বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। ২০০৫ সালে অনুষ্ঠিত পরের সাফে রানার্সআপ। এরপর গত ১৬ বছরে কেবল ২০০৯ সালে দেশের মাটিতে সেমিফাইনালে ওঠা ছাড়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশ ফুটবলের বড় হাহাকারের নাম। আজ তাই নেপালের বিপক্ষে জয়ই সেই হাহাকার মেটানোর কাছে নিয়ে যাবে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের আপাত চাওয়া খুবই ছোট—সাফের ফাইনাল। পরেরটা পরে দেখা যাবে। গত ১৬ বছর দেশের ফুটবলের নামতে নামতে এমন একটা জায়গায় গিয়ে ঠেকেছে যে এখন সাফের ফাইনালে উঠলেই বর্তে যায় বাংলাদেশ। অথচ, এমনটা হওয়ার ছিল না। ১৮ বছর আগেই আমরা সাফ জিতেছিলাম। আমাদের লক্ষ্যটা পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল অনেক উঁচুতে। কিন্তু সেটি হয়নি। হয়নি যখন, তখন আজকের জয়টাই আরাধ্য। এই জয়টাই হয়তো বড় স্বপ্নের দিগন্ত উন্মোচন করে দিতে পারে বাংলাদেশের ফুটবলের সামনে।

default-image

জাতীয় দলের একের পর এক ব্যর্থতায় দেশের ফুটবল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার মতো অবস্থা। দৃশ্যটা না বদলালেই নয়। যেকোনো আড্ডায় দেশের ফুটবল নিয়ে কথা উঠলেই, ‘আরে ধুর, দেশের ফুটবল।’ কত হতাশা থেকে এমন অভিব্যক্তি, সেটা না বোঝার কোনো কারণ নেই। হারতে হারতে একেবারেই তলানিতে নেমে র‍্যাঙ্কিংয়ের ১৮৯ তে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। তবুও হঠাৎ আসা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি জয়ে বা ১০ খেলোয়াড় নিয়ে ভারতের বিপক্ষে ড্রয়ে আবারও হেসে উঠে ফুটবল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায় জামালদের নিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে আশাবাদী মানুষের মতো স্ট্যাটাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে দেশের ফুটবলে এখন নানা রকম সমর্থক গোষ্ঠী। আগের মতো উন্মাদ আর জমজমাট না হলেও সাম্প্রতিক সাফল্যের বিবেচনায় তাঁদের পাগলাটে সমর্থক উপাধি দেওয়ায় যায়।

default-image

সর্বশেষ ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে ২-০ গোলের হারটা এক পাশে সরিয়ে রাখুন। মনের রিপ্লেতে চালিয়ে নিন আগের দুই ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় ও ভারতের বিপক্ষে ড্রয়ের পরের চিত্র। আবেগেই তপু বর্মণকে বাংলার রামোস কিংবা ইয়াসিন আরাফাতকে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা লেফটব্যাক খেতাব দিয়ে বসে আছে এই দেশের মানুষ। দেশের ফুটবল নিয়ে মুখ গোমড়া করে থাকা মানুষগুলোও নিতে শুরু করেছে ফুটবলের খোঁজ। এরপর স্বাগতিক মালদ্বীপের বিপক্ষে হেরে যাওয়ার পর সে উত্তেজনা কমে এসেছে সত্য। তবে নেপালকে হারিয়ে ঠিকই দেখিয়ে দেবে অস্কার ব্রুজোনের বাংলাদেশ, এই বিশ্বাস নিয়েই আজ টিভির পর্দায় চোখ রাখবে দেশের মানুষ।

যে বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রথম একাদশের ছয়জন খেলোয়াড়ের বয়স ২৩ এর নিচে। এই তরুণেরাই তো ‘জাগো বাংলাদেশে’র প্রেরণা। অর্ণবের গানের কথাগুলো থেকেও অনুপ্রেরণা নিতে পারে বাংলাদেশ দল, ‘রাতভর ঘুম...নেই আঁধার শুধু আলো...জাগো বাংলাদেশ...জাগো’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন