একটা সময় মেসুত ওজিল ছিলেন আর্সেনালের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা।
একটা সময় মেসুত ওজিল ছিলেন আর্সেনালের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা। ছবি: টুইটার

সে এক সময় ছিল, জার্মানির মাঝমাঠের প্রাণভোমরা ছিলেন তিনি। প্রাণভোমরা ছিলেন আর্সেনালের মাঝমাঠেরও। সেই মেসুত ওজিলেরই এখন কোথাও কোনো জায়গা নেই! জার্মানির দল থেকে আগেই বাদ পড়েছেন। সেই অভিমানে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে একপ্রকার বিদায়ই বলে দিয়েছেন। আর এখন তো আর্সেনালেও ব্রাত্য এক নাম ওজিল। ইউরোপা লিগ বা প্রিমিয়ার লিগ—কোনো জায়গাতেই আর্সেনালের কোচ মিকেল আরতেতার দলে নেই তিনি! এতে ওজিলেরই দায় দেখছেন আর্সেনালের সাবেক স্ট্রাইকার কেভিন ক্যাম্পবেল। ওজিলের ওপর তিনি এতটাই চটেছেন যে তাঁর নামটা পর্যন্ত মুখে আনতে চান না!

জার্মানি দলে ওজিলের সমস্যার শুরু ২০১৮ বিশ্বকাপের ঠিক আগে। তুর্কি বংশোদ্ভূত জার্মান ফুটবলার ওজিল। জন্ম এক মুসলিম পরিবারে। তুরস্কে কখনো না থাকলেও দেশটি তাঁর মনের মধ্যে সব সময়ই ছিল। তাই তো তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ানের স্পর্শে ছিলেন ওজিল। সেটা নিয়ে বিশেষ কোনো মাথাব্যথা ছিল না জার্মানির ফুটবল কর্তাদের। কিন্তু বিশ্বকাপের আগে বিতর্কিত রাজনীতিক এরদোয়ানের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে আর্সেনালের জার্সি উপহার দেওয়াটা একটু বাড়াবাড়িই মনে হয়েছে জার্মানির।

বিজ্ঞাপন

বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। ওজিলের বিষয়টি ভালো লাগেনি জার্মানির ফুটবল কর্মকর্তাদেরও। বিশ্বকাপে তাঁকে যেন একঘরে করেই রাখা হয়েছিল। খুব বেশি ম্যাচে খেলানোও হয়নি। বিশ্বকাপের পর তো দল থেকেই বাদ পড়েছেন। সরাসরি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর কথা এরপর ওজিল বলেননি। কিন্তু আর কখনো হয়তো জার্মানির হয়ে খেলা হবে না তাঁর।

জার্মানি দলে ঠাঁই না পেলেও আর্সেনালের মাঝমাঠের মধ্যমণিই ছিলেন তিনি। কিন্তু চীনের উইঘুরের মুসলমানদের নিয়ে টুইটারে কথা বলার পর এখানেও সমস্যায় পড়েন ওজিল। কোচ আরতেতা তাঁকে ঘিরেই সব পরিকল্পনা সাজাচ্ছিলেন। কিন্তু উইঘুর বিতর্কের পর তাঁকে আর স্কোয়াডে রাখা হয়নি। নতুন মৌসুমে ইউরোপা লিগ ও প্রিমিয়ার লিগের স্কোয়াড থেকেও বাদ দেন। এর পেছনে ফুটবলীয় কারণ দেখাতে চাইলেও খুব একটা যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না অনেকে। আরতেতার ৩২ বছর বয়সী ওজিলকে এভাবে ব্রাত্য করে রাখা নিয়ে অনেকেই ভ্রু কুঁচকেছেন। কিন্তু ওজিল নন, আরতেতার পক্ষেই কথা বলেছেন ক্যাম্পবেল।

default-image

ওজিল না থাকায় আর্সেনালের মাঝমাঠে সৃজনশীলতার কোনো অভাব দেখা দিচ্ছে কি না—এমন এক প্রশ্নের উত্তরে ক্যাম্পবেল বলেছেন, ‘সৃজনশীলতার কোনো অভাব আর্সেনালে দেখা যাচ্ছে না। এ নিয়ে তাদের ধুঁকতেও হচ্ছে না। এর চেয়ে বড় কথা হচ্ছে, আমি ওই লোকটার (ওজিল) নামও মুখে আনতে চাই না।’ ইউরোপা লিগে প্রথম দুটি ম্যাচ জিতলেও লিগে খুব একটা ভালো অবস্থায় নেই আর্সেনাল। ৬ ম্যাচের তিনটিতে হেরেছে। বাকি তিন ম্যাচ জিতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ১১ নম্বরে আছে তারা।

বিজ্ঞাপন
default-image

মাঝমাঠে যদি ওজিলের অভাব না-ই থাকবে তাহলে লিগে এমন অবস্থা কেন আর্সেনালের? এই প্রশ্নের উত্তরে ক্যাম্পবেল বলেছেন, ‘গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারে এমন অনেক খেলোয়াড়ই দলে আছে। আসলে এই মুহূর্তে তারা খুব একটা ছন্দে নেই।’ এই মুহূর্তে ওজিলকে ফিরিয়ে আনার পক্ষেও নন ক্যাম্পবেল, ‘এ মৌসুমে যারা বাতিলের খাতায় পড়ে গেছে তাদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই। এখন যেহেতু দল ভালো খেলছে না, ওর নাম তাই বেশি বেশি আসছে। আমি তাই এটা বিশ্বাস করছি না (ওজিলকে দরকার আর্সেনালের)।’

আগামীকাল ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাঠে খেলতে নামবে আর্সেনাল। তখনই টের পাওয়া যাবে, ওজিলের মতো খেলোয়াড়ের প্রয়োজন কিনা আর্সেনালের।

মন্তব্য পড়ুন 0