বিজ্ঞাপন
default-image

ফুটবলে লাল কার্ডের অর্থ খুব পরিষ্কার। খেলার অধিকার হারিয়ে ফেলেছেন ফুটবলার, তাঁকে এবার মাঠ ছাড়তে হবে। সোজা কথায়, গলাধাক্কা দেওয়া যাকে বলে। ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষিতে তাই নিজের বার্তাটা একটু অভিনব উপায়ে জানিয়েছে ওজিল। তুরস্কের বংশোদ্ভূত এই ফুটবলার যে ছবিটি দিয়েছেন, তার দুটি চরিত্র। একটি শিশু ও আরেকটি সৈনিক। বাঁহাতি একটি বল ধরে শিশুটি তাকিয়ে আছে এক সৈনিকের দিকে। সে যে ইসরায়েলের সেটা বুঝতে কারও কষ্ট হচ্ছে না। গত কয়েক দিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, সংবাদমাধ্যম আর টিভি পর্দায় এ পোশাক হরহামেশা দেখা যাচ্ছে।

সম্মুখ লড়াইয়ের জন্য পুরো প্রস্তুত সে যোদ্ধার সামনেই নির্বিঘ্নে দাঁড়িয়ে আছে সে শিশু। তার গায়ে একটি জার্সি। তাতে একটি নাম লেখা, ওজিল। জার্সি নাম্বার ২৩ আর জার্সির রংটা কালো। এটুকুতেই যে কোনো ফুটবল ভক্ত বুঝে যাবেন কোন দলের জার্সি এটি। রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে যখন মাত্রই আলো ছড়ানো শুরু করেছিলেন, তখন এই ২৩ নম্বর জার্সিটাই পরতেন। তো ওজিলের জার্সি পর একদিন ওজিল হওয়ার স্বপ্ন দেখা সে বালক বাঁ হাতে ফুটবল ধরে আছে। তার ডান হাত ব্যস্ত অন্য কাজে। যোদ্ধার মুখের ওপর লাল কার্ড দেখিয়ে দিচ্ছে, বার্তাটা পরিষ্কার, ‘এখানে তুমি অনাহূত, বেরিয়ে যাও।’
ওজিলের এই ছবি ও বার্তা বুঝতে কারও ভুল হয়নি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মাত্র ৩ ঘণ্টায় ৯২ হাজার ভালোবাসা পেয়েছেন ওজিল। ১৩ হাজারের বেশি অনুসারী এই ছবি নিজেদের ওয়ালে টেনে নিয়ে রিটুইট করেছেন।

ওজিলের আগে অনেক ফুটবল তারকাই এ নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন। ইন্টার মিলানের মরোক্কান রাইটব্যাক আশরাফ হাকিমি থেকে শুরু করে বায়ার্ন মিউনিখের লেফটব্যাক আলফোনসো ডেভিস, রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক মিডফিল্ডার নুরি সাহিন—সবাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন ইসরায়েলের বিপক্ষে। লিভারপুলের মিসরীয় ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ তো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে ট্যাগ দিয়ে এখনই এই নির্বিচারে গণহত্যা থামাতে বলেছেন, ‘আপনাদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে এই নৃশংসতা থামান। নিরস্ত্র, নিরপরাধ মানুষকে নির্বিবাদে হত্যা করা হচ্ছে, এটা থামান। এখনই। যথেষ্ট হয়েছে।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন