আর্জেন্টিনা থেকে ম্যানচেস্টার—আগুয়েরোর নাম নিতেই হবে সবাইকে
জীবনে বহু বিচিত্র জিনিস দেখেছেন হোর্হে আরিজা। তাই বলে এমন চমক জাগানো কিছু দেখেছেন কি না, হাজার মাথা চুলকিয়েও মনে করতে পারলেন না।
স্থানীয় রুটির দোকানে কাজ করেন ভদ্রলোক। তাই বলে অন্য কিছুতে যে মন দিতে পারেন না, তা নয়। ফুটবল–অন্তঃপ্রাণ মানুষটা সময় পেলেই ছুটে যান বুয়েনস এইরেসের ভিয়া ইতালিয়া আর কিলমেসের বিভিন্ন মাঠে-প্রান্তরে, যেখানে স্থানীয় লিগগুলোর খেলা চলে। বাচ্চা থেকে শুরু করে বুড়ো—সবাই খেলে। পাকা জহুরির চোখ তাঁর। বাচ্চাদের খেলা দেখে আগামী দিনের ম্যারাডোনা বা বাতিস্তুতা খুঁজে বেড়ান। আনকোরা প্রতিভা বের করে তুলনামূলক বড় ক্লাবে নিয়ে যান ট্রায়ালের জন্য। সেই আরিজাই হতবাক হয়ে গেলেন এক শিশুর কাণ্ড দেখে।
নাহ্। সে বিশেষ শিশুটি মাঠে খেলছিল না। গতির ঝলকে ছিটকে দিচ্ছিল না ডিফেন্ডারদের, বাঁ পায়ের কাজে মন্ত্রমুগ্ধ করছিল না দর্শকদের। করবে কীভাবে? সে যে মাঠেই ছিল না!
ছিল সাইডলাইনে। মাঠের মধ্যে রুদ্ধশ্বাস খেলা চলছে, কিন্তু মাঠের ভেতরের উত্তেজনার চেয়ে মাঠের বাইরে সাইডলাইনে থাকা ওই শিশুর উত্তেজনাই যেন স্পর্শ করছিল সবাইকে। মাঠে খেলতে থাকা বয়সে অনেক বড় একজনকে একের পর এক নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছিল—‘এখান দিয়ে দৌড় দাও’, ‘ওই ডিফেন্ডারকে চার্জ করো’—উপস্থিত দর্শকদের সবাই খেলা দেখার চেয়ে ওই শিশুর কাণ্ড দেখেই মজা পাচ্ছিলেন। জানা গেল, মাঠে ওই শিশুরই বাবা খেলছেন। আর বাবাকে বাইরে থেকে নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছে ছেলে। এমন দৃশ্য কে দেখেছে কবে!
আরিজা তখনই বুঝে গেলেন, ফুটবল নিয়ে বয়সের তুলনায় অনেক বেশি জানে-বোঝে সেই শিশু। আর যে এত বোঝে, তার খেলোয়াড়ি প্রতিভাও হয়তো তাক লাগানোই হবে! স্থানীয় সাংবাদিক এদুয়ার্দো গঞ্জালেসের সাহায্য নিয়ে আরিজা ছেলেটিকে নিয়ে গেলেন জনপ্রিয় আর্জেন্টাইন ক্লাব ইন্দিপেন্দিয়েন্তের দরজায়। প্রায় দুই দশক পর সেই শিশুই ইন্দিপেন্দিয়েন্তে, আতলেতিকো মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার সিটি আর বার্সেলোনা পর্ব শেষ করে গতকাল অবসরের ঘোষণা দিল। পর্দা নামল বর্ণাঢ্য এক অধ্যায়ের।
পর্দা নামল সের্হিও ‘কুন’ আগুয়েরোর খেলোয়াড়ি জীবনের। আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন, বুটজোড়া তুলে রাখছেন আজীবনের জন্য।
দুই ধরনের খেলোয়াড় বিশ্বমঞ্চে আনার জন্য বিখ্যাত আর্জেন্টিনা। ছোটখাটো গড়নের ‘নাম্বার টেন’, পায়ের কারুকাজ ও গতির মিশেলে যাঁরা দর্শকদের মোহগ্রস্ত করে রাখতে পারেন। ওমর সিভোরি থেকে শুরু করে ডিয়েগো ম্যারাডোনা, হুয়ান রোমান রিকেলমে, আরিয়েল ওর্তেগা, পাবলো আইমাররা এই দলের সদস্য। আরেক দলে আছেন শক্তিশালী ‘নাম্বার নাইন’—যাঁরা প্রথাগত স্ট্রাইকার। গতি, মুভমেন্ট, অবস্থানগত চাতুরী ও শারীরিক শক্তির সমন্বয়ে চকিতে ডিফেন্ডারকে ছিটকে ফেলে মুড়িমুড়কির মতো গোল করতে পারেন। মারিও কেম্পেস থেকে শুরু করে গাব্রিয়েল বাতিস্তুতা, এর্নান ক্রেসপো, গঞ্জালো হিগুয়েইনরা আছেন এই দলে।
লিওনেল মেসি কিংবা সের্হিও আগুয়েরোর ক্যারিয়ারকে আপনি এই ছকে ফেলতে পারবেন না। তাঁরা কখনো নাম্বার টেনের মতো গোলে সহায়তাও যেমন করেছেন, নাম্বার নাইনের মতো গোল করে দলের সাফল্যে অবদানও রেখেছেন। এ ক্ষেত্রে মেসির পাশে আগুয়েরোর নামটা দেখে অনেকে ভ্রু কুঁচকাতে পারেন। হ্যাঁ, গোলদাতা হিসেবে আগুয়েরোর ক্ষমতা সন্দেহাতীত। তাই বলে আড়ালে আগুয়েরো এতগুলো গোলে সহায়তাও যে করেছেন, তা কে মনে রেখেছে? গোটা ক্যারিয়ারে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৭৯ গোল করা আগুয়েরো ১৪৬ গোলে সহায়তাও করেছেন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে গোলের দিক দিয়ে সেরা স্ট্রাইকার অ্যালান শিয়ারার যেখানে গোলে সহায়তা করেছেন সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মাত্র ১১১ বার।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে খেলতে আসা বিদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ গোল আগুয়েরোর। শীর্ষ তিনে থাকা তিন ইংলিশ স্ট্রাইকার শিয়ারার (২৬০), ওয়েইন রুনি (২০৮) ও অ্যান্ডি কোলের (১৮৭) পরেই আগুয়েরোর অবস্থান (১৮০)। চোট আর পেপ গার্দিওলার কৌশলের সঙ্গে নিয়মিত টক্কর দিতে না হলে আর এক মৌসুমের মধ্যেই যে অন্তত রুনিকে ছাড়াতে পারতেন, তা নিশ্চিত। প্রিমিয়ার লিগে শিয়ারারের হ্যাটট্রিক যেখানে ১১টা, এক ডজন হ্যাটট্রিক নিয়ে সে তালিকায় সবার ওপরে হাসিমুখে আগুয়েরোই আছেন। প্রতি ১০৮ মিনিটে একটা করে গোল করেছেন আগুয়েরো, প্রিমিয়ার লিগে এত নিয়মিত আর কেউ গোলের মুখ দেখেননি।
প্রিমিয়ার লিগে এক ক্লাবের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ডটাও আগুয়েরোর। অথচ রুনি যেখানে ১৭ বছর বয়স হতে না হতেই ইংলিশ লিগে খেলা শুরু করেছিলেন, আগুয়েরো সেখানে ইংল্যান্ডে এসেছেনই ২৩ বছর বয়সে! সিটিতে নয় মৌসুম খেলেছেন, যার মধ্যে আট মৌসুমেই অন্তত ১৬টি করে গোল করেছেন। ছয় মৌসুমে গোল করেছেন অন্তত ২০টি। যার মধ্যে পাঁচবার আবার টানা! প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে আলোচিত ও ঘটনাবহুল গোলটাও এসেছে তাঁর পা থেকেই। গোল করা বা করানোর ক্ষেত্রে যে স্ট্রাইকার এত বেশি দক্ষ, অঁরি-রোনালদোদের তুলনায় সে স্ট্রাইকার যেন আজীবনই একটু আড়ালে থেকে গেছেন। প্রিমিয়ার লিগে খেলতে আসা বিদেশিদের মধ্যে পছন্দের তিনজনের তালিকা করতে বলা হলে কয়জনের তালিকায় আগুয়েরো থাকবেন?
থিয়েরি অঁরি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, এরিক ক্যান্টোনা, ডেনিস বার্গক্যাম্প, দিদিয়ের দ্রগবা, ফার্নান্দো তোরেস, মোহাম্মদ সালাহ, লুইস সুয়ারেজ, রয় কিন, প্যাট্রিক ভিয়েরা, সেস ফ্যাব্রিগাস, দাভিদ সিলভা, লুকা মদরিচ কিংবা ক্লদ ম্যাকেলেলেদের ভিড়ে আগুয়েরোর নামটা খুঁজে পাওয়া যাবে খুব কম। এমনকি প্রিমিয়ার লিগের জনপ্রিয় ও আলোচিত স্ট্রাইকারদের তালিকাতেও অঁরি, রুনি, শিয়ারার, বার্গক্যাম্প, ফন পার্সি, সুয়ারেজ, তোরেস বা দ্রগবাদের স্ট্রাইকারদের নামই বেশি শোনা যাবে। পাঁড় ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থক না হলে আগুয়েরোকে নিয়ে প্রিমিয়ার লিগ–ভক্তদের অতটা আদিখ্যেতা নেই।
হয়তো এর পেছনে ম্যানচেস্টার সিটির সের্হিও আগুয়েরোর জার্সির রঙের বড় ভূমিকা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, আর্সেনাল, চেলসির কিংবা লিভারপুলের মতো ঐতিহ্যবাহী ও সমর্থনপুষ্ট ক্লাবে খেলেননি। এমন একটা ক্লাবে খেলেছেন, যাদের সাফল্যের পুরোটাই বলতে গেলে এসেছে গত এক যুগে। ব্যক্তিগত জীবনটাও একদমই রংচঙে নয়। যত দিন ম্যারাডোনার মেয়ে জিয়ান্নিনার স্বামী ছিলেন, তত দিন যা একটু মাঠের বাইরের কারণের জন্য সংবাদমাধ্যমগুলোর আকর্ষণের কারণ হয়েছিলেন। না হলে চুপচাপ, শান্তশিষ্ট, নিজের বাসায় একা থেকে দিনরাত প্লে-স্টেশনের খেলায় মেতে থাকা আগুয়েরোর নিস্তরঙ্গ জীবন নিয়ে আলোচনা হবে কেন? ক্যান্টোনা, রুনি, সুয়ারেজ কিংবা রোনালদোর বর্ণিল জীবনের বিতর্কিত কাণ্ড আকছারই সংবাদপত্রগুলোর শিরোনাম হয়েছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ড তাঁদের মুখপাত্র হিসেবে তাঁদের মতো তারকাদেরই চেয়েছে বারবার। সে তালিকায় আগুয়েরোর অবস্থান অনেক নিচে। যে কারণে ভরা মজলিশে পছন্দের বিদেশি স্ট্রাইকারের নাম করতে গেলে তাই অনেকেই আগুয়েরোর নামটা বেমালুম ভুলে যান। অথচ প্রিমিয়ার লিগের ফরোয়ার্ডের মান উন্নয়নে আগুয়েরোর ভূমিকাও কিন্তু কম নয়।
ইংলিশ লিগে আগে স্ট্রাইকার বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠত শারীরিকভাবে শক্তিশালী এমন এক খেলোয়াড়, যিনি শুধু প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের মধ্যে ওত পেতেই বসে থাকেন। সতীর্থের কাছ থেকে বল পাওয়ামাত্র যেকোনোভাবে জালে জড়ানোর মধ্যেই যাঁর দায়িত্বের সীমারেখা। শিয়ারার, ক্রিস সাটন, রবি ফাওলার, ইয়ান রাশ কিংবা ইয়ান রাইটরা খেলতেন এভাবে।
স্ট্রাইকারদের এই ভূমিকা আস্তে আস্তে বদলাতে শুরু করে প্রিমিয়ার লিগে ক্যান্টোনা জিয়ানফ্রাঙ্কো জোলা ও বার্গক্যাম্পদের আসার মাধ্যমে। ইংলিশদের মধ্যে মাইকেল ওয়েন ও ম্যাট লে টিসিয়েররাও এমন ভিন্ন ভূমিকায় খেলতে পারদর্শী ছিলেন। তাঁরা আদর্শ নাম্বার নাইনের মতো বক্সে ঢুকে গোলও যেমন করতে পারতেন, প্রয়োজনে একটু নিচে নেমে খেলা গড়েও দিতে পারতেন। ম্যাচের ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারতেন, কোচের পরিবর্তনশীল কৌশলের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারতেন। এই শতকের শুরুতে ক্যান্টোনা আর বার্গক্যাম্পদের খেলার ধরনে উদ্বুদ্ধ হয়ে রুনি, ফন পার্সি, আগুয়েরো আর সুয়ারেজদের আবির্ভাব ঘটে ইংলিশ লিগে। মজার ব্যাপার, ওয়েনের খেলা দেখে মুগ্ধ হয়েই আগুয়েরো তারকা হওয়ার স্বপ্ন বুনেছিলেন ছোটবেলায়। পরে নিজেই ওয়েনদের লিগে খেলতে এসে সবাইকে দেখিয়ে দিলেন, যেকোনো কোচের যেকোনো কৌশলে মূল অস্ত্র হওয়ার সামর্থ্য আছে তাঁর।
খেলোয়াড়ি সামর্থ্যের দিকে আঙুল যখনই উঠেছে, নিজেকে প্রমাণ করেছেন দুর্দান্তভাবে। আতলেতিকোতে ফার্নান্দো তোরেস বা দিয়েগো ফোরলানের সহকারী স্ট্রাইকার হিসেবে একটু পেছনে খেলার জন্য কাউকে দরকার? ডাকো আগুয়েরোকে। এদিন জেকো, আলভারো নেগ্রেদো কিংবা মারিও বালোতেল্লির, কার্লোস তেভেজের সঙ্গে একাদশে খেলার জন্য দ্বিতীয় স্ট্রাইকার দরকার? আগুয়েরো তো আছেন! পেছনে ডি ব্রুইনা, দাভিদ সিলভা, রিয়াদ মাহরেজ কিংবা রাহিম স্টার্লিংদের রেখে একক স্ট্রাইকার হিসেবে কাউকে খেলাতে হবে? ওই যে সের্হিও আগুয়েরো তো আছেই!
গোল করা বা করানোর ক্ষেত্রে আগুয়েরোর দক্ষতা অসাধারণ হলেও প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের হেনস্তা করে বল কেড়ে নেওয়া, নিরন্তর প্রেস করা, সমানে দৌড়ে যাওয়া—এ কাজগুলো অত ভালোভাবে করতে পারতেন না। গত এক দশকে আধুনিক স্ট্রাইকারদের ভূমিকার তালিকায় যেগুলো যুক্ত হয়েছে। পেপ গার্দিওলা সিটিতে আসার সঙ্গে সঙ্গেই পালমেইরাস থেকে কিনে আনলেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার গাব্রিয়েল জেসুসকে। সবাই ভাবলেন, মূল স্ট্রাইকার হিসেবে আগুয়েরোর দিন শেষ বুঝি।
বিধাতা হয়তো ওপর থেকে মুচকি মুচকি হাসছিলেন। গার্দিওলাকে সন্তুষ্ট করার জন্য নিজের খেলার ধরনে পরিবর্তন আনলেন আগুয়েরো। জেসুস সিটিতে যোগ দেওয়ার পর সিটির জার্সিতে যতগুলো গোল করেছেন (৪১), আগুয়েরো করেছেন তাঁর চেয়েও বেশি (৬৭)। ফলে যা হওয়ার তা–ই হলো, গার্দিওলার মূল স্ট্রাইকার হিসেবে আগুয়েরোই রইলেন, ওদিকে সিটির মূল স্ট্রাইকার হিসেবে এখনো নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি জেসুস! বিশ্বমানের খেলোয়াড়েরা তো এমনই হন, নিজের দক্ষতা ও অধ্যবসায় দিয়ে জিতে যান একের পর এক চ্যালেঞ্জ।
গোটা জীবনেই একের পর এক এমন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। সুস্থভাবে জন্মাতে পারেন কি না, সেটা নিয়েও দেখা দিয়েছিল সন্দেহ। মা আদ্রিয়ানার কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে চিড় ধরা কণ্ঠাস্থি নিয়ে জন্মাতে পারেন আগুয়েরো, এমনটা অনুমান করেছিলেন চিকিৎসকেরা।
জন্মানোর সময়েও সে কী ঝক্কি! বুয়েনস এইরেসের যে এলাকায় আগুয়েরোর মা–বাবা থাকতেন, এর পাশের নদীতে ভাঙন হয় সেবার। আশপাশের সব বাড়িঘর তলিয়ে যায়। এর মধ্যে প্রসববেদনায় কাতর আদ্রিয়ানাকে নিয়ে বাস আর ট্রেন মিলিয়ে তিন ঘণ্টার ভ্রমণ শেষে গঞ্জালেস কাতান হাসপাতালে নিয়ে যান লিওনেল দেল কাস্তিয়ো। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে আগুয়েরো জন্ম নেন সুস্থভাবেই। জন্মানোর সময়ে এত শত নেতিবাচকতা এড়িয়ে যে ছেলে সুস্থভাবে পৃথিবীর আলো দেখতে পারে, পেশাগত জীবনের কি সাধ্যি তাঁর চলার পথে কাঁটা ফেলার?
জাপানি কার্টুন ‘ওয়ানপাকু আমুকাশি কুম-কুম’–এর মূল চরিত্র ‘কুম-কুম’–এর বড় ভক্ত ছিলেন ছোটবেলা থেকেই। গোটা বাড়িঘর মাতিয়ে বল নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতেন আর সে চরিত্রের মতো ‘কুম-কুম’ বলে বেড়াতেন। ছোট ছিলেন, ঠিকভাবে উচ্চারণও করতে পারতেন না শব্দটা। কুম-কুম না বলে ‘কুন-কুন’ বলে দৌড়াতে থাকতেন ঘরময়। নাতির মুখে সে শব্দ শুনে নাতির ডাকনামই ‘কুন’ রেখে দিয়েছিলেন আগুয়েরোর দাদা।
কুন-কুন বলতে বলতে ছোটাছুটি করতে থাকা ছোট্ট সেই আগুয়েরোর ক্যারিয়ার-শেষের সাফল্য দেখে ওপর থেকে দাদাও সন্তুষ্টির হাসি হাসছেন নিশ্চিত!