চ্যাম্পিয়নস লিগে মাঠে নামার আগে অনুশীলনে রিয়াল মাদ্রিদ।
চ্যাম্পিয়নস লিগে মাঠে নামার আগে অনুশীলনে রিয়াল মাদ্রিদ। ছবি: এএফপি

‘প্রথম ম্যাচে হারের পর এই ম্যাচের গুরুত্ব আমরা জানি। জয়ের চাপ আছে আমাদের ওপর। এই ম্যাচটা ফাইনালের চেয়ে কমও না বেশিও না’—সংবাদ সম্মেলনে আগেই ঘোষণা করেছেন রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার টনি ক্রুস। আর কয়েক ঘণ্টা পরই বরুসিয়া ম’গ্লাডবাখের মাঠে রিয়ালের এ মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। হার দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে শুরু করা রিয়াল আজও হারলে ইতিহাস জিনেদিন জিদানের দলের বিপক্ষে দাঁড়াবে।

কীসের ইতিহাস—সে কথায় আসার আগে মাদ্রিদের দুটি ক্লাবের সাম্প্রতিকতম অবস্থা জেনে নেওয়া ভালো। সবশেষ ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনাকে ৩-১ গোলে হারিয়ে চাপ কিছুটা কমিয়েছে রিয়াল। কিন্তু বার্সাকে তারা হারিয়েছে লা লিগায়, তার আগে শাখতার দোনেৎস্কের মতো সাদামাটা ক্লাবের কাছে হেরেছে চ্যাম্পিয়নস লিগে। যতই ‘এল ক্লাসিকো’ জিতুক আজ চ্যাম্পিয়নস লিগে ঘুরে দাঁড়ানোর চাপটা তাই থাকবে রিয়ালের ওপর।

বিজ্ঞাপন

ওদিকে আতলেতিকোর অবস্থাও মাদ্রিদের শ্রেয়তর ক্লাবটির মতো। চাপটা আছে ঘুরে দাঁড়ানোর। বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ৪-০ গোলের হারে চ্যাম্পিয়নস লিগ শুরু করে সিমিওনের দল। এরপর লা লিগায় রিয়াল বেতিসকে ২-০ গোলে হারিয়ে রিয়ালের মতো আতলেতিকোও জয়ের পথে ফিরেছে। আজ তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়ান ক্লাব সালজবুর্গ। ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় আতলেতিকো এর আগে কখনো এই দলের মুখোমুখি হয়নি। অজানা না হলেও অচেনা সালজবুর্গের বিপক্ষে তাই সিমিওনের দলের একটু সাবধানী থাকাই স্বাভাবিক।

default-image

ম’গ্লাডবাখ অবশ্য রিয়ালের কাছে একেবারে অচেনা কোনো দল নয়। দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ৩৫ বছর আগে—১৯৮৫ উয়েফা কাপে। দুই লেগ মিলিয়ে অ্যাওয়ে গোলের হিসেবে পরের রাউন্ডে উঠেছিল রিয়াল। সেই স্মৃতি আজকের লড়াইয়ে বড়জোর মানসিক প্রেরণা হিসেবে কাজ করতে পারে করিম বেনজেমা-এডেন হ্যাজার্ডদের জন্য।

হ্যাজার্ড! ভুল পড়েননি। চোটের কারণে রিয়ালের হয়ে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে ছিলেন বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হ্যাজার্ড চোট সারিয়ে ওঠায় তাঁকে জার্মানিতে নিয়ে গেছেন রিয়াল কোচ জিদান। তাঁকে খেলানোর পরিকল্পনা আছে ফরাসি কিংবদন্তির। তেমন কিছু ঘটলে দীর্ঘ ৮১ দিন পর হ্যাজার্ডকে মাঠে দেখা যাবে রিয়ালের জার্সিতে। সর্বশেষ ৭ আগস্ট এই চ্যাম্পিয়নস লিগেই ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন হ্যাজার্ড।

default-image

রিয়ালের সামনে আবার চোখ রাঙাচ্ছে ইতিহাস। ম’গ্লাডবাখের বিপক্ষে হারলে ভীষণ বেকায়দায় পড়ে যাবে জিদানের দল। তখন শেষ ষোলোয় ওঠা নিয়েই লড়াই কঠিন হয়ে যাবে রিয়ালের। আর ইতিহাসও বলছে, চ্যাম্পিয়নস লিগে গত ২০ বছরে প্রথম দুই ম্যাচ হারের পর কখনো শিরোপা জিততে পারেনি কোনো ক্লাব। গত ২০ বছরে শুধু দুটি ক্লাব গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে ড্র করার পর শিরোপা জিততে পেরেছে—২০১০ ইন্টার মিলান ও ২০০৪ সালে পোর্তো। তখন এ দুটি দলেরই কোচ ছিলেন জোসে মরিনিও।

বিজ্ঞাপন
default-image

জিদানের জন্য এ ম্যাচটা অন্য দিক বিচারেও অর্থবহ। সেটি ফ্রান্স জাতীয় দলে তাঁর সাবেক সতীর্থ লিলিয়ান থুরামের জন্য। ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী দলে সতীর্থ ছিলেন দুজন। সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে থুরাম জোড়া গোল না করলে ফ্রান্সের সেবার ফাইনালে ওঠা হতো না। তার এক বছর আগে জন্ম হয় মার্কাস থুরামের—সাবেক ফরাসি ডিফেন্ডারের ছেলে। মার্কাস অবশ্য বাবার মতো রাইটব্যাক হননি, তিনি এখন ম’গ্লাডবাখের ফরোয়ার্ড।

শুধু ইতিহাস নয়, সাবেক সতীর্থের ছেলেকে আটকানোর কৌশলও আঁটতে হবে জিদানকে।

মন্তব্য পড়ুন 0