কুমিল্লায় কাল আবাহনী–মোহামেডান ম্যাচে গ্যালারিতে বাদল রায়ের ছবিতে মালা পরিয়েছেন সমর্থকেরা
কুমিল্লায় কাল আবাহনী–মোহামেডান ম্যাচে গ্যালারিতে বাদল রায়ের ছবিতে মালা পরিয়েছেন সমর্থকেরাছবি: এম এ সাদেক

এমন কত আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচেই ছিলেন তিনি। ১৯৮৬ সালে আবাহনীর বিপক্ষে সেই বিখ্যাত লিগ ম্যাচে মোহামেডানের অধিনায়কের বাহুবন্ধনী ছিল বাদল রায়ের হাতে। কলকাতা থেকে চিমা ওকোরি, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য ও ভাস্কর গাঙ্গুলীকে এনেও সেদিন মোহামেডানকে হারাতে পারেনি আবাহনী।

তুলনামূলক কম শক্তির মোহামেডান সেই বিকেলে বিজয় মিছিল করেছিল ঢাকা স্টেডিয়ামে। ইলিয়াস ও মনুর গোলে মোহামেডান ২-০ গোলে জিতে যায় দেশ কাঁপানো আবাহনী-মোহামেডান লড়াইয়ে।

সাদা-কালোর অধিনায়ক হিসেবে ম্যাচটির কথা সব সাক্ষাৎকারেই বলতেন কুমিল্লার ক্রীড়াঙ্গনের বড় মুখ হয়ে ওঠা বাদল রায়।

১৯৭৭-৮৯ পর্যন্ত মোহামেডানে কাটানো বাদল রায় আজ স্মৃতির পাতায় ঠাঁই নিয়েছেন। গত ২২ নভেম্বর তিনি চলে গেছেন অনন্তের পথে। কিন্তু কুমিল্লাবাসী তাঁকে ভোলেনি। শহরে, গ্রামে, গল্পে-আলোচনায় নামটি ঘুরেফিরেই আসে। 

বিজ্ঞাপন

কাল যেমন এই নগরে একটু বেশিই স্মরণে এলেন মোহামেডানের প্রয়াত তারকা। কুমিল্লার ভাষাসৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে না থেকেও প্রবলভাবে থাকলেন কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ থেকে উঠে আসা সাবেক এই ফুটবলার। এই মাঠেই ফুটবল খেলে বড় হয়েছেন বাদল রায়।

ম্যাচের ২০ মিনিটের সময় পশ্চিম প্রান্তের মোহামেডান গ্যালারিতে হঠাৎ ঢোলের শব্দ। একদল সমর্থক বাদল রায়ের ছবিতে মালা পরিয়ে নিয়ে এসেছেন। তাঁরা মিছিল করতে করতে গ্যালারি প্রদক্ষিণ করেন। ভক্তরা ধর্মীয় রীতিতে স্মরণ করলেন প্রয়াত তারকাকে। ভক্তদের অনেকের গায়ে জড়ানো ছিল সাদা-কালো পতাকা।

default-image

কুমিল্লা স্টেডিয়ামের প্রধান ফটকে গতকাল পর্যন্ত বাদল রায় স্মরণে একটি ব্যানার ঝুলছিল। স্থানীয় সোনালী অতীত ক্লাবের উদ্যোগে এই ব্যানার টাঙানো হয়। কাল ব্যানারটি দেখা গেল স্টেডিয়ামের আরও ভেতরে।

ভিআইপি বক্সের দিকে এগোলে চোখে পড়ে সেটি। ব্যানারে প্রয়াত ফুটবলারের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়েছে। ১৯৭৭ সালে বাদল রায় মোহামেডানে গিয়েছিলেন ট্রায়াল দিতে। তাঁকে ট্রায়ালে নিয়ে যান ‘ভানু দা’ নামে কুমিল্লার ক্রীড়াঙ্গনে পরিচিত মোহামেডানেরই সাবেক ফুটবলার প্রণব কুমার।

কুমিল্লা স্টেডিয়ামে কাল আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচের ফাঁকে স্মৃতিচারণায় প্রথম আলোকে তিনি বলছিলেন, ‌‘বাদল নেই ভাবতেই পারি না। সে আমাদের হাতের ওপর দিয়েই বড় হয়েছে। ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। কুমিল্লার গর্ব ছিল বাদল। ওর আত্মার শান্তি কামনা করছি।’

স্থানীয় সংগঠক থেকে শুরু করে সবার মুখেই বাদল রায়ের নানা স্মৃতি। কুমিল্লায় প্রিমিয়ার লিগের ভেন্যু নেওয়ার ব্যাপার অগ্রণী ভূমিকা রেখে গেছেন বাফুফের সাবেক এই সহসভাপতি। তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি করলেন স্থানীয় অনেক ফুটবলপ্রেমী।

তাঁরা বলেছেন, বাদল রায় হতে পারেন নতুনদের জন্য আদর্শ। তাঁর সফল জীবন থেকে শিক্ষা নিতে পারে আজকের নবীনেরা। কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আহসান ফারুক বললেন, ‘বাদল রায়ের স্মৃতি অবশ্যই বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন।’

default-image

প্রয়াত বাদল রায়ের স্ত্রী মাধুরী রায়েরও কাল কুমিল্লায় আসার কথা ছিল। কিন্তু অন্য একটি কাজে আটকে যাওয়ায় আসতে পারেননি। বাদল রায়ের জীবনী নিয়ে একটি তথ্যচিত্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন তাঁর কন্যা। আগামী সোমবার বাদল রায়ের স্ত্রী-কন্যার কুমিল্লায় আসার কথা।

কুমিল্লার ক্রীড়ামহলে বাদল রায়ের স্মৃতি অম্লান থাকবে সব সময়ই। গ্যালারিতে বাদল রায়কে স্মরণ যেন সেটিই জানিয়ে দিল।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন