শট নিচ্ছেন ইয়াসিন।
শট নিচ্ছেন ইয়াসিন। ছবি: প্রথম আলো

রহমতগঞ্জের বিপক্ষে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মাত্র ২৩ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধার ডিফেন্ডার মাহাদুদ হোসেন। এবারের প্রিমিয়ার লিগ এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেখল আরেকটি ঝোড়োগতির গোল। আজ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে মাত্র ৩০ সেকেন্ডে গোল করেছেন সাইফ স্পোর্টিংয়ের ডিফেন্ডার ইয়াসিন আরাফাত।

রেফারি ভুবন মোহন তরফদার মাত্রই খেলা শুরুর বাঁশি বাজিয়েছেন। বক্সের সামান্য বাইরে থেকে ফয়সাল আহমেদের বাড়িয়ে দেওয়া বলে ইয়াসিন বুদ্ধিদীপ্ত শটে করেন গোলটি। ব্রাদার্স ডিফেন্ডার মুন্নু মিয়া ক্লিয়ার করতে গিয়েও ব্যর্থ হন। গোল খেয়ে বোকার মতে বসে রইলেন ব্রাদার্স গোলরক্ষক জাফর সরদার!

দুর্বল ব্রাদার্সের বিপক্ষে জয়টা একরকম অনুমিতই ছিল সাইফ স্পোর্টিংয়ের। কোচহীন ব্রাদার্স লিগে মাঝি ছাড়া নৌকার মতোই খেলছে। ১২ ম্যাচে মাত্র ১টা জয়। ২ ড্র, ৯টিতেই হার। লিগের ১৩ দলে ১২তম। ভঙ্গুর এই দলের বিপক্ষে জিততে তাই খুব বেশি কষ্ট করতে হয়নি সাইফ স্পোর্টিংকে। গোপীবাগের দলটির বিপক্ষে সহজেই সাইফ জিতেছে ৪-০ গোলে।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচে জন ওকোলি করেছেন জোড়া গোল। ১টি করে গোল করেছেন ইয়াসিন আরাফাত ও কেনেথ ইকেচুকু। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলা সাইফের সামনে বলতে গেলে একরকম অসহায় লেগেছে ব্রাদার্সকে। রক্ষণ সামলে মাঝেমধ্যে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেছেন ব্রাদার্সের ফরোয়ার্ডরা। কিন্তু তাতেও সফল হননি কেউ।

default-image

ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়া সাইফকে ১৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোল এনে দিয়েছেন কেনেথ ইকেচুকু। বল নিয়ে রহিম উদ্দিন বক্সে ঢুকলেও নিজে গোল না করে বল বাড়িয়ে দেন কেনেথকে, এই নাইজেরিয়ান করেছেন ২-০। আরেকটি গোল পেতে পারতেন কেনেথ, কিন্তু ২৭ মিনিটে তাঁর শটটি ক্রসবারে লেগে ফেরে।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক খেলেছে সাইফ। ৭২ মিনিটে জন ওকোলির গোলের পর ম্যাচে ফেরার আশা একেবারেই শেষ হয়ে যায় ব্রাদার্সের। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে বক্সে ঢোকেন ওকোলি, সামনে তখন শুধুই ব্রাদার্স গোলকিপার জাফর। সহজেই জাফরকে ফাঁকি দিয়ে ওকোলি করেন ৩-০।

৮১ মিনিটেই প্রথম বলার মতো আক্রমণ ছিল ব্রাদার্সের। বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার জোরালো শট নেন ছামির উল্লাহ, কর্নারের বিনিময়ে সেটি ফিরিয়ে দেন সাইফ গোলরক্ষক পাপ্পু হোসেন। ম্যাচের ৮৩ মিনিটে ব্রাদার্সের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন জন ওকোলি। ব্রাদার্স গোলরক্ষক জাফর অনেকটা এগিয়ে আসেন জায়গা ছেড়ে, সেই সুযোগে ওকোলি করেন ৪-০।

default-image

বেলজিয়ান কোচ পল পুট চলে যাওয়ার পর সাইফের দায়িত্বে সহকারী কোচ জুলফিকার মাহমুদ। ডাগআউটে প্রধান কোচের ভূমিকায় দাঁড়িয়ে জুলফিকার পরপর দুই ম্যাচেই জিতলেন। ১২ ম্যাচে ৭ জয়, ১ ড্র, ৪ হারে ২২ পয়েন্ট নিয়ে চারে উঠে এল সাইফ স্পোর্টিং।

মুন্সিগঞ্জে দিনের অন্য ম্যাচে আরামবাগকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে রহমতগঞ্জ। জয়ী দলের মেহবুব হাসান করেছেন জোড়া গোল। ১টি করে গোল করেছেন ক্রিস্ট রেমি ও খুরশেদ বেকনাজারভ। আরামবাগের সান্ত্বনার গোলটি নিহাত জামানের। এ নিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করলেন আরামবাগের এই মিডফিল্ডার।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন