে নবম স্থানে মোহামেডান। লিগের প্রথম পর্বে সাদা কালোদের ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল আকাশী-নীলরা।

মোটাদাগে পরিসংখ্যান আছে আরও। চলতি মৌসুমে ফেডারেশন কাপ ও স্বাধীনতা কাপ—দুটির গ্রুপ থেকেই বিদায় নিয়েছে সাদা-কালোরা। আর ফেডারেশন কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আবাহনী। গত দশটি পেশাদার খ্যাত প্রিমিয়ার লিগে ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। মোহামেডানের ঘরে ওঠেনি একটি শিরোপাও। এমনকি শেষ কয়েকটি লিগে লড়াইয়ের ধারেকাছেও থাকে না সাদা-কালোরা। দুই দলের খেরোখাতা শুনলে আর দ্বৈরথটা চোখে ভাসার কথা নয়। তবুও চাইলে শুধুই নামের কারণে আজকের ম্যাচটাকে করা যায় আলাদা। কপাল ভালো হলে ফিরতে পারেন উপভোগ্য একটি ফুটবল ম্যাচ দেখার আনন্দ নিয়ে।

এ ম্যাচ দিয়েই অবসরে যাবেন বলেন ঘোষণা দিয়েছেন মোহামেডানের জার্সিতে বিভিন্ন সময়ে দশ বছর খেলা এনামুল হক শরিফ। বিদায়বেলায় তাঁকে একটা জয় বা ন্যূনতম ড্রয়ের সম্মানে বিদায় জানাতে পারবেন তো জাহিদ হাসান এমেলিরা? ৩৭ বছর বয়সী মিডফিল্ডার শরিফ এই আশাটুকু করতেই পারেন!

এই চাওয়ার সমান্তরালে আবাহনীর লড়াইয়ের টিকে থাকতে চাওয়া যদি মিলে যায়, তবেই কিন্তু হবে জমজমাট একটা লড়াই! ‘হলে হোক, তাতে আমার কী!’ কিছুদিন আগেও এই দ্বৈরথ নিয়ে উত্তেজনায় ভোগা সমর্থকটা হয়তো গাল ফুলিয়ে এমনটাই ভাবছেন। তবু তিনিও স্মৃতির কলরোলে একটু নস্টাললিজ না হয়ে পারেন না। আবাহনী বনাম মোহামেডান...বিগত-যৌবনা হলেও সেই চিরকালীন দ্বৈরথের একটি হয়েই থেকে যাবে।

সময় থাকলে মাঠে আসুন!

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন